প্রকাশিত: ০৩/০৩/২০২২ ৯:৩৭ এএম

বিদেশ থেকে ৩০ বছরের পুরনো জাহাজ ভাড়া করে এনে চালানো হচ্ছে চট্টগ্রাম-সেন্ট মার্টিন নৌ-পথে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নৌযান পরিচালনার জন্য সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তবে অনুমোদন নেয়ার ক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করে বিলাসবহুল প্রমোদতরী ঘোষণা দিয়ে যাত্রী পরিবহনের কাজ চালাচ্ছে বে-ওয়ান ক্রুজের কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড। সম্প্রতি সেন্ট মার্টিনে যাত্রী পরিবহনকালে জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার এক সপ্তাহ না পেরোতেই ফের পর্যটক পরিবহন শুরু করেছে চট্টগ্রাম-সেন্ট মার্টিন রুটের বিলাসবহুল বে-ওয়ান ক্রুজ।

জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে সেন্ট মার্টিন যাওয়ার পথে কুতুবদিয়ার কাছাকাছি পৌঁছলে রাত ৩টার দিকে বে-ওয়ানের ইঞ্জিন রুমে আগুন লেগে যায়। পরদিন ভোরে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ধারকারী জাহাজ গিয়ে বে-ওয়ানকে চট্টগ্রামে ফেরত নিয়ে আসে।

জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নৌ-বাণিজ্য দপ্তর এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তিন সদস্যের ওই কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে জাহাজের ইঞ্জিন রুমের কেবলগুলো শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বে-ওয়ান ক্রুজ জাহাজটির আইএমও নম্বর-৯০৫৪০৮০। এটি প্রায় ৩০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯২ সালে জাপানে নির্মিত হয়। কমোরসের পতাকাবাহী জাহাজটি ২০২০ সালের শেষ দিকে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটে যাত্রী পরিবহনের জন্য সময়সূচি ও রুট পারমিট নেয়া হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে ওই রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করে। ২০২১ সালের ১৪ জানুয়ারি থেকে বে-ওয়ান জাহাজটি চট্টগ্রাম থেকে সেন্ট মার্টিনে যাত্রী পরিবহন শুরু করে। এজন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে কোনো অনুমোদন নেয়নি।

২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি বিআইডব্লিউটিএ উপপরিচালক (বন্দর ও পরিবহন বিভাগ) নয়ন শীল এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে একটি চিঠি দেন। বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক, নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগকে দেয়া ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বে-ওয়ান জাহাজটির গভীরতা বেশি হওয়ার কারণে সেন্ট মার্টিন জেটিতে বার্থিং করতে পারে না। এ কারণে বিআইডব্লিউটিসির নিয়ন্ত্রণাধীন জাহাজ এমভি আবদুল মতিনের (সি-২১৭) মাধ্যমে যাত্রীদের জেটিতে ওঠানামা করাতে হয়। এ কারণে নৌ-যানগুলোর বিরুদ্ধে আইএসও-১৯৭৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। যদিও এখন পর্যন্ত বে-ওয়ান ক্রুজের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপে যায়নি বিআইডব্লিউটিএ।

এ বিষয়ে নৌ-বাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, বে-ওয়ান ক্রুজ ঢাকার ডিজি শিপিংয়ের দপ্তর থেকে অনুমোদন নিয়ে নৌ-পথে যাত্রী পরিবহন করছে। নৌ-বাণিজ্য দপ্তর জাহাজটির ফিটনেসের বিষয়টি তদারকি করে। দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিদেশী পতাকাবাহী জাহাজটির অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো দেখা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদ এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের পর যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে যাত্রী পরিবহন করতে পারে না। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, দপ্তর থেকে ত্রুটি চিহ্নিত করে এরপর ছাড়পত্র দেয়া উচিত।

বে-ওয়ান ক্রুজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ রশিদ বণিক বার্তাকে বলেন, সমুদ্রে জাহাজ চলাচলে বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। আমরা ডিজি শিপিং থেকে অনুমতি নিয়ে পর্যটক পরিবহন করছি। গত সপ্তাহের জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টিও অতটা বড় নয় বলে দাবি করেন তিনি। সুত্র: বণিক বার্তা

পাঠকের মতামত

টেকনাফে মাদক গডফাদারদের ১৮২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ক্রোকের প্রক্রিয়া,তালিকায় আছে যারা

মাদক কারবারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া ১১৬ জন গডফাদারের ১৮২ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের ...

১৫ আগস্ট ঘিরে খিচুড়ি রান্নার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুই ভাই গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ সহ-সভাপতি সোহেল রানা পবন ...
Single Page Footer