
হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া ::
করোনাকালে উখিয়া থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত সতর্কবার্তা এবং মাঠ পর্যায়ে কাজ করার ফলে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য হয়েছিল। আর এখন চায়ের দোকান, বাজার-ঘাট ও জনসমাগমস্থলে কারো কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর থেকে পুলিশ প্রশাসন কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ায় সব ক্ষেত্রে অস্থিরতা দিন দিন বাড়ছে। হোটেল রেস্তোরা ব্যবসায়ী জাহেদুল আলম বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এপ্রিল মাস থেকে রেস্তোরাগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে পুরোদমে হোটেল রেস্তোরাগুলো চালু করা হয়েছে। গণপরিবহনও আগের মতো চলছে। হাট-বাজারগুলোতে স্বাভাবিক নিয়মে বেচা-কেনা হচ্ছে। মানুষ যেন মনে করছে করোনা নেই। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে শুরু করেছে জনগন। আধার যেন কেটে গেছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, রেস্তোরায়, বাজার ও গণপরিবহনসহ সব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে কিনা। বাজার, রেস্তোরা ও গণপরিবহন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উখিয়ার কোথাও এখন স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য নতুন করে বেশ-নিয়ম-কানুন তৈরি করা হয়েছে। যার নাম হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য (রেস্তোরা) প্রবিধানমালা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রেস্তোরা সম্পর্কিত হোটেল রেস্তোরায় খাচ্ছেন কি? উখিয়ার বেশির ভাগ হোটল রেস্তোরার রান্নাঘর নোংরা। নোংরা পরিবেশেই রান্না তৈরি হচ্ছে। রান্না করা খাবারে অনেক সময় ঢাকনা থাকে না। ফলে এর সংস্পর্শে আসছে বিভিন্ন ধরনের কীঁটপতঙ্গ। অনেক সময় খাবারে তেলাপোকা পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি রয়েছে তৈজসপত্রে নানা ধরনের ময়লা। এ ছাড়া রয়েছে খাদ্যকর্মীদের নিজেদের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে উদাসীনতা। উখিয়ার রেস্তোরাগুলোতে সুপেয় পানির অভাব রয়েছে। তবে এ অভাব দূর করতে ভোক্তাদের সামনে বোতলজাত পানি এনে দেওয়া হয়। যার মূল্য ভোক্তাকে দিতে হয়। কজনই বা টাকা দিয়ে বোতলজাত পানি পান করেন। নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ বিধান অনুযায়ী কোনো রেস্তোঁরা বা খাদ্য ব্যবসায়ী উপযুক্ত লাইসেন্সিং বা রেজিট্রেশন এজেন্সি ছাড়া রেস্তোঁরা পরিচালনা করতে পারবে না। লাইসেন্সটি খাদ্য পরিবেশন এলাকায় প্রকাশ্য স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু উখিয়ায় তার ব্যত্যয় ঘটছে। লাইসেন্স ছাড়াই অনেকে রেস্তোঁরা পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হোটেল রেস্তোঁরা ও বেকারি সমুহে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা করা আছে কিনা, যেখানে ভোক্তারা বসে খাবে সেখানে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন তো থাকতেই হবে। এর সঙ্গে স্যানিটাইজিং ও জীবাণুমুক্তকরণের ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সবজি ও মাছ বাজারে কারো স্বাস্থ্যবিধি মানার গরজ নেই। যে যার মতন করে চলছে।

পাঠকের মতামত