প্রকাশিত: ২৫/০৯/২০১৬ ৮:৪৫ পিএম

lama-press-club-photoএম.বশিরুল আলম,লামাঃ
লামা প্রেসক্লাবের ভুমি দখলের পায়তারা করছে কতিপয় ভুমি দস্যু। সরকারি চাকুরী আচরণ বিধি লঙ্গণ করে চাকুরিজীবির শিশু সন্ততানের নামে বাজার প্লট বরাদ্দ নেন। ১৯৯১  সালে লামা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আ: লতিফের ছেলে নজরুল ইসলামের নামীয়- ২৭২ ও ২৭৩ নং দু’টি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: আলী মিয়ার ছেলে ইউছুপ আলীর নামীয় ২৭১ নং একটিসহ নামেমাত্র মুল্যে প্রেসক্লাবের অনুকুলে তিনটি বাজার প্লট দান করেন। সরকারী কর্মচারী (আচরণ) বিধি ১৫(৩) বিধিবদ্ধ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে উপজেলা ভুমি অফিসের সাবেক কানুনগো আ: লতিফ এ প্রতিযোগীতায় ইতোমধ্যে শীর্ষস্থানে পৌছেছে (!)। তিনি ৮০’র দশকে অত্র উপজেলায় চাকুরীরতকালীন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অনেক ভু-সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।

একই সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে সেনাবাহিনীর মৈত্রী কার্যক্রমের আওতায় ২৭১ ও ২৭২ নং দু’টি প্লটের উপর একতলা বিশিষ্ট প্রেসক্লাব ভবন প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫-৬ অর্থ সালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে ক্লাবের সেফটি ট্যাঙ্কির উপর থাকা খালী অপর ২৭৩ নং প্লটটির উন্নয়ন কাজ শুর করেন। ২০০৭ সালে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বাসিন্দা (লামা উপজেলার সাবেক কানুনগো) আ: লতিফের ছেলে নজরুল ইসলাম প্লটের মালিকানা দাবী করে আপত্তি দিলে, প্রেসক্লাবের উন্নয়ন কাজ স্থগিত হয়ে যায়।

ওই সময় (ওয়ান এলিভেন সরকারের আমলে) বিশেষ প্রশাসন কোন কিছু না জেনে না শুনে এক তরফভাবে লামা প্রেসক্লাবের তৎকালীন কমিটিকে চাপের মূখে রেখে নন জুড়িসিয়াল ১৫০ টাকার স্ট্যাম্পে চলমান উন্নয়ন কাজে বাধা দিয়ে প্লটের দাবীদার নজরুল ইসলামের অনুকুলে প্রেসক্লাবের দখলীয় ২৭৩ নং প্লট ছেড়ে দেয়ার আপোষনামায় জোর পূর্বক স্বাক্ষর নেন বলে সভাপতি প্রিয়দর্শী বড়–য়াসহ স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরকারীরা জানায়।

২০০৯ সালে লামা পৌরসভার অর্থায়নে প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলায় উন্নিত করা হয়। চলতি বছর প্রেসক্লাবের পুরাতন ভবনের তৃতীয়তলা উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বিশ লাখ টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন বরাদ্দের ঘোষণা দেন। মন্ত্রীর এমন ঘোষণায় লামার চিহ্নিত ভুমি দস্যু চক্রটি আবারো প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। বিগত ২৬ বছরের পুরাতন প্রেসক্লাব মূল ভবনের নীচতলার অর্ধেকটা নিজেদের দাবী করে অতি সম্প্রতি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়ে ভুমি দস্যু চক্রটি তাদেরর মূখোশ প্রকাশ করেছেন।

অনুসন্ধ্যানে জানাগেছে, ২৭২ ও ২৭৩ নং প্লটের মালিক মূলত: লামা ইউপি সদস্য মরহুম আ: লতিফ-এর ছেলে নজরুল ইসলাম। প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম রুহুল আমিন জানান, ১৯৯১ সালে সেনাবাহিনীর মৈত্রি কার্যক্রমের অধিনে কাজ চলাকালীন সময়ে ১৪ হাজার টাকা গ্রহন করে ক্লাবের অনুকুলে প্লট ২টি দানপত্র/নাদাবী দেয় আ: লতিফ মেম্বারের ছেলে নজরুল ইসলাম।

তৎসময় লামা প্রেসক্লাবের দখলীয়-২৭২ ও ২৭৩ নং প্লট দু’টি লামা প্রেসক্লাবের অনুকুলে অনুমোদন প্রদানের জন্য বান্দরবান জেলা পরিষদ বাজার ফান্ড কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয় বলে জানাযায়।

এদিকে প্রায় দেড়যুগ পর নোয়াখালী জেলার সোনাই মুড়ি উপজেলার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, পিতা- আ: লতিফ (সাবকে কানুনগো, লামা উপজেলা) প্লট ২টির মালিকানা দাবী করে ক্লাবের উন্নয়ন কাজে আপত্তি দেয়। এর ফলে খালী প্লটটির উন্নয়ন কাজ স্থগিত হয়ে যায়।

লামা বাজারের স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানায়, ১৯৮২-৮৩ সালে বান্দরবান বাজার ফান্ডের অধিনে লামা বাজার প্লট বরাদ্দ হয়। ক্লাবের দখলীয় প্লটের দাবীদার নজরুল ইসলামের বয়স ছিল তখন চার বছর(!)। ওই সময় তার বাবা আ: লতিফ লামা উপজেলার কানুনগো হিসেবে কর্মরত ছিল। অপর দিকে ক্লাবের অনুকুলে নামেমাত্র মুল্যে জমি/প্লটদাতা লামা নিবাসী নজরুল ইসলাম, পিতা- আ: লতিফ এর বয়স ছিল তখন ১৯ বছর। এর ফলে স্থানীয়রা মনে করেন, প্রেসক্লাবের দখলীয় প্লট দু’টির বৈধমালিক (ক্লাবের ভুমি দাতা) লামা নিবাসী আ: লতিফ মেম্বারের ছেলে নজরুল ইসলাম।

এদিকে দু’যুগেরও বেশি সময় ধরে লামা প্রেসক্লাবের দখলীয় ভুমি নিয়ে কিছু দিন পরপর অহেতুক অভিযোগ করে ক্লাবের উন্নয়নে বাধা প্রদানকারী নজরুল ইসলাম কিভাবে ৪ বছর বয়সে বাজার ফান্ডের লিজ প্লটের মালিক হতে পারে, এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এছাড়া প্রেসক্লাবের দখলীয় ভুমি দাবীদার নজরুল ইসলামের পিতা আ: লতিফ (সাবেক লামা উপজেলা কানুনগো) সরকারি চাকুরী আচরণ বিধি লঙ্গণ করে কিভাবে তার শিশুপুত্রের নামে ভুমি লিজ নিয়েছে, এমন প্রশ্নও উঠেছে সর্ব মহলে।

সরকারী কর্মচারী (আচরণ) বিধি ১৫(৩) বিধিবদ্ধ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে উপজেলা ভুমি অফিসের সাবেক কানুনগো আ: লতিফ এ প্রতিযোগীতায় ইতোমধ্যে শীর্ষস্থানে পৌছেছে (!)। তিনি ৮০’র দশকে অত্র উপজেলায় চাকুরীরতকালীন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অনেক ভু-সম্পত্তির মালেক হয়েছেন। এমন কি তিনি তার শিশু সন্তানের নামেও ভুমি লিজ ও বন্দোবস্তি  নিয়েছেন বলে স্থানীয়  লোকজন জানান।

সুত্র থেকে জানা যায়, সরকারী কর্মচারী আচরণ বিধি ১৯৭৯, বিধি- ১৫, ১৬, ১৭ পৃষ্ঠা নং- ১০, বিধি- ১৫ এর (২) এ উল্লেখ আছে “কোন সরকারী কর্মচারী নিজে বা তার পরিবারের কোন সদস্যকে কোন ব্যবসায় নিয়োজিত করিবেন না বা করিবার অনুমতি দিবেন না যা তাকে বা তার অফিসের কাজে প্রভাবিত বা বিব্রত করতে পারে। অথচ কানুনগো আ: লতিফ তার দাবীমতে তার ৪ বছরের সন্তানের! নামে তৎকালে লামা বাজারের ২টি ব্যবসায়িক প্লট লিজ নিয়েছে। বিষয়টি দুদকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরে আনা দরকার বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

লামা প্রেসক্লাবের সদস্যরা জানান, ২৭ বছর আগে ১৯৯০ সালে স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য একটি প্রেসক্লঅব নির্মানের প্রস্তাব হয়। ২৬ বছর আগে ১৯৯১ সালে সরকারি অর্থায়নে এ তিনটি প্লট নিয়ে লামা প্রেসক্লাবের অবকাঠামো গড়ে উঠে। এর মধ্যে ২টিতে দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন, একটিতে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৪ তলা বিশিষ্ট ফাউন্ডেশন দিয়ে কাজ চলা কালে তা বন্ধ হয়ে যায়। সাংবাদিকরা জানায়, বান্দরবান বাজার ফান্ড প্রশাসন স্থানীয় সাংবাদিকদের কথা বিবেচনা করে বিতর্কিত প্লট দু’টির পূর্বের লিজ বাতিল করে প্রেসক্লাবের অনুকুলে বরাদ্দ দেয়ার জন্য আবেদন করা হয়। জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা জনগুরুত্ব বিবেচনায় প্রেসক্লাবের দখলীয় প্লট গুলো লামা প্রেসক্লাবের নামে বরাদ্দ দিবেন এমন প্রত্যাশা করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকসহ সর্বমহল।

পাঠকের মতামত

উখিয়ায় ৩ জনের সিন্ডিকেট দ্রব্যমূল্য বাড়াচ্ছে, প্রশাসনের নজরদারি নেই

উখিয়ায় নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী গুদামজাত করে রমজানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পায়তারা করে যাচ্ছে কয়েকজন পাইকারি ...