প্রকাশিত: ০৬/০৩/২০১৮ ৯:১৯ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৫:৪৪ এএম

নিউজ ডেস্ক::
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্ধিহান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফেরানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে রাখাইন থেকে মগদের বিদায় করতে হবে। তাই ফিরতে হলে সংগ্রাম করেই রোহিঙ্গাদের ফিরে যেতে হবে। আর এজন্য আন্তর্জাতিক রুল প্রয়োজন।’

মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে ব্রিটিশ এমপি স্টিফেন টুইগের (Stephen Twigg) নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ডিএফআইডি) ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা তো ১৯৬৭ সাল থেকে শুরু। ১৯৯০ সালেও কিছু এসে তাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৩ লাখ। ভাসানচরের প্রজেক্টটা আসলে চিন্তা করা হয় ওই তিন লাখের জন্য। ভাসানচর জেগে ওঠার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন। তখন একটা ধারণা করা হয়েছিল তারা তো বাংলাদেশে পার্মানেন্ট হয়ে গিয়েছে। তাদের জন্য একটা কিছু করা দরাকার।’

তিনি বলেন, ‘নতুন করে এবার এ ক্রাইসিস আসার পরে সংকট বেড়েছে। তবে ভাসনচরের কাজ শুরু হয়েছে, অনেকদূর এগিয়েছে। আমার ধরণা হচ্ছে, যারা পুরোনো রোহিঙ্গা রয়েছে তাদেরকে প্রাধান্য দিয়ে আরও কিছু সংখ্যক নতুনদের ভাসানচরে পুনর্বাসন করতে হবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ১০ লাখ রোহিঙ্গার টেককেয়ার করার সক্ষমতা আমাদের নেই। আগের রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরকে স্থায়ীভাবেই তৈরি করা হচ্ছে। যারা অনেকদিন ধরে যেতে চাইলেও ফিরে যেতে পারছে না। তবে নতুনদেরও কিছু নিতে হবে। কারণ তারাই তো বেশি কষ্টে আছে।

রোহিঙ্গাদের দেখতে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল কক্সবাজার যাবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

নতুনভাবে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা আসাসহ এ পর্যন্ত বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এদের খুব কম সংখ্যক মিয়ানমার ফিরে যাবে। (এর কারণ) এক নম্বর, বর্মা নিবে কম। দুই নম্বর, এরা আবার গিয়ে নির্যাতিত হবে- এই ভয়ে এরাই যাবে না। সুতরাং এদের দায়িত্বতা আমাদের উপরেই পড়েছে। দায়িত্বের অংশ হিসেবেই আমরা কিছু রোহিঙ্গা ভাসানচরে নেব। এছাড়াও অন্যান্য জায়গায় যেখানে জায়গা পাওয়া যাবে সেখানেই তাদের জন্য ক্যাম্প তৈরির চেষ্টা করবো। এদের পূর্ণবাসনের জন্য প্রচুর পরিমাণে আন্তর্জাতিক সহায়তারও দরাকর রয়েছে। এদের ঘরবাড়ি তৈরি করে দেয়ার মততো সামর্থ আমাদের নেই।’

ভাসনচরে রোহিঙ্গারা গেলে তাদের কি নাগরিকত্ব দেয়া হবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা তো দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। ৮ থেকে ১০ বছর সময় লাগবে।

ভাসানচরে তাদের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা করা হলে রোহিঙ্গারা তো যেতে চাইবে না- এমন এক প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো রোহিঙ্গা যাচ্ছে? যাবে?’

তাদের পাঠানোর তো একটা উদ্যোগ নিতে হবে, তারা তো স্থায়ী বার্ডেন হয়ে যাচ্ছে- এ প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘এদের পাঠানোর বিষয়ে কূটনৈতিকভাবেও কোনো ব্যার্থতা নেই। চীন আর রাশিয়া ছাড়া অন্যান্য দেশে আমাদের পক্ষে রয়েছে। তবে মিয়ানমার সরকার এক্ষেত্রে বাজে আচারণ করছে। এর অর্থ হলো- রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগ্রাম করে মগমুক্ত বার্মা গঠন করে সেখানে ফেরত যেতে হবে।’

মগমুক্ত বার্মা গঠনে তো অর্থ লাগবে, আন্তর্জাতিক সপোর্ট লাগবে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা লাগবে। এজন্য আমরা বিশ্বকে বোঝাচ্ছি আমাদের ওপর বার্ডেন হয়েছে। এরা তো মানুষ আমরা কী করবো। এর রেসপন্স খুব ভালো। এই লাইনেই চলতে হবে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্রিটিশরা কি নগদ সহায়তা দেয়ার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা সহায়তা দেয়ার কথা বলেছে। তবে কী পরিমাণ দেবে সেটা জানায়নি।’

ব্রিটিশ এমপিরা রোহিঙ্গাদের ফেরানোর বিষয়ে কি বাংলাদেশের পক্ষে থাকবে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই তারা বাংলাদেশের পক্ষে রয়েছে এবং আগামীতেও থাকবে।’

পাঠকের মতামত

‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার রাজি থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়ার কারণ খুঁজতে হবে’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ...