ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৬/০৪/২০২৪ ৯:১৩ এএম

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির চলমান তুমুল যুদ্ধে একের পর এক মর্টার শেলের বিকট শব্দে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার এবং এর পরদিন রাত পর্যন্ত টেকনাফ-সেন্টমার্টিন দ্বীপের সীমান্তে ভারী মর্টার শেলের শব্দ পেয়েছেন সীমান্তের লোকজন।

সীমান্তের বাসিন্দারা বলছেন, ওপারের বেশ কিছু সীমান্তচৌকি এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির দখলে। সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সদস্যরা সংঘর্ষে টিকতে না পেরে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছেন। ওপারের যুদ্ধের কারণে এপারে সীমান্তের টেকনাফের উত্তরপাড়া, লম্বাবিল, উনচিপ্রাং, কাঞ্জরপাড়া, হ্নীলা, মোলভীপাড়া, ওয়াব্রাং, ফুলের ডেইল, চৌধুরীপাড়া ওজালিয়াপাড়া এলাকায় সীমান্তের ওপারে থেমে থেমে গুলি ও মর্টার শেলের শব্দ পাওয়া গেছে। মূলত সীমান্তের পূর্বে মিয়ানমার কুমিরহালি, নাইচদং, কোয়াংচিগং, শিলখালী, নাফপুরাসহ এপারের সেন্টমার্টিন দ্বীপের ওপারের হাসসুরাসহ কয়েকটি গ্রামে গৃহযুদ্ধ চলছে। ফলে ওপারের গোলার বিকট শব্দের এপার কেঁপে উঠছে।

সীমান্তের নাফনদ মিয়ানমার ঘেঁষা শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘ঈদের রাত থেকে মিয়ানমারের চলমান যুদ্ধে তীব্রতা বেড়েছে। আগের তুলনায় বড় ধরনের গোলার শব্দে আমাদের ঘরবাড়ি কাঁপছে। অনেক সময় বিকট শব্দে নারী-শিশুদের ঘুম ভেঙে যায়।

শাহপরীর দ্বীপ নাফনদের পাশে বেড়িবাঁধ উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, ‘এর আগেও গোলার বিকট শব্দ আমরা পেয়েছি, কিন্তু শব্দগুলো এত বিকট ছিল না। রাখাইনে যুদ্ধে মনে হয়েছে নাফনদ কেঁপে উঠেছে।’

এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সীমান্তবর্তী দেশ রাখাইনে তাদের অভ্যন্তরের অনেক দূরে গোলাগুলি চলছে। এ কারণে এপারে বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের সীমান্তবর্তী লোকজনের ভয়ের কোনো কারণ নেই। সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি এ সমস্যাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ যাতে ঘটতে না পারে, সেজন্য টহল জোরদার রয়েছে সীমান্তে।

রাখাইনে চলমান যুদ্ধে টিকতে না পেরে গত মাসে সেদেশের ১৮০ জন মিয়ানমার বর্ডার পুলিশ (বিজিপি) সদস্য বাংলাদেশে ঢুকে পড়েন। তারাও নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি ব্যাটালিয়নে রয়েছেন। তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বশেষগত রোববার টেকনাফের ঝিমংখালী ও খারাংখালী সীমান্ত দিয়ে বিজিপির ৯ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। সুত্র: সমকাল

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে এনজিওর বিরিয়ানির প্যাকেট বিতরণের সময় ইউপি সদস্যের হামলায় যুবক নিহত

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় আলি আকবর ডেইল ইউনিয়নের ঘাটকুল পাড়া এলাকায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মোহাম্মদ আরাফাতের ছেলে ...

বড় ভাইয়ের মৃ’ত্যুর দিনে চলে গেলেন ছোট ভাই, দুইজনই ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান

দ্বিতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন উখিয়া সদরের ফলিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মরহুম বদিউর রহমান ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাঁড়াশি অভিযান, অস্ত্র ও গুলিসহ আরসা সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলিসহ আরসা সন্ত্রাসী আবদুল্লাহ (৩০) কে ...

উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী আর নেই

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুর হক চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন। ...

‘আধিপত্য বিস্তার’ নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত রোহিঙ্গা কিশোরের মৃত্যু

কক্সবাজারে উখিয়ার আশ্রয় শিবিরে ‘আধিপত্য বিস্তারকে’ কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত রোহিঙ্গা মো. শফিক ...