প্রকাশিত: ১৪/১২/২০১৭ ৯:২৭ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৯:৩৮ এএম

ফারুক আহম,  উখিয়া নিউজ ডটকম::

উখিয়ার মরিচ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছারিতা নিয়ে প্রশাসনের তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি।  বৃহস্পতিবার দুপুরে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নিকারুজ্জামান বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করে সংরক্ষিত লেজার সহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রাদি জদ্ধ করেছে। গতকালকে তড়িগড়ি করে ডাকা পরিচালনা কমিটির সভাও পন্ড হয়ে গেছে। এ নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলের মাঝে নানা মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মরিচ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিদর্শন ও তাৎক্ষনিক হানা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রাদি জব্দের ঘটনা একাধিক শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা সত্যতা শিকার করলেও প্রথমে প্রধান শিক্ষক অস্বীকার করে এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনিও ঘটনার সত্যতা শিকার করেন।

জানা যায়, মরিচ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি’র আর্থিক লেনদেন, আয়-ব্যায়ের গড়মিল সহ নানা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি নিয়ে পরিচালনা কমিটির অপারপর সদস্য এবং অভিভাবকদের মধ্যে বাঁধপ্রতিবাদ চলে আসছিল।

প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছারিতা ও অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহ চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত একাধিক অভিযোগ দায়ের করে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, মোটা অংকের টাকার বিনিময় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সংবাদপত্রে একাধিক রিপোর্ট ছাপা হয়। অতিসম্প্রীতি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে এসে শিক্ষকের হাজিরা খাতা জব্দ সহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাগজপত্রাদি সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।

অভিভাবকগণ জানান, গত ১১ ডিসেম্বর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম নির্বাচনের ২ দিনের মাথায় তড়িগড়ি করে অর্থাৎ সভা আহ্বান করে বৃহস্পতিবারে ।

নবনির্বাচিত সদস্য মির্জা জহির সাংবাদিকদের জানান, সরকারী নিয়ম কে অমান্য করে নিয়ম বহিভূত ভাবে প্রধান শিক্ষক তাড়াহুড়া করে যে সভাটি আহ্বান করেছে তা খুবই দু:খজনক। এধরনের অবৈধ সভায় কেউ উপস্থিত না থাকায় সভাপতি আপনা-আপনি ভাবে পন্ড হয়ে যায়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি জায়েজ করার জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি এ সভাটি আহ্বান করলেও তিনি পার পাননি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নিকারুজ্জামান মরিচ্যা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি বিদ্যালয়ের আয়-ব্যায়ের হিসাব লেজার, সভার রেজুলেশন খাতা সহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জব্দ করে অফিসে নিয়ে আসেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম প্রথমেই এড়িয়ে গেলেও অপর প্রশ্নের জবাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যালয়ের স্টেটমেন্ট ইউএনও স্যার সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে। আজকের সভা (গতকাল) হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনিবার্য্য কারণ বসত হয়নি তা আগামী ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা নুরুল হক আনছারী অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের লক্ষ লক্ষ টাকা তছরুপ করেছে। পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে শিক্ষামন্ত্রী সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক গঠিত টিম তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পাঠকের মতামত

 

দুর্গম পাহাড়ি পথে বাংলাদেশে আসছেন রোহিঙ্গারা

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত পথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি ...

ইষ্ট বেকারের জ্যাম-ফিল্ড ব্রেডে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিক্রি বন্ধের নির্দেশ

মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানের তিন ধরনের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের ...

আর্জেন্টিনার জয়োল্লাসের ভিডিও করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জয়ে আনন্দ মিছিলের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে নেত্রকোনায় একটি ভবনের ছাদে ...