প্রকাশিত: ২৮/১২/২০১৭ ৬:০০ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৮:৫২ এএম

রিয়াজুল হাসান খোকন(বাহারছড়া) :
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপকূলীয় এলাকায় হঠাৎ করে সাধারণ মানুষের কাছে দেখা দিয়েছে ডাকাত আতংক, তারা এতদিন ডাকাতি প্রবণ এলাকা রাস্তা দিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে নির্বিগ্নে চলাফেরা করলেও হঠাৎ করে এই বছরের শেষ মাসে ডাকাত দল ঐ সব এলাকাতে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে দূর্ধর্ষ ডাকাতি করার ফলে এই এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে এক ধরণের বেড়েছে ডাকাত আতংক। তার মধ্যে গত ১২ ডিসেম্বর সন্ধা সাড়ে ছয়টার সময় টেকনাফ হোয়াইক্যং ঢালার ভিতর হয় দূর্ধর্ষ ডাকাতি, ভোক্তভোগীরা জানান ঐ দিন হঠাৎ একদল ডাকাত দল প্রথমে ডাকাতি করা দুইটি সি,এন,জি গাড়ি রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে প্রায় দেড় ঘন্টা যাবত বার থেকে পনেরটি গাড়ি ডাকাতি করে ঐ ডাকাত দল। এই সময় অনেক মানুষের মূল্যবান জিনিসপত্র, স্বর্ণলংকার, মোবাইল, টাকা পয়সা সহ সব কিছু কেড়ে নেয় ডাকাত দল, পরে ডাকাতির খবর পেয়ে স্থানীয় টেকনাফ বাহারছড়ার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাঞ্চন কান্তির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঢালার ভিতর ডাকাতি হওয়া স্থানে অভিযানে গেলে তখন ফাঁড়ির সামনে ডাকাত দলের থাকা গোপ্তচরের বিশেষ ফোনে হঠাৎ ডাকাত দল পাহাড়ের ভিতর পালিয়ে যায় বলে ভোক্তভোগীরা জানান। তখন থেকে এই হোয়াইক্যং ঢালার রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ চলাফেরা করতে অনেকটা ভয় পাচ্ছে। পুলিশ পাহারা ছাড়া সহজে কেউ যাচ্ছেনা এই রাস্তা দিয়ে। অন্যদিকে তার কিছু দিনপর টেকনাফ কক্সবাজার মহাসড়কে রাস্তায় নারকেল গাছের গুঁড়ি ফেলে একদল ডাকাত হ্নীলা নামক স্থানে দূর্ধর্ষ ডাকাতি করে, এই সময় ডাকাতদল পর্যটকবাহী বাস সহ দশ থেকে পনেরটি গাড়ি ডাকাতি করে, এসময় ডাকাতের খপ্পরে পড়া পর্যটক সহ স্থানীয় যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করে নেয় ডাকাতদল, তখন বিক্ষুদ্ধ জনতা ও মটর শ্রমকিরা প্রায় তিন ঘন্টা এই ডাকাতির প্রতিবাদে মহসড়ক অবরোধ করে রাখে, তারপর ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে ডাকাতদের গ্রেফতার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে শান্ত করে। অন্যদিকে সারা বছর এই এলাকা দিয়ে নির্বিগ্নে সাধারণ মানুষ যাতায়াত করলেও, হঠাৎ এই দূর্ধর্ষ ডাকাতির কারনে রীতিমত আতংকে সাধারণ মানুষ। এর কারণ হিসেবে উপকূলীয় সচেতন মহল মনে করেন উখিয়া টেকনাফে হঠাৎ জনসংখ্যার চাপ, এবং স্থানীয় নাম করা কয়েকজন ডাকাত দলের সর্দার জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে, মুলত তাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন জায়গা থেকে ডাকাত দলের সদস্য সংগ্রহ করে তারা নতুন ভাবে ডাকাতি করে যাচ্ছে। তার জন্য প্রশাসনকে অবশ্যই তৎপর হতে হবে, ডাকাতরা নিরাপত্তার জন্য ফোনের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে, তাই প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এসব ডাকাতদের ধরা অনেকটা সম্ভব বলে মনে করেন সচেতন মহল। এই ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দীন খান বলেন টেকনাফে কয়েকটি জায়গায় যে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক, আর এই ডাকাতির সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আশা করি আমরা শ্রীঘ্রই তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হব।

পাঠকের মতামত

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...