প্রকাশিত: ২৬/০৩/২০১৭ ১০:৩৮ এএম , আপডেট: ২৬/০৩/২০১৭ ১০:৩৮ এএম

“অবিনাশী আগুনে
পোড়ে হায়রে শোকার্ত স্বদেশ
দুখিনী মায়ের অশ্রু জমা হয় নিভৃত পাঁজরে
যে যাবে যুদ্ধে এখনি সে উঠুক উঠুক ঝলসে যে যাবে যুদ্ধে
সবকিছু ভাঙুক ভাঙুক সে…।
“পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত
ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে নতুন নিশান উড়িয়ে
দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাংলায় তোমাকে আসতেই হবে হে স্বাধীনতা।”
ভয়াল ‘কালরাত্রি’র পোড়া কাঠ, লাশ আর জননীর কান্না নিয়ে রক্তে রাঙা নতুন সূর্য উঠেছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। ভয়াল কালরাতের ধ্বংসস্তূপ আর লাশের ভেতরে
দিয়ে রক্তরাঙা সেই নতুন সূর্য। ভীতবিহ্বল মানুষ দেখল লাশপোড়া ভোর। সারি সারি স্বজনের মৃতদেহ। আকাশে কুন্ডলী পাকিয়ে উঠছে ধোঁয়া।পুড়ছে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র আঁকা লাল সবুজ পতাকা। জ্বলছে শাড়ি, খুকুর ফ্রক,চোখের জল,বুকে আগুন,জ্বলে উঠল মুক্তিকামী মানুষের চোখ, গড়ল প্রতিরোধ।
মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে ‘জয় বাংলা’ তীব্র স্লোগান তুলে ট্যাঙ্কের সামনে এগিয়ে দিল সাহসী বুক।
স্বাধীনতা মানে বঙ্গবন্ধু, রবি ঠাকুরের `ফাগুনদিনের বকুলচাঁপা, শ্রাবণদিনের কেয়া`। স্বাধীনতা কবি নজরুলের `অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস`, শামসুর রাহমানের অবিনাশী কবিতা-`পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন।` স্বাধীনতা তো ভোরের পাখি, অরুণআলোর খেয়া, `পাতায় পাতায় টুপুর টুপুর নূপুর মধুর বাজে`।স্বাধীনতা মানে ইচ্ছার স্বাধীনতা, রাজনীতির স্বাধীনতা এবং অবশ্যই উন্নত-সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক পরিবেশে শ্রেণী-পেশা-ধর্ম নির্বিশেষে সবার আরও ভালো থাকার জন্য নিশ্চিত অধিকার। বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছিলেন, `এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।` অশেষ আত্মত্যাগের বিনিময়ে রাজনৈতিক স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি মুক্তির সংগ্রামে বিজয়ী হওয়াই নবতর প্রেক্ষাপটের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
স্বাধীনতা নিয়ে কত রচিত হয়েছে কবিতা, গান, উপন্যাস।আর এ স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে কত তাজা রক্ত দিতে হয়েছে।কিন্তু আজ ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই বাঙালি জাতির জীবনে সূচনা ঘটবে আরও একটি ঝলমল উৎসব দিনের। রক্ত, অশ্র“স্নাত বিক্ষুব্ধ বিদ্রোহের দিন ২৬ মার্চ। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মহার্ঘ স্বাধীনতার ৪৬ তম বার্ষিকী। এ ভূ-ভাগের সবচেয়ে বড় অর্জন, বাঙালির সহস্র বছরের জীবন কাঁপানো ইতিহাস মহান স্বাধীনতা। অসংখ্য শহীদের রক্তে ভেজা, জাতির বীরসেনানীদের রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধের সূচনা দিন।
বাঙালির স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিন।গৌরব ও স্বজন হারানোর বেদনার এই দিনে বীর বাঙালি সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা করেছিল। তাই আজ গৌরব ও অহঙ্কারের দিন। সেই বীর সেনা নায়কদের স্মরণ করছি শ্রদ্ধাভরে।
লেখক : রুবেল বড়ুয়া
সহকারী শিক্ষক, এভারেস্ট টিচিং ইনস্টিটিউট, রামু।

পাঠকের মতামত

নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানোই যখন বড় চ্যালেঞ্জ!

মিয়ানমারের তিনটি প্রধান এথনিক রেজিস্ট্যান্ট গ্রুপ—তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ), মিয়ানমার ন্যাশনাল এলায়েন্স (এমএমডিএ) এবং ...

একটি ফুল—

একটি ফুল, একটি ফুলের জন্যে কতো নিষ্পাপ গাছ প্রাণ হারালো, এই বর্বর শুকোনের দল বারংবার ...