কক্সবাজারের উখিয়ায় প্রাণিসম্পদ সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধে এক দিনব্যাপী বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রয়োগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ধইল্যাঘোনা এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে মোট ৫২৫টি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিকে টিকা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আনন্দ’ (ANANDO)-এর উদ্যোগে এবং ‘লিচটব্রুক’ (Lichtbrücke) ও ‘বিএমজেড’ (BMZ)-এর অর্থায়নে পরিচালিত “পিসফুল কো-এক্সিস্টেন্স অ্যান্ড স্ট্রেন্থেনিং দ্য ক্যাপাসিটিজ অব হোস্টিং কমিউনিটিজ থ্রু ইম্প্রুভমেন্ট অব লাইভলিহুডস” প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ছৈয়দ হোসেন। আনন্দের জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি কর্মকর্তা ডা. সুমন পালের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুল কাশেম, প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা প্লাবন কুমার, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং হোস্ট কমিউনিটির খামারি ও প্রাণিসম্পদ মালিকেরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. ছৈয়দ হোসেন বলেন, “গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান ও কৃমিনাশক প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। সঠিক সময়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিলে পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি খামারিদের আর্থিক ক্ষতি বহুলাংশে কমে আসবে।” পশু-পাখি অসুস্থ হলে দ্রুত প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ নিতে খামারিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে ১২০টি গরু, ১৪০টি ছাগল, ১৮০টি মুরগি ও ৮৫টি হাঁসসহ মোট ৫২৫টি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিকে টিকা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি খামারিদের মধ্যে বিনামূল্যে কৃমিনাশক ট্যাবলেট বিতরণ এবং পশু পরিচর্যা ও চিকিৎসার জন্য বিনামূল্যে প্রেসক্রিপশন ও বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটির পরিবারগুলোর জীবিকা জোরদার ও আয় বৃদ্ধিতে সহায়তার অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বিনামূল্যে টিকা, ওষুধ ও পরামর্শ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় খামারিরা।