উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০/০৩/২০২৩ ১০:১৬ এএম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) জমা দিতে পারেনি তদন্ত কমিটি। সরকারি বন্ধ ও নানা কারণে রোববার (১২ মার্চ) পর্যন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনে সময় পেয়েছে তদন্ত দল। সবকিছু ঠিক থাকলে ওইদিনই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু সুফিয়ান।

তিনি বলেন, তদন্তের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গাসহ অন্যদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে। আগুন লাগানোর একটি ভিডিও আমাদের হাতে এসেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, ‘প্রতিবেদন সুচারুভাবে তৈরির চেষ্টা করেছি। তবে এসব নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না। বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও ব্যস্ততার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। ঊর্ধ্বতনদের কাছে সময় চেয়ে নিয়েছি। আগামী সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে (১২ মার্চ) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তখন আপনারা জানতে পারবেন আগুন লাগার আসল কারণ।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১১ তে আগুন লাগার শুরু থেকে বিষয়টি ‘পরিকল্পিত নাশকতা’ বলে দাবি করে আসছিলেন রোহিঙ্গা নেতারা। ঘটনার জন্য রোহিঙ্গাদের অনেকেই মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মিকে (আরসা) দায়ী করছেন। আগুন লাগানোর অনেক ভিডিও তদন্ত কমিটির কাছে সরবরাহ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গাদের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে ৩৩টি ক্যাম্পে আশ্রয় নেন রোহিঙ্গারা। আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সশস্ত্র সংগঠন আরসার একচ্ছত্র অধিপত্য ছিল। সম্প্রতি ক্যাম্পগুলোতে অবস্থান নেয় আরেক সশস্ত্র সংগঠন ‘আরএসও’। এছাড়া রয়েছে নবী হোসেন গ্রুপ, মাস্টার মুন্না গ্রুপসহ বিভিন্ন নামে প্রায় অর্ধশত গ্রুপ। মাদক ব্যবসা, অপহরণ, ধর্ষণ, ডাকাতি, মারামারি, খুনের সঙ্গে জড়িত এসব গ্রুপ-উপগ্রুপ। এসব সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে বলি হচ্ছেন সাধারণ রোহিঙ্গারা।

নিজেদের আধিপত্য নতুন করে জানান দিতে সবশেষ ৫ মার্চ বালুখালী ক্যাম্প ১১-তে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে আগুনে পুড়েছে ৯ ও ১০ নম্বর ক্যাম্পও। সেখানে দুই হাজারের বেশি ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে বলে দাবি ক্যাম্প সূত্রের। এতে গৃহহীন হয়ে পড়েন ১২ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা। ক্ষতিগ্রস্তরা পুনরায় মাথাগোজার ঠাঁই তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং অন্য দাতা সংস্থা তাদের সহযোগিতা করছে।

ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু সুফিয়ানকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল।

পাঠকের মতামত

টুপটুপ রিসোর্টে ১০ মৃত্যু: ম্যানেজারের ৭ দিন রিমান্ড চায় পুলিশ

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার রিসোর্টের ...

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড, মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীসহ পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ

কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ...

চকরিয়ায় থামে না ঢাকাগামী ট্রেন, দুর্ভোগে ২০ লাখ মানুষ আরও কয়েক

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে চলাচলকারী ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন চকরিয়া স্টেশনে থামে না। ফলে চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরীসহ আশপাশের ...

সাংবাদিক হয়রানির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে হয়রানি ও বাধার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে কক্সবাজার ...

পোড়া রিসোর্টে স্ত্রীকে জড়িয়ে, কোলে সন্তান নিয়ে স্বামীর হৃদয়বিদারক দৃশ্য

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে একটি মরদেহের পাশে পাওয়া ...

ইনানীতে রিসোর্টে আগুন: মালিক ও ম্যানেজারসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় চারজনের নাম ...