
কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদের শাখা খালে বাঁধ দিয়ে ঘের করে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল হুদার বিরুদ্ধে। নুরুল হুদা টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকারও অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের তালিকায় টেকনাফের ইয়াবা কারবারিদের মধ্যে তাঁর নাম রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১০২ জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এর মধ্যে নুরুল হুদা মেম্বারও ছিলেন। কয়েক মাস আগে কারাগার থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, মুক্তি পাওয়ার পর নাফ নদের প্যারাবন কেটে মাটির বাঁধ দিয়ে ঘের তৈরি করে মাছ চাষ শুরু করছেন নুরুল হুদা। নাফ নদের শাখা হ্নীলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোছনী খাল থেকে লেদা খাল পর্যন্ত বাঁধ দিয়ে পানি আটকে দেওয়া হয়েছে। ওই বাঁধের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে মাছের খাবারসহ চাষের সরঞ্জাম রাখার খুপরি ঘর।
স্থানীয় জেলে রফিক মাঝি বলেন, ‘বছরের শুরুতে সীমান্ত সড়কের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড মাটি কাটে। পরে এটি চিংড়ির ঘেরে পরিণত হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) টাকা দিয়ে এটি দখল করে ফেলেন। আমরা এখন এই চিংড়ি ঘের দিয়ে চলাফেরা করতে পারি না।’
তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্ত সড়কসংলগ্ন নদের জমি দখলে নিয়ে করা মাছের ঘেরের আশপাশে কেউ গেলেই মারধর করা হয়।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, ‘নাফ নদের লেদা এলাকায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নুরুল হুদা একটি মাছের ঘের করেছেন বলে শুনেছি।’
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে একজন ইয়াবা কারবারির পরিবেশ-প্রতিবেশের বিপর্যয় ঘটিয়ে মাছের ঘের তৈরি করার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তিনি অবিলম্বে নাফ নদের তীর রক্ষার আহ্বান জানান।
তবে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদ দখলের বিষয়টি তাদের জানা নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফ আহমেদ গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘নাফ নদের তীরের বেড়িবাঁধটি নির্মাণের পর আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে ঠিকাদারের বিল দিয়েছি। তখন কিন্তু কোনো মাছের ঘের দেখিনি।’
ওই প্রকৌশলী জানান, ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নাফ নদের তীরের ৬০ কিলোমিটার লম্বা সীমান্ত সড়ক (বেড়িবাঁধ) নির্মাণ করা হয়েছে। নদ লাগোয়া জমিতে সড়ক করা হয়েছে। সড়কের বাইরে তেমন বেশি জমিও বাকি নেই।
তিনি বলেন, সড়কের ভেতরে ও বাইরের অংশে বাঁধ দিয়ে ঘের করা হলে বাঁধের ক্ষতি হবে। এ কারণে সড়কটি (বাঁধটি) সরেজমিন গিয়ে দেখার জন্য লোক পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নুরুল হুদা মাছের ঘেরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘সীমান্ত সড়ক নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার মাটি নেওয়ার পর ঘেরের জমি আমাকে দিয়ে গেছেন। তাই আমি ঘেরটা দেখাশোনা করছি।’
তিনি বলেন, ঘেরের জমি ইজারা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে তদবির করছেন। ইজারা পেলেই তিনি সেখানে পুরোদমে চিংড়ি পোনা ফেলে চাষ শুরু করবেন।
ইউপি সদস্য নুরুল হুদা আরো বলেন, সীমান্ত সড়কের এক পাশে তাঁর নিজস্ব ১৫ একর জমি রয়েছে। সেখানেও তিনি একটি ঘের করছেন।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী বলেছেন, এই মুহূর্তে জমি ইজারা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সুত্র: কালের কন্ঠ

পাঠকের মতামত