প্রকাশিত: ২৭/০২/২০১৯ ৫:৩৯ পিএম

নিউজ ডেস্ক::
আরো একবার বিশ্বসেরা এনজিও’র স্বীকৃতি পেলো বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। আজ বুধবার বিশ্বের সেরা ৫০০ এনজিও’র তালিকা প্রকাশ করে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা ভিত্তিক স্বাধীন গণমাধ্যম সংস্থা ‘এনজিও অ্যাডভাইজার’।

২০১১ সাল থেকে ‘টপ ফাইভ হান্ড্রেড এনজিওস অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামে এই র‌্যাংকিং করে আসছে এনজিও অ্যাডভাইজার। সংঘাত ও দুর্যোগপূর্ণ জায়গায় সাশ্রয়ী ও কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের জন্য বিশ্বনন্দিত সংস্থা ব্র্যাক টানা চতুর্থবার এবং সব মিলিয়ে পঞ্চমবারের মতো এই স্বীকৃতি পেল।

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে ব্র্যাক আবারো প্রথম স্থান অধিকার করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এজন্য আমাদের সহকর্মী, অংশীদার ও সহযোগীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমাদের সকলের ঐকান্তিক নিষ্ঠা ও ধারাবাহিক কাজের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

এই র‌্যাংকিং-এর বিবেচ্য বিষয় মূলত ৩টি: ইনোভেশন, ইমপ্যাক্ট এবং সাসটেইনেবিলিটি। অর্থাৎ, যেসব সংগঠনের উদ্ভাবনী কর্মসূচি বা উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে টেকসই এবং সুদূরপ্রাসারী প্রভাব রেখেছে, তাদেরই এই র‌্যাংকিং-এ বিবেচনা করা হয়।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ডা. মুহাম্মাদ মুসা বলেন, এই মর্যাদা বিশ্বজুড়ে ব্র্যাক পরিবারের সকল সদস্যের অর্জন। আমাদের মূল শক্তি হচ্ছে তারা, যাদের নিয়ে আমরা ৪৭ বছর ধরে কাজ করছি। সেইসঙ্গে স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক যেসব সংস্থা আমাদের সহযোগী, এই অর্জন তাদেরও। অগ্রগতির সুফল যতদিন না প্রতিটি মানুষ সমভাবে ভোগ করবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলবে।

পঞ্চমবারের মতো এক নম্বর এনজিও হওয়ার পেছনে যেসব বিষয় কাজ করেছে তার একটি হলো বিশ্বের ৪৩টি দেশে বিভিন্ন মাত্রায় বাস্তবায়িত ব্র্যাকের কর্মসূচি ও উদ্যোগগুলোর সাফল্য। এ ছাড়াও এনজিও অ্যাডভাইজার-এর বিবেচনায় ছিলো সরকার এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক কার্যক্রমে ব্র্যাকের উল্লেখযোগ্য উন্নতি, বিশেষত রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় সম্প্রতি উন্নয়ন এবং মানবিক সংস্থাগুলোর যে একটি নতুন জোট গঠিত হয়েছে সেখানে ব্র্যাকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিশ্বজুড়ে দাতা গোষ্ঠীগুলোর সংকোচন নীতি সত্ত্বেও ব্র্যাক যে নিজস্ব আর্থিক মডেলের বিস্তার ঘটিয়েছে, সে বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছে।

ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, বিশ্বজুড়ে বৈষম্যের শিকার ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করছে ব্র্যাক। যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানেই আমাদের কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

এই তালিকার জন্য আর্থিক উপাত্ত, মানবসম্পদ, প্রশাসন ও বিপণনের তথ্য-উপাত্ত মূল্যায়ন করা হয়। স্থানীয়, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যেকোনো অলাভজনক জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানকেই বিবেচনা করে এনজিও অ্যাডভাইজার। ২০১৯ সালের তালিকায় ব্র্যাকের পরে ক্রমানুসারে রয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস, ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিল, ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন এবং মার্সি কোর।

পাঠকের মতামত

গুতেরেসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যুতে জোর

জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ইস্যু, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং বৈশ্বিক শান্তি ও ...

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফারোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সময়োপযোগী প্রস্তাবনা : শাহজাহান চৌধুরী

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিপুল উপস্থিতির কারণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে জনজীবনে নানা ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ...

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে তারেক রহমানের ৫ প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ...

নবম পে স্কেলের বাইরে যারা

সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কয়েক শ্রেণির কর্মচারী ও শ্রমিক নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আসছেন না। ...