প্রকাশিত: ১২/০৮/২০২২ ৮:০১ এএম

সাগরের উচ্চ জোয়ারের আঘাতে কক্সবাজার সৈকতে তীব্র ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে ঢেউয়ের আঘাতে ভেঙ্গে গেছে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেল্প ডেস্ক বক্স। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে পড়েছে সৈকতপাড়ের ৫ শতাধিক দোকান। আর ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা বলছেন, ভাঙ্গন রোধে কাজ শুরু হয়েছে।
সাগর উত্তাল, উচ্চ জোয়ারে একের পর এক ঢেউ আঘাত করছে উপকূলের বালিয়াড়িতে। একই সঙ্গে ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে গেলো ট্যুরিস্ট পুলিশের বক্স। আর ভেঙ্গে যাচ্ছে বালিয়াড়ি এবং তলিয়ে যাচ্ছে জিও ব্যাগও।
কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত অব্যাহত রয়েছে। যার প্রভাবে জোয়ার আসলেই ঢেউয়ের আঘাতে তছনছ হচ্ছে সৈকতের লাবনী পয়েন্ট। একই সঙ্গে উচ্চ জোয়ার আসলেই আতংকের থাকেন সৈকতপাড়ের দোকানিরা।

লাইফ গার্ড কর্মী রশিদ বলেন, বুধবারের চেয়ে বৃহস্পতিবার ভাঙন তীব্র হয়েছে। উচ্চ জোয়ারের সময় বৃহস্পতিবার সকালে ভেঙ্গে যায় ট্যুরিস্ট পুলিশের বক্সটি। একই সঙ্গে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে জিও ব্যাগও। এবছরই সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে।
লাবনী পয়েন্টের বিচ মার্কেটের ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন বলেন, আমাদের বিচ মার্কেটের ২ শতাধিকের বেশি আচার, শুটকি ও বার্মিজ পণ্যের দোকান রয়েছে। এখন সবগুলো দোকান ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যেকোন মুহুর্তে ঢেউয়ের আঘাত আসবে এই ভয়ে রয়েছি।
প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে সাগরের আগ্রাসন বাড়ছে। তবে এবছর এর মাত্রা আরও বেড়েছে। তাই সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা করে টেকসই বাঁধ দেয়ার দাবি জানালেন পরিবেশবাদিরা।
বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দিপু বলেন, ভাঙ্গনে তীব্রতা প্রতিবছরই বাড়ছে। কিন্তু সেভাবে সৈকতের পাড় বা ঝাউবিথী রক্ষা করা যাচ্ছে না। তাই দ্রুত সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা করে টেকসই বাঁধ দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে সৈকত ভাঙন পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, তীব্র ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ১০০ মিটার জিওব্যাগ দিয়ে বাঁধ দেয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে পরিকল্পনা করে টেকসই বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহিদ ইকবাল বলেন, এবছর ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে। তাই প্রাথমিকভাবে কিছু কাজ করা হচ্ছে। আর সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কি করা যেতে পারে তা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
গেলো ২৪ ঘন্টায় কক্সবাজারে ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপকূলে নোঙ্গর করেছে ৫ হাজার নৌযান

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছে চিকিৎসক-নার্স

কক্সবাজারের কক্স ন্যাশনাল হসপিটালে প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ...

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে ১৫ হাজার সাবান

কক্সবাজারের উখিয়ার থাইংখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-২০) একটি কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার সাবান উৎপাদিত হচ্ছে। ...

ইনানীতে অগ্নিকান্ড : ১০ মরদেহ শনাক্ত হলেও এখনো নিখোঁজ শিক্ষিকা

অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর স্বজনদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী রিসোর্টে অবস্থানকারী পর্যটকদের মধ্যে নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন মোট ...

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই হিমছড়িতে ইকো রিসোর্টের নামে হোটেল নির্মাণ

পর্যটকের ঢল আছে, কিন্তু নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেই– দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের চিত্র অনেকটা ...

ইনানীতে বাৎসরিক এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

কক্সবাজারের ইনানীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত বাৎসরিক এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ...