উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০/১০/২০২৬ ৭:২৪ পিএম
বাংলাদেশের কক্সবাজার শহরের কাছে এক শরণার্থী শিবিরে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের দেখা যাচ্ছে। ছবি: রয়টাসর্

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় দুই রোহিঙ্গা নাগরিকের এনআইডি তৈরির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুলসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন- কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসের কম্পিউটার অপারেটর কাঞ্চন মিয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. মঞ্জুরুল মিয়া।

মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রংছাতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল (৬৪), উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. মঞ্জুরুল মিয়া (২৫), নির্বাচন অফিসের চাকরিচ্যুত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া (২৯), আরিফ মিয়া (৩৪) ও স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার হীরা (৩০), উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের ওমর আলী (৪৯) এবং একই গ্রামের মোকসেদ আলী (৪৪)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে জাল কাগজপত্র তৈরি করে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ও এনআইডি পেতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচন অফিসের কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মী এবং স্থানীয় কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান গত ২ মার্চ বদলি হয়ে কলমাকান্দায় যোগ দেন। এর আগে কামরুল হাসান নামের এক ব্যক্তির ভোটার নিবন্ধন নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে গত ২৯ মার্চ ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তদন্তের নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ৩১ মার্চ তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তের ভিত্তিতে ২০ জুলাই কলমাকান্দা নির্বাচন অফিসের কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মীর বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে রোহিঙ্গাকে ভোটার তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ওই দিন প্রকল্পের আওতায় উপজেলা নির্বাচন অফিসে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া ও আরিফ মিয়া এবং স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার হীরাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নির্বাচন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই কয়েকজনের ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়া এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন সার্ভারে তথ্য আপলোডের কাজ করেন। পরে ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অসংগতি ধরা পড়ে। সরেজমিনে যাচাইয়েও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে বলে দাবি করেন বাদী।

সবশেষ নূর হালিমার ও মুজিবুর রহমানের এনআইডি তৈরির ঘটনায় নির্বাচন অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৯ জুলাই সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট হওয়ার ঘটনাতেও পরিচ্ছন্নতাকর্মী মঞ্জুরুলের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বাদী।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমাদের ওয়েবসাইটে ওই দুজনের তথ্য নেই। বাইরে থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন করে নিয়েছে তারা।

কলমাকান্দা থানার ওসি মো. সোহেল রানা বলেন, শুক্রবার রাতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আজ সকালে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করেছি। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এর আগে গত বুধবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের বাসিন্দা দেখিয়ে নূর হালিমা (২৫) ও মুজিবুর রহমান নামে দুই রোহিঙ্গার এনআইডি তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে নূর হালিমার এনআইডি গত ১১ আগস্ট হস্তান্তর করা হয়। মুজিবুর রহমানের এনআইডির তথ্য নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে আপলোড করা হলেও বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সেটি হস্তান্তর করা হয়নি।

বিষয়টি যাচাই করতে উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামে সরেজমিনে গেলে ওমর আলী জানান, নূর হালিমা নামে তার কোনো মেয়ে নেই। পরে বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় পরদিন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেন।

পাঠকের মতামত

তাজমিন হত্যা: অটোচালক সুমনকে ধরতে অভিযান, আটক ২

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তারে অভিযান ...