প্রকাশিত: ২২/০৪/২০১৮ ১০:২৭ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৩:৫০ এএম


সূত্র জানায়, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বন্ডগুলোর মেয়াদ হতে পারে ১০ থেকে ১৫ বছর। ১০ বছর মেয়াদি বন্ড ছাড়া হলে অবসরপ্রাপ্তদের ৬৯ এবং ১৫ বছর মেয়াদি বন্ড ৭৪ বছর বয়স পর্যন্ত আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

পাশাপাশি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সবার জন্য এক বিনিয়োগসীমা নির্ধারণের কথা বলা হচ্ছে। এছাড়া পৃথকভাবে নয়, অবসরপ্রাপ্তদের সার্বিক আয়ের ওপর কর আরোপের কথাও বলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গেল সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে এগুলোসহ মোট পাঁচটি সুপারিশ পাঠিয়ে বিবেচনার জন্য বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সুপারিশগুলো পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী বাজেট নির্বাচনী হওয়ায় এ পদক্ষেপগুলোর প্রতিফলন থাকতে পারে।

জানা গেছে, আগামী বাজেট হবে বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ বাজেট। তাই নির্বাচনী বাজেটে জনহিতকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বেশি। সরকারি এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের এ বাজেটে বিশেষভাবে ফোকাস করা হচ্ছে। দেওয়া হতে পারে নানা সুবিধা। এরই ধারাবাহিকতায় গেল সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এসেছে একগুচ্ছ সুপারিশ। ড. মসিউরের করা এসব সুপারিশে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের নানা সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময় পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব সময় শর্ত রাখা হয়েছে যে, অবসরকালে যে পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া যাবে তাই হবে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা। সরকারি কর্মচারীরা বিভিন্ন সময় অবসরে গেছেন, নগদ অর্থের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে একাধিক বিনিয়োগের সর্বোচ্চ কার্যকর সীমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার জীবনের মান অভিন্ন ধরে নিলে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সীমা সবার জন্য এক হওয়া প্রয়োজন। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগতভাবে অর্জিত অন্য সম্পদ এ বিবেচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সুযোগ কাম্য নয়। চৌকস কর্মকর্তা-কর্মচারী সঞ্চয়পত্রের তুলনায় অধিক লাভজনক বিনিয়োগ করার বুদ্ধি ও যোগ্যতা রাখেন।

অর্থমন্ত্রীকে পাঠানো সুপারিশে পেনশন সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আয়কর আরোপযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, ভবিষ্যৎ তহবিলে জমা অর্থ এবং পেনশনের কম্যুটেশনের (অথবা ক্যাপিটালাইজেশন) অর্থ অবসরকালীন এককালীন নগদ অর্থে যুক্ত হয়। সাধারণ বা বাধ্যতামূলক ভবিষ্যৎ তহবিলে জমা অর্থের ওপর সরকার যে সুদ দেয় তা তহবিলে জমা হতে থাকে এবং অবসরকালে কর্র্মকর্তা-কর্মচারী সব সুদ পান।

ভবিষ্যৎ তহবিল থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ আছে, পরিশোধিত অর্থ তহবিলে জমা হয়। চাকরিকালে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে জমা অর্থ নিজস্ব অর্থায়নে সৃষ্ট নিরাপত্তা আয় বিবেচনা করলে এ সঞ্চয় স্থানান্তরযোগ্য করা সঙ্গত। সরকার যে হারে সুদ বা মুনাফা দিত, পেনশন সঞ্চয়পত্রের সুদ বা মুনাফা তার ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে পারে। চাকরিকালে বেতন-ভাতা আয়কর আরোপযোগ্য। তাই পেনশন সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আয়কর আরোপযোগ্য থাকবে। বিনিয়োগকারীর অন্য আয় বা মুনাফার সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট আয় অনুসারে প্রযোজ্য কর হার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে চিঠিতে।

অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বন্ড ছাড়ার সুপারিশ করে এতে বলা হয়, পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিক্রয়লব্ধ অর্থ ঘাটতি বাজেটের অর্থ সংস্থান উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়, যা অত্যন্ত সংকীর্ণ (এবং সম্ভবত যুক্তিবিবর্জিত)। পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা অবসরকালীন আয়ের উসৎ এবং জীবন ধারণের মান সংরক্ষণের সহায়ক। দীর্ঘমেয়াদি ইন্সট্রুমেন্টে ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার ১০ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি বন্ড বিক্রি করতে পারে। বন্ডের বিনিয়োগ থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত আয় পাবেন। সুদ বা মুনাফার হার নির্দিষ্ট হতে পারে। বিকল্পে সুদ বা মুনাফার ন্যূনতম নির্দিষ্ট হারের সঙ্গে মূল্যস্ফীতি যোগ করে সার্বিক মুনাফার হার নির্ধারণ করা যেতে পারে। অধিকাংশ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্দিষ্ট হার পছন্দ করবেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ...

নবম পে স্কেলের বাইরে যারা

সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কয়েক শ্রেণির কর্মচারী ও শ্রমিক নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আসছেন না। ...

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গত আগস্টে আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ...
Single Page Footer