প্রকাশিত: ২৫/০১/২০১৮ ৭:০৭ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৭:৩৮ এএম

ডেস্ক রিপোর্ট ::
প্রাণভয়েই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে চায় না বলে জানিয়েছে আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ান্স ফর হিউম্যান রাইটসের একটি প্রতিনিধিদল।

বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তারা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং মিশনে চার দিনের সফরে ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশে এসেছেন প্রতিনিধিদলটি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নিরাপদ পরিবেশ না পেলে রোহিঙ্গারা ফেরত যাবে না। ফেরত পাঠানোর আগে তাই তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সর্বোপরি রোহিঙ্গাদের মানবিক মর্যাদা ও নাগরিকত্ব দিয়ে ফেরত দিতে হবে। তবে সবার আগে মিয়ানমারে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘের শান্তিবাহিনী নিয়োগ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে জাতিগত নিধনযজ্ঞ ও অব্যাহত অত্যাচার নির্যাতনের মুখে অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এমন নিদারুণ মানবিক সংকটকালে বাংলাদেশ নিজের অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন, যে নৃশংস নিধনযজ্ঞ চলেছে তা নজিরবিহীন। রোহিঙ্গা-সমস্যাটি এককথায় বহুমাত্রিক। শরণার্থী সমস্যার পাশাপাশি মানব পাচারসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এ কারণে। রোহিঙ্গা সমস্যাটি এখন শুধু মিয়ানমারের নয়, এটি গোটা আসিয়ান অঞ্চলের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানব পাচার থেকে শুরু করে নিরাপত্তা-হুমকির সমস্যাসহ নানা সমস্যা আশপাশের সব এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

মিয়ানমার সেনাকে জবাবদিহির মধ্য আনতে হবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, রাখাইন অঞ্চলে মিয়ানমার বাহিনীকে নিরস্ত্র করতে হবে। মিয়ানমারের যে তিন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা এ হত্যাযজ্ঞে জড়িত, সবাই তাদের চেনে। তাদের অপরাধ যুদ্ধাপরাধ। এজন্য তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

মালয়েশিয়ার সংসদ সদস্য চার্লিস সান্তিয়াগো বলেন, প্রতিবেশী দেশে এমন নির্মম কাজ হতে পারে তা কেউ ভাবতে পারে না। বর্মী সেনারা ১২ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। এটি একটি অসুস্থতার লক্ষণ। বাংলাদেশ লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সিঙ্গাপুরের সংসদ সদস্য লুইস এনজি বলেন, প্রতিটি রোহিঙ্গার জীবনের মূল্য আছে। আসিয়ানভুক্ত সব রাষ্ট্রকেই বাংলাদেশের মতো করে ভাবতে হবে, ভূমিকা নিতে হবে।

থাইল্যান্ডের সাবেক সংসদ সদস্য রাচাডা ধানাডিরেক বলেন, আমাকে রোহিঙ্গারা বলেছে বর্মী (মিয়ানমারের) আর্মি তাদের স্বজনদের হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছে। বাংলাদেশে পালিয়ে এসে তারা এখন নিরাপদে আছে।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইউএনএইচসিআরকে সহায়তা করবে ফ্রান্স

বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ...
Single Page Footer