প্রকাশিত: ০৩/০১/২০১৯ ৭:৫৯ এএম

বছরজুড়ে আলোচনায় ছিল চট্টগ্রাম সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়ার মৃত্যুরহস্য। আত্মহত্যা হিসেবে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলেও মেনে নেয়নি পরিবার। ফলে পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে নারাজি দাখিল করবে বলে জানা যায় । কিন্তু এখনো আদালতে নারাজি জমা দেননি।

গত বছরের ২ মে সকালে নগরীর পতঙ্গোর ১৮ নম্বর ব্রিজঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে তাসফিয়ার লাশটি উদ্ধার করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ।

তাদের গ্রামের বাড়ি টেকনাফের ডেইলপাড়া এলাকায়। তাসফিয়া পরিবারের সঙ্গে নগরীর ওআর নিজাম আবাসিক এলাকার তিন নম্বর সড়কের কেআরএস ভবনে থাকতো। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার আগের দিন মঙ্গলবার (০১ মে) সন্ধ্যায় তাসফিয়া তার ছেলে বন্ধু আদনান মির্জার সঙ্গে রেস্টুরন্টে খেতে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।

এ ঘটনায় পুলিশ ওই দিন রাতে তাসফিয়ার বন্ধু আদনানকে আটক করে। ঘটনার পরদিন ৩ মে দুপুরে এ ঘটনায় তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদনানকে প্রধান করে ওই মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, সোহেল (১৭), শওকত মিরাজ (১৭), আসিফ মিজান (১৭), ইমতিয়াজ ইকরাম (১৭) ও ফিরোজ (৩০)।

এর মধ্যে আদনান, আসিফ, ফিরোজ, মিরাজ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও আদনান ছাড়া অন্যরা জামিনে বেরিয়ে যান। আদনানকে গাজিপুরের শিশু পরিবারে রাখা হয়েছে।

থানা থেকে মামলাটি নগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দেওয়া হয়। ‘ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ভিসেরা রিপোর্ট, বিষক্রিয়ার, ধর্ষণ এসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন গোয়েন্দা পুলিশ। এর পর গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর (রোববার) চীফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক ওসমান গণির আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

কিন্তু স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলায় আদালতে দাখিল করা চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না তাসফিয়ার পরিবার। পুলিশ প্রতিবেদনে আত্মহত্যা বললেও তা মানতে নারাজ তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন ও মা নাঈমা খানম । ফলে তারা আদালতে নারাজি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এ ব্যাপারে যোগাযাগ করা হলে তাসফিয়ার মা নাঈমা খানম বার্তা২৪কে বলেন, আমার অন্য বাচ্চাদের স্কুল, বার্ষিক পরীক্ষা এসব নিয়ে ব্যস্থ ছিলাম। নারাজি দেওয়ার পর পুলিশ আবার নতুন করে কাজ শুরু করবে। ফলে আমরা সময় দিতে পারবো না। তাই একটু সময় হাতে নিয়ে নারাজি দিবো।

নাঈমা খানম বলেন, আমার মেয়েকে আদনান মির্জাই কৌশলে হত্যা করেছে। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব জানা যাবে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারির বিচার চাই। তাসফিয়ার শরীরে বিভিন্ন আঘাত রয়েছে। এগুলোই প্রমাণ করে এটি হত্যাকাণ্ড।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক স্বপন সরকার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ভিসেরা রিপোর্টে হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তার শরীরে বিষক্রিয়ারও কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ধর্ষণের কোন প্রমাণও মেলেনি। পানিতে ডুবে তাসফিয়ার মৃত্যু হয়েছে সেটিই প্রমাণ পাওয়া যায়।

পাঠকের মতামত

লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে কক্সবাজারের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল

কক্সবাজারে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। জেলার তালিকাভুক্ত ১৮০টি ...

পালংখালীর ১নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদে সিরাজের প্রার্থিতা ঘোষণা, দোয়া ও সমর্থন কামনা

কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা উখিয়া উপজেলার ৫নং পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং (কাস্টমস) ওয়ার্ড থেকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ...

অষ্টাদশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় সিভিল জজ হলেন উখিয়ার রিদুয়ান

অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ...