প্রকাশিত: ১৯/১০/২০১৭ ৭:৩৯ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১২:০৩ পিএম

উখিয়া নিউজ ডটকম::
২৫ আগষ্ট থেকে এ পর্যন্ত ঠিক কি পরিমাণের রোহিঙ্গা জোর পূর্বক উদ্বাস্তু মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন অঞ্চল থেকে পালিয়ে এসে বালাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান কারও কাছে নেই। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য সরকার উখিয়ার কুতুপালং থেকে বালুখালীর পুরাতন অনুপ্রবেশকারীদের অস্থায়ী আশ্রয়স্থল পর্যন্ত দুই হাজার একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু সেই পরিধির বাইরে আরো অন্তত তিন হাজার একর রক্ষিত বন ভূমির উপর রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রয় শিবির গড়ে উঠেছে ৫টি। বিশাল এলাকা জুড়ে রোহিঙ্গা অবস্থান নেয়ায় সবুজ বনায়ন উজাড় হয়ে ভূমির শ্রেণীর পরিবর্তন ঘটে তার বিবর্ণ ও অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের উখিয়া বন রেঞ্জ কর্তৃক প্রাপ্ত তথ্যমতে, মিয়ানমার নাগরিক অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি কর্তৃক এখানকার বন ভূমি ও বনায়নের ক্ষয়ক্ষতি উদ্বেগজনক। উখিয়া সদর বন বিট, উখিয়ার ঘাট বন বিট ও থাইংখালী বন বিটের আওতাধীন রোহিঙ্গারা ইতিমধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার একর বন ভূমি ও বনায়ন ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। এসব বন ভূমির মধ্যে এক হাজার সাত শত বিশ একর বন ভূমি ও বন বাগানের উপর গড়ে তোলা বিভিন্ন মিয়াদের বনায়ন ছিল ও রয়েছে। এসব বন ভূমিতে ২০০৪/০৫ অর্থ সাল থেকে ২০১৬/১৭ অর্থ সাল সময়ের মধ্যে গড়ে তোলা দুই হাজার নয় শত একরের বনায়ন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আবাসনের জন্য দখল করেছে। লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গারা যে ভাবে পারছে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বন ভূমির যত্রতত্র বনায়ন উজাড় করে গাছ পালা, পাহাড় কেটে ঘর তৈরীর উপযোগী করে তুলছে বলে থাইংখালী বন বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানিয়েছে।
উখিয়ার পালংখালী গায়ালমারা শফিউল্লা কাটা, জামতলীর বাঘঘোনা, থাইংখালীর মক্করার বিল, তাজনিমার খোলা ও বালুখালী ঢালার পাহাড় টিলা কেটে সাবাড় ঘর তৈরীর উপযোগী করে বনায়নের গাছপালা ধ্বংস করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা খুপড়ি ঘর তুলছে ও তা অব্যাহত থাকতে দেখা গেছে। কুতুপালং ও বালুখালী অস্থায়ী আশ্রিয় শিবির ছাড়া অন্যগুলোতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় স্থাল বানানো কোন অনুমোদন নেই বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
উখিয়ার বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, উখিয়ার উল্লেখিত প্রতিটি স্থানে সম্পূর্ণ বন ভূমি ও বনায়নের উপর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির গড়ে তুলছে ও যা অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখিত বনায়নে বিভিন্ন মেয়াদি কয়েক কোটি গাছ ছিল। যার সামান্য অংশ এখনো আছে। সবচেয়ে উদ্বেগের ব্যাপার হচ্ছে এ কয়েক কোটি গাছ তুলতে বন বিভাগ সরকারের রাজস্ব খাত, বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি সহ বিভিন্ন ডাটা সংস্থা কয়েক শত কোটি টাকা ঋণ বিনিয়োগ করা ছিল।
তিনি জানান, একদিকে বিরাট অংকে অর্থনৈতিক ক্ষতি, অন্যদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিকতার যে ক্ষতি হচ্ছে তা অত্যান্ত অপুরনীয় ক্ষতি। যেভাবে পাহাড়, টিলা কেটে ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন ঘটানো হচ্ছে এবং পাহাড়, টিলার লক্ষ লক্ষ টন মাটি এতে ক্ষয় হয়ে ধুয়ে খাল, বিলে পড়ছে। তাতে খাল বিল, ছড়া নদী, ভরাট হয়ে উরর্বতা ও নাব্যতা হারাচ্ছে। বলতে গেলে জাতীয় সম্পদের বিশাল অপুরনীয় ক্ষতি ঘটেই চলছে। অন্যদিকে এসব বনায়নের সাথে স্থানীয় কয়েক হাজার দরিদ্র জনগোষ্ঠি সামাজিক বনায়নের অংশীদার হিসেবে উপকারভোগী রয়েছে। এসব বনায়ন গড়ে তুলতে দরিদ্র শ্রেণীর জনগোষ্ঠির বিপুল পরিমাণের আর্থিক ও কায়িকশ্রম বিনিয়োগ রয়েছে। বিপুল সংখ্যক সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের আশ্রয় শিবির স্থাপনের কারনে নানা ভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে বলে বন রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান।
এছাড়াও দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে উঠা প্রাকৃতিক ও সামাজিক বনায়নকে ঘিরে অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী বৈচিত্র ও স্থানীয় পার্শ্ববর্তীর বন নির্ভর লোকজনের লোকজনের বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেক পুশুপাখি, বন্যপ্রাণী ও সরীসৃপ প্রাণীর বৈচিত্র রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের কারনে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। বন নির্ভর বন্য হাতির দল ইতিমধ্যে কুতুপালং, বালুখালী সহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয় স্থালে হানা দিয়ে একাধিক রোহিঙ্গার প্রাণনাশ করেছে এবং এধরনের আরো দুর্ঘটনা ঘটার আসংখ্যা প্রকাশ করেছেন বন কর্মকর্তা।
কুতুপালং এলাকায় ২০০৯/১০ অর্থ সালে সৃজিত বনায়নের অংশিদার বখতিয়ার আহমদ, ২০১১/১২ সালে উপকারভোগী নুরুল আমিন, ২০০৩/০৪ অর্থ সালে উপকারভোগী নুরুল হক সহ সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা জানান, শত শত উপকারভোগী এত বছর সামাজিক বনায়নকে টাকা বিনিয়োগ ও কায়িকশ্রম দিয়ে তিলে তিলে গড়ে তোলা বনায়ন মুহুর্তের মধ্যে রোহিঙ্গারা দখল করে বাগানের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করে ফেলেছে। বনায়নের মাঝ দিয়ে বন্য হাতির চলাচলের পথ ছিল। এখানে ছিল অনেক বন্য প্রাণী, পশুপাখি ও সাপ পোকা। কিন্তু এখন এগুলো কিছুই আর চোখে পড়ছে না। চোখে পড়ছে শুধু রোহিঙ্গাদের বস্তির সারির পর সারি। বালুখালীর ২০০৫/০৬ অর্থ সালের সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী মৌলভী গফুর উল্লাহ, থাইংখালী মক্করার বিলের ২০০৭/০৮ অর্থ সালের উপকারভোগী হাবিবুর রহমান, ২০১১/১২ অর্থ সালের তাজনিমার খোলা বনায়নের উপকারভোগী আহমদুর রহমান সহ অনেক উপকারভোগী জানান একই হতাশার কথা। তাদের অভিযোগ সরকার যেভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বনায়ন ধ্বংস করে ফেলেছে তা খুবই উদ্বেগের। এসব ক্ষতিগ্রস্থ উপকারভোগীরা সামাজিক বনায়নের অংশিদার হিসেবে তাদের বিপুল পরিমানের আর্থিক ক্ষয় ক্ষতির ক্ষতিপুরণ দাবি করছে সরকার ও বন বিভাগের নিকট।

পাঠকের মতামত

ইউএনওর নির্দেশে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারীকে বেঁধে রাখল আনসার

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে এক পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার ...