সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার, উখিয়া নিউজ ডটকম।
প্রকাশিত: ১০/০৮/২০২৬ ৬:১৮ পিএম
রোগীদের কাছে গিয়ে চিকিৎসার খোঁজ নিলেন ইউএনও পান্না আক্তার

অর্থের অভাবে চিকিৎসা করানো কঠিন—এমন মানুষের কাছে বিনামূল্যে চিকিৎসার একটি ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি স্থানীয়রাও এখানে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসায় নিয়মিত সেবা থাকায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে হাসপাতালটি।

উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের বালুখালীতে অবস্থিত হাসপাতালটি ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া স্থানীয় প্রসূতি খাদিজা বেগম বলেন, এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়া যায়। সেবার মানও সন্তোষজনক। তাঁর মতো অসচ্ছল মানুষের জন্য অন্য কোথাও চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন।

ফ্রেন্ডশিপের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. গোলাম রসুল বলেন, স্থানীয় ও রোহিঙ্গা—দুই জনগোষ্ঠীকেই এখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও হাসপাতালটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

১০ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে যান উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। হাসপাতালের কক্ষ থেকে কক্ষে ঘুরে চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি যান রোগীদের কাছে। চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে কি না, প্রয়োজনীয় ওষুধ মিলছে কি না—একান্তে জানতে চান তাঁদের কাছে।ইউএনওর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে পরিদর্শন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত হলো মানুষের পাশে থাকার এমন এক সরল দৃশ্য।

হাসপাতালের পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবায় সন্তোষ প্রকাশ করে পান্না আক্তার বলেন, রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগীদের হয়রানি না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে স্থানীয় অসচ্ছল রোগীদেরও সাধ্য অনুযায়ী অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ফ্রেন্ডশিপের জেলা সরকারি লিয়াজোঁ সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর তারেক সিরাজ চৌধুরী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন ৩৬ হাজার ২৫৪ জন রোগী। এ সময়ে হয়েছে ১ হাজার ৭২৮টি সিজারিয়ান (সিএস) ও ৭৯২টি স্বাভাবিক প্রসব (এনভিডি)।

হাসপাতালে ইউএনওকে স্বাগত জানান ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার ও এসআরএইচআর সমন্বয়কারী ডা. মেরিনা বিনতে আলম, হসপিটাল ইনচার্জ ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জেলা সরকারি লিয়াজোঁ সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর তারেক সিরাজ চৌধুরী, ইউএনএফপিএ প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. রেজওয়ান রাব্বি ও ফ্যাসিলিটি সমন্বয়কারী ইমাম হোসাইনসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে ‘ইউবিইএসটি’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশ

ইউনিভার্সিটি অব ব্ল ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি নামে কক্সবাজারে বিশেষায়িত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান জন্য ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুতে ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত আড়াই হাজারের বেশি

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে কমছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্ট পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ...
Single Page Footer