প্রকাশিত: ১৭/০৫/২০১৭ ৬:০৫ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৬:০৫ পিএম

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মধ্যে মিলমিশ হয়ে গেছে। মাত্র দুদিনের ব্যবধানে তাদের দুজনকে পাশাপাশি একই মঞ্চে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে।

রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৩৬ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় দুজনকে একই মঞ্চে পাশাপাশি বসে আলাপ করতে দেখা যায়।

এর আগে গত সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী নেতা সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বাহাসে জড়িয়ে পড়েন। বৈঠকের এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে কথা ওঠে। ওই সময় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দলের কিছু নেতা প্রকাশ্যে দলের নেতাকর্মীদের সমালোচনা করছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষু্ণ্ন হচ্ছে। জনগণের কাছে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করা হচ্ছে। দলের সমালোচনার জন্য দলীয় ফোরাম আছে, সেখানে কথা বলা যেতে পারে। প্রকাশ্য জনসভায় দলের দায়িত্বশীল নেতা হয়ে সমালোচনা মানায় না।’

ওই সময় মন্ত্রিসভায় উপস্থিত বেশ কয়েকজন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যকে সমর্থন করেন। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আশরাফের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেন।

সৈয়দ আশরাফ তার বক্তব্যে কারও নাম উল্লেখ না করলেও সবাই বুঝতে পারছিলেন তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশেই কথাগুলো বলছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশ্যে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য রাখেন তিনি। চট্টগ্রামের এক সভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে টাকা পয়সা নিয়ে পালাতে হবে। এর আগে আওয়ামী লীগে কাউয়া ও হাইব্রিডের অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলেও বক্তব্য রাখেন তিনি।

সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যের পর ওবায়দুল কাদের কথা বলা শুরু করেন। তিনি বলেন, এখন দলে অনেক গতি এসেছে। দল চাঙ্গা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সবখানেই প্রাণচাঞ্চল্য এসেছে। আগে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তারা ঘুমিয়ে থাকতেন, দলও ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদককে সমর্থন করে বলেন, আগের চেয়ে দলের এখন গতি এসেছে এটা সত্যি।

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের বিষয়ে মন্ত্রিসভার ওই সদস্যরা বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীও তার বক্তব্যে সৈয়দ আশরাফের নাম উল্লেখ করেননি। টানা দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে সৈয়দ আশরাফের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ ছিল ঘুরেফিরে শোনা যেত তিনি দলে বেশি সময় দেন না। নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করেন না এবং দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন।

দলের শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে পরস্পরবিরোধী কথাবার্তায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনেকটা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে থামিয়ে দিয়ে কথা বলা শুরু করেন। শুধু তাই নয়, মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সৈয়দ আশরাফ ও ওবায়দুল কাদেরকে কাছে ডেকে একান্তে কিছু কথাও বলেন। তবে ওইসময় তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে সেটি জানা যায়নি।

সুত্র: পূর্বপশ্চিম

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, এর সমাপ্তিও হতে হবে সেখানেই: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখানেই হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক ...

জাতিসংঘে আলোচনা নয়, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তার তাগিদ

জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে সমাধান আসবে না, মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূতদের। ...

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে যৌথ বাহিনী নামানো হতে পারে

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনবে বলে প্রত্যাশা বাংলাদেশের। সম্প্রতি বিবিসি ওয়ার্ল্ড ...