প্রকাশিত: ১৫/০৪/২০১৮ ৯:৩৮ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৪:০৯ এএম

ডেস্ক নিউজ : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিতর্কিত এমপিদের বাদ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে যারা বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন বা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তাদেরকে বাদ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

 

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই মুহুর্তে দলের ভেতরের কোন্দলকে দলের জন্য তারা বড় সমস্যা বলে মনে করছেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানোর অনেক উদ্যোগ নিয়েও কোনো কাজ হয়নি। উল্টো দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অনেক নেতা, এমপি, মন্ত্রী অবস্থান নিয়েছেন। আর এ কারণেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী নির্বাচনে এরা দলের মনোনয়ন পাবেন না। এই বিতর্কিতদের তালিকা তৈরি কাজ চলছে।

 

গত ৩১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। ওই সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিতর্কিতদের ব্যপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

 

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ওই নেতারা আরও জানান, বিগত সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে দলের অনেক এমপি, এমনকি মন্ত্রীরাও দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন। এদের কেউ কেউ অভ্যন্তরীণ কোন্দল, গ্রুপিং সৃষ্টি করে নিজেদের পছন্দমতো প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন। আবার অনেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। শুধু মন্ত্রী-এমপিরাই নন, দলের অনেক দায়িত্বশীল নেতাও এমন কাজ করেছেন। এর ফলে অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। এতে দল দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

এদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি ওই সভায় বলেন, যারা নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন তারা আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাবেন না। আমার হাত দিয়ে ভবিষ্যতে কখনও তারা নৌকার মনোনয়ন পাবেন না।

 

এদিকে এই বিতর্কিতদের তালিকা তৈরি এবং এদের ব্যাপারে তথ্য দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য কাজী জাফরউল্লাহকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে দলের চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন। এই কমিটি এরই মধ্যেই কার্যক্রম শুরু করেছে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ বিভাগের তথ্য সংগ্রহ করছেন। এরই মধ্যে এই কমিটির তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কমিটির প্রধান কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিতর্কিতদের ব্যাপারে দলের সভাপতি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। আমরা সাংগঠনিক সম্পাদকদের মাধ্যমে বিভাগীয় পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করছি। তারা দ্রুতই কমিটিতে তথ্য জমা দেবেন। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে নেত্রীর কাছে জমা দেবো।

 

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন বলেন, আমরা জেলা-উপজেলা পর্যায়ে খোঁজ খবর নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। দ্রুতই আমরা তথ্য সংগ্রহ করে কমিটির কাছে দেব। কমিটি থেকে এটা দলীয় প্রধানের কাছে চলে যাবে।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ...

নবম পে স্কেলের বাইরে যারা

সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কয়েক শ্রেণির কর্মচারী ও শ্রমিক নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আসছেন না। ...

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গত আগস্টে আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ...
Single Page Footer