ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ০৬/০৫/২০২৩ ৯:১৫ এএম

বাংলাদেশকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় অর্থনৈতিক করিডর চালু করতে চায় চীন ও মিয়ানমার। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিন কাং গত মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডো সফরকালে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

থান সুয়েকে উদ্ধৃত করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সুরক্ষায় মিয়ানমার চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। মিয়ানমার-চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণে মিয়ানমার চীন ও বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আশাবাদী।

মিয়ানমারের জান্তা প্রধান অং মিন হ্লাইংয়ের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিন কাংয়ের আলাদা বৈঠকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এসেছে। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ছিন কাং বলেছেন যে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো সমাধান এবং সম্পর্কোন্নয়নকে চীন সমর্থন করে। চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যাবহারিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে চীন দুই দেশের সঙ্গে (বাংলাদেশ ও মিয়ানমার) কাজ করতে প্রস্তুত।’

প্রস্তাবিত মিয়ানমার-চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর কোন সীমান্ত দিয়ে যুক্ত হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা ও বৈঠক হয়েছে। চীনের স্টেট কাউন্সিলের তথ্য দপ্তরের ওয়েবসাইটে ২০২০ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)’ আওতায় যে ছয়টি অর্থনৈতিক করিডরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বিসিআইএম সেগুলোর অন্যতম।

২০২০ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের মিয়ানমার সফরে মূলত চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। চীনের মূল বিআরআই উদ্যোগের মধ্যে ওই করিডর ছিল না। এটি ছিল ২০১৩ সালে প্রিমিয়ার লি খোয়াছিয়াং প্রস্তাবিত বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডরের একটি অংশ। ভারত-চীন সম্পর্কে উত্তেজনা দেখা দেওয়ার পর এর দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। এমন প্রেক্ষাপটে ২০১৭ সালে তৎকালীন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব দেন।

চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরের আওতায় প্রাথমিকভাবে ৯টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। সেগুলো মিয়ানমারের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পগুলোর অবস্থান মিয়ানমারের মানচিত্রে একটি ইংরেজি অক্ষর ওয়াই এর উল্টো আকৃতির। চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্ত ক্রসিং মিউজ থেকে এর শুরু। এটি দক্ষিণে মান্দালয় পর্যন্ত গিয়ে দুটি শাখায় বিভক্ত। এর একটি গেছে দক্ষিণে বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের দিকে, অন্যটি দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কিয়াউকফিউয়ের দিকে। ওই প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন সীমান্ত বাণিজ্য অঞ্চল, একাধিক নতুন শিল্প অঞ্চল, একটি গভীর সমুদ্রবন্দর এবং কিয়াউকফিউতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) আধুনিকায়ন, ইয়াঙ্গুনের পশ্চিমে ১০ লাখেরও বেশি লোকের জন্য নতুন শহর নির্মাণ এবং নতুন রেল ও মহাসড়কের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পের সংযোগ স্থাপন অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় রাখাইন রাজ্যে চীনের অর্থায়নে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনার বিষয় আলোচনায় এসেছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে অস্থিরতার মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের পাশাপাশি চীনকেও মধ্যস্থতার অনুরোধ জানিয়েছে। চীনের উদ্যোগে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে কয়েক দফা ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রাখাইন রাজ্যে চীনের বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক সংযোগ পরিকল্পনা নিরাপদ ও সফল করতে হলে ওই অঞ্চলকে স্থিতিশীল করতে হবে। এ কারণে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে একটি পাইলট প্রকল্প নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল রাখাইন রাজ্য ঘুরে এসেছে। সুত্র: কালের কন্ঠ

পাঠকের মতামত

স্বাভাবিক পথে সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে খাদ্যপণ্য, টেকনাফে ফিরছে যাত্রী

অবশেষে স্বাভাবিক হচ্ছে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে নৌযান চলাচল। দীর্ঘ ৩৩ দিন পর টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে যাতায়াত করছে ...