প্রকাশিত: ০৬/০৯/২০১৭ ৭:৩৬ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ২:০০ পিএম

মোয়াজ্জেমুল হক/এইচএম এরশাদ ॥ রাখাইন রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা নিধনে মিয়ানমার সরকার বিস্ময়করভাবে এখনও চাপমুক্ত। ফলে গণহারে রোহিঙ্গা হত্যার সঙ্গে অনুপ্রবেশে সৃষ্টি হয়েছে গণজোয়ার। এর জের হিসেবেই অসহায় ও হতদরিদ্র রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের মানবিক আচরণের সিদ্ধান্তে ল-ভ- হয়ে গেছে টেকনাফ থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যন্ত ১৩৪ কিলোমিটারব্যাপী সীমান্ত এলাকার প্রহরাসহ সার্বিক পরিবেশ। পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ যে, রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে প্রশাসন এখন সহায়তায় নেমেছে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত বেসরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে গত ২৫ আগস্ট সে দেশে যৌথ বাহিনীর নারকীয় তা-বলীলা ও হত্যাযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর থেকে। সরকার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশের সংখ্যা নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে জলে-স্থলে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে, সীমান্ত এলাকাজুড়ে সে দেশের বিজিপির (বর্ডার গার্ড পুলিশ) পুতে রাখা স্থলমাইনের ঘন ঘন বিস্ফোরণ ঘটছে গত দুদিন ধরে। এতে বেসরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রাণ হারিয়েছে ৬০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা নরনারী ও শিশু। এছাড়া মাইন বিস্ফোরণে হাত পা উড়ে যাওয়ায় ৩ রোহিঙ্গা নরনারী মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। এ বিষয়ে সীমান্তের ওপার থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, যে সব রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে এবং যারা এখনও জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছে, তারা যাতে ফিরে যাওয়ার সাহস না পায় সেজন্যই স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গত দু’দিনে ভর্তি হয়েছে আরও ৭ জন। কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে আহত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা অগণন। মঙ্গলবার সর্বশেষ উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকালে আড়াই হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা নরনারী ও শিশুকে পুশব্যাক করেছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড।

এদিকে, রাখাইন রাজ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আর আজ বুধবার আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মিয়ানমারের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে মালদ্বীপ। এছাড়া ভাসমান রোহিঙ্গাদের উদ্ধারে দ্য মাইগ্রেট অফশোর স্টেশন (মোয়াস) মাল্টা থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে মিয়ানমারের জলসীমায় আসার ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থার উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ফিনিক্স’ এক সপ্তাহের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, স্বস্তি পরিষদসহ কোন পক্ষের উদ্যোগে এখনও পর্যন্ত রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে আন্তর্জাতিক কোন সম্মেলন আহ্বানের তথ্য মেলেনি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে শিক্তিধর বিভিন্ন রাষ্ট্রের পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমার সরকারকে দফায় দফায় সংযত আচরণের মাধ্যমে সমস্যা নিরসনের অনুরোধ জানানো হয়েছেন। কিন্তু সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমার সরকার এক্ষেত্রে যেন অনড় মনোভাব নিয়েই তাদের তা-বলীলা অব্যাহত রেখেছে। পরিস্থিতি এমন যে, বছরের পর বছর ধরে ফিলিস্তিনীদের ওপর যে বর্বরতা চলমান রয়েছে সে ঘটনাবলীকেও হার মানাচ্ছে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর তা-বলীলা। রোহিঙ্গারা সে দেশের বংশ পরম্পরায় নাগরিক হয়েও মিয়ানমার সরকার তা মানছে না। বহু আগে কেড়ে নেয়া হয়েছে তাদের নাগরিকত্ব। এখন নতুন সুরে বলছে তারা বাঙালী সন্ত্রাসী জঙ্গী। যুগের পর যুগ সামরিক শাসনে থাকার পর বর্তমানে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর আউং সান সুচির নেতৃত্বাধীন এনএলডি সরকারের এ ধরনের মিথ্যাচার শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বহু দেশ তা মানতে নারাজ। প্রকৃত সত্য ঢাকতে মিয়ানমার যে সহিংসপন্থা অবলম্বন করে চলেছে তার পরিণতি কখনও সুখকর হবে না বলে বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সূত্রে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হচ্ছে।

ওপারের বিভিন্ন সূত্রে মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন এবারের অভিযান রাখাইন রাজ্যকে রোহিঙ্গামুক্তকরণ অভিযান হিসেবেই ধারণা করা হচ্ছে। শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারজয়ী সে দেশের এনএলডি নেত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আউং সান সুচি আগেই সামরিক অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে চরম অমানবিকতার মনোভাবের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন। যার ফলে সুচির বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিনিয়ত বিক্ষোভ প্রদর্শনও চলছে। এর পাশাপাশি নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশী ড. ইউনূসও শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তার পক্ষ থেকেও রোহিঙ্গা নিধনের অমানবিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এখনও টু শব্দ উচ্চারিত না হওয়ায় তিনিও ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছেন।

সীমান্ত পরিস্থিতি ॥ গত ২৫ আগস্টের মধ্যরাতের পর থেকে রাখাইন রাজ্যজুড়ে সেনা নেতৃত্বে যৌথ অভিযান শুরুর পর নির্বিচারে গুলি করে রোহিঙ্গা নিধন শুরু হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে তিনটি টাউনশীপ অর্থাৎ মংডু, বুচিদং, রাচিদংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকায়। তা-বলীলার মুখে টিকতে না পেরে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশ অভিমুখী হয়েছে। দু’দেশের সীমান্তের জিরো পয়েন্টে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নরনারী এখনও আটকা পড়ে আছে। এ অবস্থায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্দেশে উখিয়ার উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ মাঈনউদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশকৃত রোহিঙ্গাদের উখিয়ার কুতুপালং থেকে বালুখালি পর্যন্ত মধ্যবর্তী এলাকায় আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সীমান্ত গলিয়ে যে পথ দিয়েই আসুক না কেন এদের ওই এলাকায় জমায়েত করে রাখা হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যে সব রোহিঙ্গারা আসছে এদের কোন ন্যূনতম তালিকাও প্রশাসনের হাতে নেই। ফলে কারা বর্তমানে এসেছে এবং আগে এসেছে, কারা বিভিন্ন সময়ে চোরাপথে এসে আশ্রিত হয়েছে এদের চিহ্নিত করার কোন সুযোগ একেবারেই নেই। এ অবস্থায় রোহিঙ্গারা উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে বন জঙ্গল কেটে নিজেদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যাপকভাবে তৎপর রয়েছে। অপরদিকে, টেকনাফ থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যন্ত সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি এলাকাসমূহের বাংলাদেশী নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা রোহিঙ্গাভারে একেবারেই বিপর্যস্ত হয়ে আছে। এ পরিস্থিতির অবসান কখন ঘটবে বা আদৌ ঘটবে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে সেখানকার অধিবাসীরা।

অবরুদ্ধ তিন লক্ষাধিক ॥ সেনা অভিযানে টিকতে না পেরে আরাকান রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে তিন লক্ষাধিক নারী পুরুষ ও শিশু এখনও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এরা কেউ রয়েছেন বাড়িঘরে, কেউ রয়েছেন ঝোপ জঙ্গল ও পাহাড় পর্বতে। ৪০ হাজারেরও বেশি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অনুপ্রবেশকারী, জিরো পয়েন্টে অবস্থানগ্রহণকারী এবং গহিন অরণ্যে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবনযাপন করছে।

রাতে অনুপ্রবেশ ॥ যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে তারা রাতের বেলাকে বেছে নিচ্ছে। রাতের অন্ধকারে নোম্যানসল্যান্ড পেরিয়ে সহজেই অনুপ্রবেশ করা যায়। বিজিবি বা কোস্টগার্ডের পাহারাকে ফাঁকি দিয়ে এরা পৌঁছে যাচ্ছে এদেশের সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে। এছাড়া যাদের পুশব্যাক করা হচ্ছে এরাও ফের অনুপ্রবেশ করছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে ৯০ হাজার ॥ রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের তথ্যমতে গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৯০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এছাড়া নাফ নদীর জলসীমা থেকে শুরু করে স্থলসীমা পার হয়ে জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এছাড়া সাগরপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে রোহিঙ্গা আগমন থেমে নেই।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটির বক্তব্য ॥ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির মতে, এ পর্যন্ত দুই লাখ রোহিঙ্গার অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তাদের মতে, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ সংখ্যা ৯০ হাজার বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

জেলা প্রশাসকের বক্তব্য ॥ কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন বলেছেন, নতুন করে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। তবে এর কোন পরিসংখ্যান নেই। তিনি বলেন, গত বছরের ৯ অক্টোবরও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়ে অনুপ্রবেশ ঘটেছে ৮০ হাজারেরও বেশি। ওই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হলেও মিয়ানমার সরকার তাতে কোন তোয়াক্কা করেনি। গত ২৫ আগস্ট থেকে ফের যৌথ অভিযান শুরু হলে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

বৌদ্ধ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রতিবাদ ও যৌথ বিবৃতি ॥ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, গণহত্যাসহ সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সংগঠনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার প্রতিবাদ জানিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় অত্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গারা নির্মম নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার শিকার হচ্ছে এবং এতে রোহিঙ্গারা তাদের বাসস্থান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর সম্মুখীন হচ্ছে। নিরাপরাধ শিশু, মহিলা এবং নিরীহ মানুষের জীবন অনিশ্চিত অবস্থায় পতিত হচ্ছে। বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দ রোহিঙ্গাদের ওপর এহেন নারকীয় হত্যা, বর্বর ও নির্মম আচারণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। রোহিঙ্গাদের ওপর এহেন অত্যাচার-নিপীড়ন অনতিবিলম্বে বন্ধ করার জন্য মিয়ানমার সরকার তথা নোবেল শান্তি বিজয়ী আউং সান সুচির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত এই নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা, বুদ্ধের মহান মানবতাবাদী আদর্শবিরোধী একটি তৎপরতা। বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপ্রিয়। তারা শান্তিতে, সহাবস্থানে ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। তাই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের নিকট বাংলাদেশের হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যাতে বিনষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।’

মোয়াজ্জেমুল হক/এইচএম এরশাদ ॥ রাখাইন রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা নিধনে মিয়ানমার সরকার বিস্ময়করভাবে এখনও চাপমুক্ত। ফলে গণহারে রোহিঙ্গা হত্যার সঙ্গে অনুপ্রবেশে সৃষ্টি হয়েছে গণজোয়ার। এর জের হিসেবেই অসহায় ও হতদরিদ্র রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের মানবিক আচরণের সিদ্ধান্তে ল-ভ- হয়ে গেছে টেকনাফ থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যন্ত ১৩৪ কিলোমিটারব্যাপী সীমান্ত এলাকার প্রহরাসহ সার্বিক পরিবেশ। পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ যে, রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে প্রশাসন এখন সহায়তায় নেমেছে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত বেসরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে গত ২৫ আগস্ট সে দেশে যৌথ বাহিনীর নারকীয় তা-বলীলা ও হত্যাযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর থেকে। সরকার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশের সংখ্যা নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে জলে-স্থলে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে, সীমান্ত এলাকাজুড়ে সে দেশের বিজিপির (বর্ডার গার্ড পুলিশ) পুতে রাখা স্থলমাইনের ঘন ঘন বিস্ফোরণ ঘটছে গত দুদিন ধরে। এতে বেসরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রাণ হারিয়েছে ৬০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা নরনারী ও শিশু। এছাড়া মাইন বিস্ফোরণে হাত পা উড়ে যাওয়ায় ৩ রোহিঙ্গা নরনারী মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। এ বিষয়ে সীমান্তের ওপার থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, যে সব রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে এবং যারা এখনও জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছে, তারা যাতে ফিরে যাওয়ার সাহস না পায় সেজন্যই স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গত দু’দিনে ভর্তি হয়েছে আরও ৭ জন। কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে আহত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা অগণন। মঙ্গলবার সর্বশেষ উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকালে আড়াই হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা নরনারী ও শিশুকে পুশব্যাক করেছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড।

এদিকে, রাখাইন রাজ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আর আজ বুধবার আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মিয়ানমারের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে মালদ্বীপ। এছাড়া ভাসমান রোহিঙ্গাদের উদ্ধারে দ্য মাইগ্রেট অফশোর স্টেশন (মোয়াস) মাল্টা থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে মিয়ানমারের জলসীমায় আসার ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থার উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ফিনিক্স’ এক সপ্তাহের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, স্বস্তি পরিষদসহ কোন পক্ষের উদ্যোগে এখনও পর্যন্ত রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে আন্তর্জাতিক কোন সম্মেলন আহ্বানের তথ্য মেলেনি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে শিক্তিধর বিভিন্ন রাষ্ট্রের পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমার সরকারকে দফায় দফায় সংযত আচরণের মাধ্যমে সমস্যা নিরসনের অনুরোধ জানানো হয়েছেন। কিন্তু সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমার সরকার এক্ষেত্রে যেন অনড় মনোভাব নিয়েই তাদের তা-বলীলা অব্যাহত রেখেছে। পরিস্থিতি এমন যে, বছরের পর বছর ধরে ফিলিস্তিনীদের ওপর যে বর্বরতা চলমান রয়েছে সে ঘটনাবলীকেও হার মানাচ্ছে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর তা-বলীলা। রোহিঙ্গারা সে দেশের বংশ পরম্পরায় নাগরিক হয়েও মিয়ানমার সরকার তা মানছে না। বহু আগে কেড়ে নেয়া হয়েছে তাদের নাগরিকত্ব। এখন নতুন সুরে বলছে তারা বাঙালী সন্ত্রাসী জঙ্গী। যুগের পর যুগ সামরিক শাসনে থাকার পর বর্তমানে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর আউং সান সুচির নেতৃত্বাধীন এনএলডি সরকারের এ ধরনের মিথ্যাচার শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বহু দেশ তা মানতে নারাজ। প্রকৃত সত্য ঢাকতে মিয়ানমার যে সহিংসপন্থা অবলম্বন করে চলেছে তার পরিণতি কখনও সুখকর হবে না বলে বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সূত্রে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হচ্ছে।

ওপারের বিভিন্ন সূত্রে মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন এবারের অভিযান রাখাইন রাজ্যকে রোহিঙ্গামুক্তকরণ অভিযান হিসেবেই ধারণা করা হচ্ছে। শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারজয়ী সে দেশের এনএলডি নেত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আউং সান সুচি আগেই সামরিক অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে চরম অমানবিকতার মনোভাবের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন। যার ফলে সুচির বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিনিয়ত বিক্ষোভ প্রদর্শনও চলছে। এর পাশাপাশি নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশী ড. ইউনূসও শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তার পক্ষ থেকেও রোহিঙ্গা নিধনের অমানবিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এখনও টু শব্দ উচ্চারিত না হওয়ায় তিনিও ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছেন।

সীমান্ত পরিস্থিতি ॥ গত ২৫ আগস্টের মধ্যরাতের পর থেকে রাখাইন রাজ্যজুড়ে সেনা নেতৃত্বে যৌথ অভিযান শুরুর পর নির্বিচারে গুলি করে রোহিঙ্গা নিধন শুরু হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে তিনটি টাউনশীপ অর্থাৎ মংডু, বুচিদং, রাচিদংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকায়। তা-বলীলার মুখে টিকতে না পেরে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশ অভিমুখী হয়েছে। দু’দেশের সীমান্তের জিরো পয়েন্টে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নরনারী এখনও আটকা পড়ে আছে। এ অবস্থায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্দেশে উখিয়ার উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ মাঈনউদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশকৃত রোহিঙ্গাদের উখিয়ার কুতুপালং থেকে বালুখালি পর্যন্ত মধ্যবর্তী এলাকায় আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সীমান্ত গলিয়ে যে পথ দিয়েই আসুক না কেন এদের ওই এলাকায় জমায়েত করে রাখা হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যে সব রোহিঙ্গারা আসছে এদের কোন ন্যূনতম তালিকাও প্রশাসনের হাতে নেই। ফলে কারা বর্তমানে এসেছে এবং আগে এসেছে, কারা বিভিন্ন সময়ে চোরাপথে এসে আশ্রিত হয়েছে এদের চিহ্নিত করার কোন সুযোগ একেবারেই নেই। এ অবস্থায় রোহিঙ্গারা উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে বন জঙ্গল কেটে নিজেদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যাপকভাবে তৎপর রয়েছে। অপরদিকে, টেকনাফ থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যন্ত সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি এলাকাসমূহের বাংলাদেশী নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা রোহিঙ্গাভারে একেবারেই বিপর্যস্ত হয়ে আছে। এ পরিস্থিতির অবসান কখন ঘটবে বা আদৌ ঘটবে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে সেখানকার অধিবাসীরা।

অবরুদ্ধ তিন লক্ষাধিক ॥ সেনা অভিযানে টিকতে না পেরে আরাকান রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে তিন লক্ষাধিক নারী পুরুষ ও শিশু এখনও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এরা কেউ রয়েছেন বাড়িঘরে, কেউ রয়েছেন ঝোপ জঙ্গল ও পাহাড় পর্বতে। ৪০ হাজারেরও বেশি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অনুপ্রবেশকারী, জিরো পয়েন্টে অবস্থানগ্রহণকারী এবং গহিন অরণ্যে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবনযাপন করছে।

রাতে অনুপ্রবেশ ॥ যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে তারা রাতের বেলাকে বেছে নিচ্ছে। রাতের অন্ধকারে নোম্যানসল্যান্ড পেরিয়ে সহজেই অনুপ্রবেশ করা যায়। বিজিবি বা কোস্টগার্ডের পাহারাকে ফাঁকি দিয়ে এরা পৌঁছে যাচ্ছে এদেশের সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে। এছাড়া যাদের পুশব্যাক করা হচ্ছে এরাও ফের অনুপ্রবেশ করছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে ৯০ হাজার ॥ রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের তথ্যমতে গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৯০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এছাড়া নাফ নদীর জলসীমা থেকে শুরু করে স্থলসীমা পার হয়ে জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এছাড়া সাগরপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে রোহিঙ্গা আগমন থেমে নেই।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটির বক্তব্য ॥ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির মতে, এ পর্যন্ত দুই লাখ রোহিঙ্গার অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তাদের মতে, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ সংখ্যা ৯০ হাজার বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

জেলা প্রশাসকের বক্তব্য ॥ কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন বলেছেন, নতুন করে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। তবে এর কোন পরিসংখ্যান নেই। তিনি বলেন, গত বছরের ৯ অক্টোবরও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়ে অনুপ্রবেশ ঘটেছে ৮০ হাজারেরও বেশি। ওই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হলেও মিয়ানমার সরকার তাতে কোন তোয়াক্কা করেনি। গত ২৫ আগস্ট থেকে ফের যৌথ অভিযান শুরু হলে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

বৌদ্ধ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রতিবাদ ও যৌথ বিবৃতি ॥ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, গণহত্যাসহ সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সংগঠনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার প্রতিবাদ জানিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় অত্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গারা নির্মম নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার শিকার হচ্ছে এবং এতে রোহিঙ্গারা তাদের বাসস্থান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর সম্মুখীন হচ্ছে। নিরাপরাধ শিশু, মহিলা এবং নিরীহ মানুষের জীবন অনিশ্চিত অবস্থায় পতিত হচ্ছে। বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দ রোহিঙ্গাদের ওপর এহেন নারকীয় হত্যা, বর্বর ও নির্মম আচারণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। রোহিঙ্গাদের ওপর এহেন অত্যাচার-নিপীড়ন অনতিবিলম্বে বন্ধ করার জন্য মিয়ানমার সরকার তথা নোবেল শান্তি বিজয়ী আউং সান সুচির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত এই নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা, বুদ্ধের মহান মানবতাবাদী আদর্শবিরোধী একটি তৎপরতা। বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপ্রিয়। তারা শান্তিতে, সহাবস্থানে ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। তাই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের নিকট বাংলাদেশের হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যাতে বিনষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।’ সুত্র : জনকন্ঠ

পাঠকের মতামত

সেন্টমার্টিন পরিদর্শনে বিজিবি মহাপরিচালক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর থাকার নির্দেশ

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ...

আক্রান্ত হলে পাল্টা জবাব দেবে বাংলাদেশ, আমরা প্রস্তুত আছি: কাদের

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ কয়েকদিন ধরে। সেন্টমার্টিনের অদূরেই অবস্থান করছে মিয়ানমারের একাধিক যুদ্ধজাহাজ। এছাড়া, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন ...

বাংলাদেশি ট্রলারে গুলি, মিয়ানমারকে প্রতিবাদ জানাল বাংলাদেশ

টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনের মধ্যে চলাচলকারী বাংলাদেশি ট্রলারকে লক্ষ্য করে থেকে গুলি চালানোর ঘটনায় মিয়ানমারকে প্রতিবাদ ...