প্রকাশিত: ১৭/১১/২০১৭ ৮:৪৮ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১১:০০ এএম

মো. রেজাউল করিম, ঈদগাঁও::
রোহিঙ্গা বিরোধী জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ঈদগাঁওতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ঋণ দানের সহায়তার অভিযোগে একটি এনজিওর ঋণ কর্মকর্তাকে এক সপ্তাহের কারাদন্ড ও ১৩ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করা হয়েছে। জালালাবাদের ১নং ওয়ার্ড সওদাগর পাড়ায় ১৬ নভেম্বর রাতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনামতে এ অভিযান চালানো হয়েছে। অন্য স্থানেও তা অব্যাহত থাকবে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং ভাড়া বাসা না দিতে ইতোমধ্যে গণ বিজ্ঞপ্তি জারী হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা স্থানীয়দের আশ্রয়-প্রশ্রয় পেলে এদেশ একসময় ফিলিস্তিনে পরিণত হবে। তাদের অভ্যাস ভাল নয়। তাই এ ব্যাপারে বাড়ির মালিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সজাগ থাকতে হবে। তার মতে সরকার উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গাদের জন্য বিশাল শরণার্থী ক্যাম্প তৈরি করেছে। যেখানে নতুন ও পুরনো রোহিঙ্গা পাওয়া যাবে তাদেরকে ধরে সোজা সেখানে পাঠিয়ে দিতে হবে। শরণার্থী শিবির ছাড়া অন্য কোথাও রোহিঙ্গাদের রাখার কোন সুযোগ নেই। এসময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এহেছান মুরাদ উপস্থিত ছিলেন। অভিযানকারীরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাজার সংলগ্ন জালালাবাদ সওদাগর পাড়ায় অভিযান চালিয়ে ১৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্র হেফাজতে দেন। তদন্ত কেন্দ্রের পক্ষে ২য় কর্মকর্তা দেবাশীষ সরকার তাদের বুঝে নেন। ইউএনও এ পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেন, উর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে রোহিঙ্গাদের বালুখালীতে পাঠাতে হবে। অভিযানের সময় স্থানীয়ভাবে কর্মরত ‘এসডিআই’ নামক এনজিওর ঋণ কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলামকে রোহিঙ্গাদের ঋণ দানে সহায়তার অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এক সপ্তাহের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। রোহিঙ্গা মহিলাদের মধ্যে একজনের বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয়পত্র দেখা গেছে। এতে তার নাম আনোয়ারা আক্তার পিতার নাম নুরুল আমিন মাতার নাম ছখিনা খাতুন উল্লেখ রয়েছে। তার ঠিকানা হচ্ছে চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার সারুয়ারতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ করলডেঙ্গা। তবে এ পরিচয়পত্রটি ভুঁয়া বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযান শেষে স্থানীয় হাইস্কুল মাঠে ইউএনও এবং সংশ্লিষ্টদের অবস্থানকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান ২ সোহেল জাহান চৌধুরী, ঈদগাঁও চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম, জালালাবাদ এমইউপি মোক্তার আহমদ, ইসলামাবাদ এমইউপি সাইফুল ইসলাম, জালালাবাদ আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক এম. মমতাজুল ইসলাম রিয়াজ, ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্র এএসআই মহি উদ্দীন, এএসআই নছিম উদ্দীন, ব্যাটালিয়ন আনসার, ঈদগাঁও ও জালালাবাদ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় সংবাদকর্মী ও বিপুল সংখ্যক উৎসাহী লোকজন।

পাঠকের মতামত

নিজের সম্মানির টাকা মেধাবী শিক্ষার্থীকে দিলেন নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকারিয়া নিজের প্রাপ্ত সম্মানির টাকা আর্থিক অনুদান হিসেবে প্রদান করলেন ...