ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৮/০২/২০২৩ ১২:৩৩ এএম

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সেবামূলক কাজের আড়ালে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘মুক্তি কক্সবাজার’-এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটি সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের (আরআরআরসি) নির্দেশনা উপেক্ষা করে রোহিঙ্গাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করছে এবং প্রত্যাবাসনে নিরুৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিশেষ প্রতিবেদনে সংস্থাটির নেতিবাচক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সতর্ক করা হয়েছে।

গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি এবং ওই প্রতিবেদন পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে ‘মুক্তি কক্সবাজার’কে নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন না দেওয়া এবং তাদের রোহিঙ্গা শিবিরে ও অন্যান্য চলমান প্রকল্পের কার্যক্রমে কঠোর নজরদারির আওতায় আনার সুপারিশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এই এনজিওর কোনো কার্যক্রমে অংশ না নিতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রশাসন-১) রাহেলা রহমত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিচালক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক এবং কক্সবাজার জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই নির্দেশনা পাওয়া গেছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়া ‘মুক্তি কক্সবাজার’ নামের এনজিওর নেতিবাচক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিশেষ প্রতিবেদন এই বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে—

‘মুক্তি কক্সবাজার’-এর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধকরণ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিরুৎসাহিতকরণ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিক্ষা প্রদান ও রোহিঙ্গা গর্ভবতীদের অনুপ্রেরণামূলক ভাতা/উপহার দেওয়ার বিষয়ে আরআরআরসির নির্দেশনা অনুসরণ না করা, রোহিঙ্গাবিষয়ক প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম এবং রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশি স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘মুক্তি কক্সবাজার’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দে সরকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তদন্ত হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

চিঠির বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এসংক্রান্ত চিঠি এখনো হাতে পাইনি। তবে বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। মন্ত্রণালয়ের চিঠি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সন্ধ্যার দিকে আবার যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক চিঠিটি পেয়েছেন বলে জানান।

এনিজওটির বিষয়ে সরকারের পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে জানতে চাইলে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখনই বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। সুত্র : আজকের পত্রিকা

পাঠকের মতামত

টুপটুপ রিসোর্টে ১০ মৃত্যু: ম্যানেজারের ৭ দিন রিমান্ড চায় পুলিশ

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার রিসোর্টের ...

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড, মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীসহ পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ

কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ...

চকরিয়ায় থামে না ঢাকাগামী ট্রেন, দুর্ভোগে ২০ লাখ মানুষ আরও কয়েক

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে চলাচলকারী ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন চকরিয়া স্টেশনে থামে না। ফলে চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরীসহ আশপাশের ...

সাংবাদিক হয়রানির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে হয়রানি ও বাধার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে কক্সবাজার ...

পোড়া রিসোর্টে স্ত্রীকে জড়িয়ে, কোলে সন্তান নিয়ে স্বামীর হৃদয়বিদারক দৃশ্য

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে একটি মরদেহের পাশে পাওয়া ...

ইনানীতে রিসোর্টে আগুন: মালিক ও ম্যানেজারসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় চারজনের নাম ...