ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৯/০৪/২০২৬ ৯:০৭ এএম , আপডেট: ২৯/০৪/২০২৬ ৯:০৭ এএম
বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী

পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে অসংখ্য রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় এক দশক হয়ে গেল। বর্তমানে সেই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সিলেট-৬ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরীর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) ১৩ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি এই সংখ্যার কথা জানান।

বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ১৯৭৮ সালে আগত ২ লাখ রোহিঙ্গার পুনর্বাসন সম্পন্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এবং ১৯৯২ সালে আগত ২ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে ২ লাখ ৩৬ হাজার জনকে প্রত্যাবাসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সফল নেতৃত্ব ছিল।

তিনি বলেন, ‘একই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ চলমান রয়েছে।’

ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে বহুমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রেখে এই সংকটের টেকসই সমাধান খোঁজা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়াগুলোতে নৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলায়।’

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। লিখিত ও মৌখিক শুনানি সম্পন্ন হয়েছে এবং কয়েকটি দেশ এতে অংশ নিয়েছে। শিগগিরই রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি জানান, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার পক্ষ না হলেও ওআইসি’র মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং আর্থিকসহ বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করছে এবং মিয়ানমারের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা চাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশ এ তদন্তে প্রমাণসহ পূর্ণ সহযোগিতা করছে। এছাড়া জাতিসংঘ-প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থাকেও বাংলাদেশ সহায়তা করছে, যা গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, আর্জেন্টিনায় দায়ের করা একটি মামলায় মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানাও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের স্পষ্ট অবস্থান হলো— রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।’

তিনি আরও জানান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত এবং টেকসই শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে

পাঠকের মতামত

 

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

টেকনাফ সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি হওয়ায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা দেখা ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ...

ইয়াবা চালানের নেপথ্যে বক্তার মেম্বার, মুখ খোলায় রোহিঙ্গা পরিবারকে খু-নের হুমকি!

মুসলিম উদ্দিন • কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদক চোরাচালানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণকারী, বালুখালীর প্রভাবশালী ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও হোস্ট কমিউনিটির ২ লাখ ২০ হাজার শিশুর জন্য ব্র্যাকের নতুন উদ্যোগ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা ৩ কোটিরও ...

এসএসসি বা এইচএসসি পাস প্রার্থীদের জন্য HEKS/EPER-এ চাকরির সুযোগ

HEKS/EPER নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা HEKS/EPER কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ...