
লালমনিরহাটে সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ছয়টার সময় কালীবাড়ি এলএসডি গোডাউনের সামনে পাকা রাস্তার ওপর মুদি দোকানের নিচে কে বা কারা এক দিন বয়সী একটি নবজাতক মেয়ে বাচ্চাকে রেখে যায়। বিষয়টি জানার পর লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাৎক্ষনিকভাবে মোবাইল টিমের এসআই মো. রফিকুল ইসলাম ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখান থেকে নবজাতককে উদ্ধার করে লালমিনরহাট সদর হাসপাতালে নবজাতক ওর্য়াডে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান।
গত ৮ দিন যাবত লালমনিরহাট থানার নারী পুলিশ সদস্য হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন নবজাতক শিশুকে নিরাপত্তার পাশাপাশি মায়ের স্নেহে সেবা যত্ন করেন।
উক্ত বিষয়ে এসআই মো. রফিকুল ইসলাম থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করলে লালমনিরহাট থানায় একটি মামলা রুজু হয়।
আদালতের আদেশ মোতাবেক উক্ত নবজাতকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সুপার লালমনিরহাটের উদ্যোগে ‘শিশুমনি নিবাস’ রাজশাহীতে প্রেরণ করা হয়েছে।
কিন্তু এই কদিনে বাচ্চাটির মায়ায় পড়ে গিয়েছেন লালমনিরহাটের এসপি আবিদা সুলতানা। তিনি বলেন, সুন্দর ফুটফুটে একটা বাচ্চা। তাকে দেখে ভালো না বেসে উপায় নেই। ওর মা বাবা ফেলে দিয়েছে বলেই হয়তো ওর প্রতি মানুষের এতো ভালবাসা। প্রায় গোটা পঞ্চাশেক পরিবার ওকে নিতে চেয়েছে। নিজের সন্তানের মতো লালন পালন করার জন্য। কিন্তু কাউকে দেয়ার কিংবা রাখার সুযোগ আমাদের নেই। তাই আজ ওকে পাঠাতে হলো রাজশাহীতে।
তিনি আরও বলেন, গত প্রায় দশদিন ধরে আমার নারী পুলিশেরা পালা করে চব্বিশ ঘণ্টা তাকে অসীম মমতায় তাকে লালন পালন করেছে। বাচ্চাটির প্রতি সবারই মায়া জন্মেছে। ওরা কেউ বাচ্চাটিকে ছাড়তে চাচ্ছে না। আমি নিজেই বাচ্চাটিকে একদিন দেখেই মায়ায় পড়ে গিয়েছি।