প্রকাশিত: ২২/০৭/২০২০ ৯:১১ পিএম

দেশের মানুষ এখন মৃত্যু–আতঙ্কে ভুগছে এবং জীবিকার চিন্তায় অস্থির হয়ে আছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, যারা ক্ষমতায় আছে, তারা সচেতনভাবে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো হরণ করেছে।

প্রয়াত শাহজাহান সিরাজ স্মরণে আজ বুধবার দুপুরে এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। ‘স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রামকে স্বাধীনতাযুদ্ধে রূপান্তরে শাহজাহান সিরাজের ভূমিকা’ শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশনস (বিএনআরসি)।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, শাহজাহান সিরাজের সারাটা জীবনই দেশের জন্য সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেছে। শাহজাহান সিরাজ এবং আজকে তাঁর স্মরণসভায় যাঁরা আছেন, তাঁরা এই বাংলাদেশ দেখতে চাননি। তিনি বলেন, শাজাহান সিরাজের স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া, পরবর্তীকালে রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন একদলীয় সমাজের দিকে চলল এবং দুর্নীত-দুঃশাসন যখন একেবারে মাথা চাড়া দিয়ে উঠল, দুর্ভিক্ষ দেখা দিল, তখন শাহজাহান সিরাজরা সেই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন।

শাহজাহান সিরাজের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমি শাহজাহান সিরাজকে শুধু বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই না, তাঁকে সবাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠকারী, স্বাধীনতাসংগ্রাম এবং স্বাধীনতাযুদ্ধের একজন নায়ক হিসেবে দেখতে চাই।’

জেএসডির সভাপতি ও স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতা আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘১৯৬২ সালে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের গঠনের মধ্য দিয়ে প্রতিটা আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। ওই সময়ে নিউক্লিয়াসের সদস্যরা ছাড়া কেউই পৃথিবীতে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নই দেখেনি। আমি ও শাহজাহান সিরাজ ’৬২ সালে নিউক্লিয়াসের সদস্য। আমরা কোনো দিন স্বায়ত্তশাসনের জন্য আন্দোলন করিনি।’

আ স ম রব বলেন, ‘শাহজাহান সিরাজ বাংলাদেশে বেঁচে থাকবেন যত দিন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা থাকবে—সেটি হলো তেসরা মার্চ। সারা বাংলাদেশে সেদিন স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়েছিল, যেটা দোসরা মার্চ আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তোলন করেছিলাম। বলা হয়েছিল, তেসরা মার্চ পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে দিয়ে সারা দেশে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করতে হবে। সেদিন বঙ্গবন্ধুকে সামনে রেখে সিরাজুল আলম খানের নির্দেশে শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতা ইশতেহার পাঠ করেছিলেন।’

আলোচনায় আরও অংশ নেন স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা নুরে আলম সিদ্দিকী, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী। বিএনপির নেতা ও সাবেক সাংসদ জহিরউদ্দিন স্বপন সভা পরিচালনা করেন।

পাঠকের মতামত

‘বিএনপির অতীতের সাফল্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন উদ্যোগের অনুপ্রেরণা’

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে অতীতে ...

অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কানাডার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ‘অবশ্যই সম্ভব’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ‘অবশ্যই সম্ভব’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ...

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ...