ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ৩১/০১/২০২৬ ৬:৫৯ পিএম
সেন্টমার্টিন জেডিঘাট/ ছবি – ওবাইদুল হক চৌধুরী

পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আগামীকাল রোববার থেকে টানা নয় মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ থাকছে। শনিবার চলতি মৌসুমের শেষ দিনে শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপে যাতায়াত করছে। নতুন কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনগামী কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।

এই সিদ্ধান্তে দ্বীপের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও পরিবহন খাতের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে নতুন করে জীবিকা সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাধারণত প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক ভ্রমণের অনুমতি থাকে। তবে চলতি মৌসুমে সরকার সময়সীমা কমিয়ে নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করে। এছাড়া নভেম্বর মাসজুড়ে দ্বীপে পর্যটকদের রাতযাপন নিষিদ্ধ ছিল। এতে ভরা মৌসুমেও প্রত্যাশিত আয় করতে পারেননি বলে দাবি স্থানীয়দের।

১ লাখ ২০ হাজার পর্যটক, তবু আয় হয়নি;

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার পর্যটক করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন। তবে কড়াকড়ি বিধিনিষেধ ও বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে স্থানীয় পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা লাভ তো দূরের কথা, লোকসানে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন জানান, শনিবার শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ সব যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করবে। রোববার থেকে আর কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লোকসানে ব্যবসায়ী, দুশ্চিন্তায় শ্রমজীবীরা;

সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান বলেন, “এবার অধিকাংশ ব্যবসায়ী লাভের বদলে লোকসানে পড়েছেন। অনেকেই সময়মতো দেনা পরিশোধ করতে পারেননি। পর্যটক বন্ধ হলে দ্বীপবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, “দ্বীপের প্রায় সব মানুষ পর্যটনখাতের সঙ্গে যুক্ত। হঠাৎ ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবার মধ্যে হতাশা কাজ করছে। সময়টা আর একটু বাড়ানো গেলে আগামী নয় মাস পার করা সহজ হতো।”

রিকশাচালক নুর আজিম বলেন, “রিকশা কেনার জন্য ঋণ করেছি। কিন্তু দুই মাসে টাকা তুলতে পারিনি। এখন পর্যটক বন্ধ, ঋণের টাকা শোধ করব কীভাবে এই চিন্তাই সবচেয়ে বড়।”

কটেজ ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, জাহাজ কর্তৃপক্ষ ও বাইরের কিছু বিনিয়োগকারীর সিন্ডিকেটের কারণে স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর ওপর সরকারি বিধিনিষেধে চাপ আরও বেড়েছে।

সময় বাড়ানোর দাবি;

দ্বীপের ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটনখাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজারো মানুষ জড়িত। মানবিক দিক বিবেচনায় অন্তত আরও কয়েক মাস, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কড়াকড়ি নির্দেশনা বহাল;

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেন্ট মার্টিনে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না।

সৈকতে মোটরসাইকেল ও সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। পর্যটকদের পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন না করার পাশাপাশি নিজস্ব পানির ফ্লাক্স সঙ্গে রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি দ্বীপবাসীর জীবিকা রক্ষায় কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

পাঠকের মতামত

‎বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে জিবনের বিচ্ছেদ হলো উখিয়ার রুবিনার

‎চার বছরের সংসার উখিয়ার রাজাপালং এর হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা রুবিনা আক্তারের (৪০)।পারিবারিক কলহসহ নানান কারণে ...
Single Page Footer