প্রকাশিত: ১৪/১২/২০১৭ ৮:২৯ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৯:৪০ এএম

হুমায়ুন কবির জুশান , উখিয়া::
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই মাসে তাজা প্রাণের বিনিময়ে আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারীদের রক্তের প্রতীক বহন করে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। বিজয়ের মাসে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়ির ছাদে, বড় গাড়ির সামনে, মোটর সাইকেলের সামনে এমনকি গ্রামাঞ্চলে বাইসাইকেলের সামনেও জাতীয় পতাকা ওড়ান অনেকেই। এ জন্যই বিজয়ের মাস এলেই জাতীয় পতাকার চাহিদা বেড়ে যায়। উখিয়া উপজেলা সদর, কোটবাজার, মরিচ্যা বাজার, সোনারপাড়া বাজার, বালুখালী বাজার, থাইংখালী বাজারসহ কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ঘুরে ঘুরে জাতীয় পতাকা বিক্রি করছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যবসায়ী হিসেবে নয়। উখিয়া উপজেলার প্রতিটি মানুষের মাঝে বিজয়ের চেতনা জাগাতে বিজয়ের এ মাসে পতাকা বিক্রি করতে নেমেছেন শহিদুল। তার ধারণা অন্তত: একটি মাসজুড়ে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার মধ্যে দুটি মানুষকে মহান বিজয় দিবসের চেতনা জাগাতে পারলেও নিজেকে স্বার্থক মনে হবে। উখিয়া সদর ষ্টেশনে পতাকা বিক্রির সময় শহিদুল জানায়, পেশায় সে একজন রংমিস্ত্রি। ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলায় তার বাড়ি। গত ৪ বছর ধরে বিজয়ের মাস এলেই সে নিজের পেশা ছেড়ে দিয়ে লম্বা বাঁশের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বড় থেকে ছোট আকারের পতাকা সাজিয়ে পতাকা বিক্রি করতে করতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের উখিয়ায় এসে পৌঁছান। শহিদুল আরও বলেন, শুধুমাত্র অল্প লাভেই বিক্রি করছে সে ছোট ও বড় পতাকা। সেই সাথে বিক্রি করছে হাতে ও মাথায় বাধার মতো লাল সবুজ ব্যাচ। মূল্য কম থাকায় তার নিকট থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণির মানুষই এমনকি রোহিঙ্গা শিশুরাও পতাকা কিনতে দেখা গেছে। পতাকা ক্রেতা উখিয়া বঙ্গমাতা মহিলা কলেজের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী শারমীন আক্তার জানান, সে তার ছোট ভাই ও বোনের মাথায় বাধার জন্য দুটি ব্যাচ কিনেছেন। কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণির ছাত্র সুমন জানায়, ড়িসেম্বরের সারা মাসে বাইসাইকেলের সামনে বেধে রাখার জন্য ১ টি ছোট পতাকা কিনেছি। বন্ধুদের সাথে স্কুলে যাওয়ার সময় বিজয়ের মাসের সৌন্দর্য হিসেবে এই পতাকা সাইকেলের সামনে লাগাবে বলে সে মত প্রকাশ করে। রোহিঙ্গা শিশু নুর কায়েদা জানায়, এদেশে আসতে পেরে আমরা খুশি। এদেশের পতাকা মাথায় লাগালে দেখতে সুন্দর দেখায়। তাই মাকে বলে আমি ১ টি পতাকা কিনে নিয়েছি। মা আমাকে এটা বেধে দিয়েছেন।

পাঠকের মতামত

ইয়াবা কারবার, অপহরণ ও আধিপত্য বিস্তারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আতঙ্কে উখিয়া-টেকনাফ

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সংঘবদ্ধ অপরাধ, সশস্ত্র তৎপরতা ও অপহরণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের ...

টেকনাফের ‘জাফর চেয়ারম্যান’ দুনীর্তির দায়ে ৭ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদকে সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ...

অপহরণ-সন্ত্রাসে জনশূন্য জুম্মাপাড়া, আতঙ্কে ঘরছাড়া ২০০ পরিবার

রহমত উল্লাহ • কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে অপহরণ আতঙ্ক বিরাজ ...

কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণের উদ্যোগে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু

কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ...
Single Page Footer