
কক্সবাজার পৌরসভাধীন কলাতলি লাইট হাউজ এলাকাস্থ দারুল উলুম লাইট হাউস মাদ্রাসার পরিচালনা, মার্কেট ও মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিতে একটি পক্ষ আবারও ষড়যনত্র করছে বলে জানা গেছে। মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষের অভিযোগ, ইয়াছিন হাবিব ও তাঁর অনুসারীরা মাদ্রাসা ও জামে মসজিদে অবৈধ দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আলির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
জানা যায়, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত দারুল উলুম লাইট হাউস মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও দ্বীনি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০১৬ সালে বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা মোহাম্মদ আলী (হাফিজাহুল্লাহ)-কে মজলিসে শুরা প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের দায়িত্ব দেয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর মাওলানা মুহাম্মদ আলি প্রতিষ্ঠানটির প্রভুত উন্নতি সাধন করেন। ২০১৮ সালে তৎকালীন শুরা সদস্য মাওলানা হাচ্ছান মুহাম্মদ দিদার ও ইয়াছিন হাবিব মাদ্রসার দেকানের সালামি আত্মসাৎ করলে পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ আলী এর প্রতিবাদ করেন।উক্ত টাকা আদায় করার জন্য বেশ কয়েকবার শুরার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয়।আত্মসাৎ কৃত টাকা ফেরত না দেয়ার লক্ষ্যে পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আলির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ এনে অপসারণের চেষ্টা করা হলে তিনি ২০১৯ সালে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত ষড়যন্ত্রকারিদের বিরুদ্ধে এবং মাওলানা মুহাম্মদ আলির পক্ষে ঐতিহাসিক রায় দেন এবং তাকে মুহতামিম হিসেবে বহাল রাখেন।কিন্তু ষড়যন্ত্র কারিরা এতেও থেমে যাননি।বরং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চমহলের ইশারায় তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। এভাবে প্রায় দেড় বছর মাদ্রাসাটি জোর পূর্বক দখল করে রাখে। প্রায় দেড় বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মাননীয় আদালতের নিকট উক্ত ফৌজদারি মামলা মিথ্যা ও ভুঁয়া প্রমানিত হওয়ার তিনি বেকসুর খালাস পান এবং উক্ত মামলা খারিজ করে দেন।অতপর তিনি এলাকাবাসি মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক এর জোর আবেদনে পুনরায় সসম্মানে পরিচালক পদে বহাল হন।
বেশ কয়েকজন এলাকাবাসির ভাষ্য অনুযায়ী, পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের পর মাওলানা মোহাম্মদ আলীর তত্ত্বাবধানে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদ অত্যাধুনিক জামে মসজিদ,দ্বিতল বিশিষ্ট ছাত্রাবাস নির্মাণ সহ নানাবিধ উন্নয়ন কার্যক্রম করেন।২০১৬ সালে মাদ্রাসা মার্কেটের দোকানগুলো ৫ বছর মেয়াদে ভাড়া প্রদান করা হয়েছিল। ২০২১ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এলাকার অপরাপর মার্কেটের দোকান সমুহের সাথে সামন্জশ্য রেখে সালামি ও ভাড়া বৃদ্ধি করে চুক্তি নবায়ন করতে বললে বিভিন্ন টালবাহানা দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে।এ ভাবে চুক্তি ছাড়া ৫ বছর দোকান ভোগদখলে রাখে এবং বিগত দেড় বছরযাবত দোকান ভাড়া বকেয়া রাখে।মাওলানা ইয়াছিন অপরাপর ভাড়াটিয়াদেরকেও ভাড়া দিতে নিষেধ করে।মাদ্রাসার অভ্যন্তরে কয়েকজন শিক্ষক মুহতামিম এর পদ দখল করার হীন মানসে ইয়াছিন হাবিবের সাথে হাত মিলিয়ে তার এসব অন্যায় অপকর্মের সহযোগিতা করতে থাকে। মাদ্রাসার
দোকার গুলো অবৈধভাবে দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ দখলের জন্য মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে গঠিত কথিত ওয়াকফ কমিটির দোহাই দিয়ে মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষক মাওলানা মিসবাহ উদ্দীন,মাওলানা নুরুল মুস্তফা ও মাওলানা হাফিজুদ্দীন মসজিদ মাদ্রাসা ও মার্কেট অন্যায়ভাবে ভোগ দখলের চেষ্টা করতে থাকে। পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আলি সাহেব বলেন লাইট হাউজ মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ্বয় সরকারি গনফূর্ত বিভাগের জমির উপর প্রতিষ্ঠিত।জনৈক দাতা রশিদ আহমদের ১৯৯৪ সালে দান করা একটির জমির দলিল আমাদের কাছে থাকলেও অদ্যাবধি সেই জমির হদিস পাওযা যায়নি।দনপত্রে উল্লেখিত দাগ বর্তমান মাদ্রাসা থেকে ৬০০/৭০০ ফুট দুরে। জনৈক রশিদ আহমদ এর দানপত্র দেখিয়ে জনগন ও ধর্শীয় দানশীল ব্যক্তিদের দানে পরিচালিত মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ কথিত ওযাকফ কমিটির এখতিযারাধীন নয়।মাওলানা মোহাম্মদ আলীর আরো বলেন মাওলানা ইয়াসিন হাবিবগং মসজিদ নির্মানে যে ভিযোগ এনেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।পরিচালনা কমিটি কর্তৃক নিযুক্ত চার সদস্য বিশিষ্ট অডিট কমিটির অডিট রিপোর্টে কোন অনিয়ম প্রমাণিত হয়নি।বিগত ৭/২/২৬ ইং অনুষ্ঠিত মজলিসে শুরার সভায় উক্ত অডিট রিপোর্ট এর ভিত্তিতে মাওলানা মুহাম্মদ আলিকে অভযোগ থরকে মুক্ত ঘোষনা করেন।অভিযোগ কারিরা তাও না মেনে মাদ্রাসা দখলের পঁয়তারা করতে থাকলে এক পর্যায়ে এলাকার মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গ বিষযটি নিস্পত্তি করনের লক্ষ্যে একটি সমাথান কমিটি গঠণ করে।উক্ত কমিটি ঢাকা থেকে চাটার্ড একাউন্ট তলব করে তাদের মাধ্যমে নিরপেক্ষ অডিট করান। উক্ত অডিট রিপোর্টে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।কিন্তু এর পরও অভিযোগ কারিদের ষড়যন্ত্র থামেনি।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, টিটিএন এর একটি ভিডিও বার্তায় মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি অন্য একজনকে নির্বাহী পরিচালক ঘোষণা করা হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য, বর্তমান পরিচালক দায়িত্বে বহাল থাকা অবস্থায় এবং শুরা কমিটির অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের নির্বাহী কমিটি বা নির্বাহী পরিচালক ঘোষণা বৈধ নয়।বর্তমানে মাদ্রাসার দায়িত্ব মাওলানা মোহাম্মদ আলীর হাতে থাকলেও মার্কেটের ওয়াকফ কমিটির দোহাই দিয়ে ভাড়ার টাকা নিজেরাই ভোগ কনতেছে।নামে মাত্র সালামি ও ভাড়ার বিনিময়ে দোকানের চুক্তি নবায়ন করছে বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে।

পাঠকের মতামত