ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৮/০৮/২০২৬ ৯:৪০ এএম
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারের জন্য টাকাপে কার্ড তৈরিতে প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রতিটি কার্ড তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০০ টাকা। কিন্তু এই বিশাল অর্থের জোগান কে দেবে? সরকারের তহবিল থেকে, নাকি কোনোভাবে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শিগগিরই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

কার্ড তৈরির এই ব্যয় ছাড়াও ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, টাকা স্থানান্তর এবং মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা খরচ ও চার্জের বিষয় রয়েছে। ফলে ৪১ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পুরো ডিজিটাল বিতরণ ব্যবস্থায় সরকারের মোট ব্যয় কত দাঁড়াবে, সেটিও এখন নতুন করে আলোচনায় আসছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অর্থ বিতরণে টাকাপে ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো এবং এর সঙ্গে সরকারি তফসিলি ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করা নিয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এছাড়া অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। তবে বৈঠকে খরচের দায় নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, প্রতিটি কার্ড তৈরির ৬০০ টাকা খরচ সরকার নাকি অন্য কোনো মাধ্যমে নির্বাহ করা হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এখন নতুন করে সামনে এসেছে কার্ড তৈরির খরচের বিষয়টি। শুধু কার্ড তৈরির জন্যই সরকারের সামনে ২৪৬ কোটি টাকার ব্যয়ের প্রশ্ন রয়েছে। এর সঙ্গে পুরো ব্যবস্থার প্রশাসনিক ও লেনদেন ব্যয় ধরা হলে ব্যয় আরও বাড়বে।

অর্থ বিভাগের আরেক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে সরাসরি সরকারি সহায়তা দেওয়া। তাই কার্ড তৈরির খরচের নামে সুবিধাভোগীদের ওপর নতুন কোনো আর্থিক চাপ তৈরি করা হবে কিনা, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

এর আগে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছিলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কার্ড দেওয়ার নামে কোথাও টাকা চাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি এ ধরনের টাকা দাবি করাকে প্রতারণা হিসাবে উল্লেখ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী বৈঠকে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্তদের হিসাব পরিচালিত হবে। এসব ব্যাংকের বাইরে টাকাপে কার্ড ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের গ্রাহকরা টাকা তুলতে পারবেন। ফ্যামিলি কার্ড সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বৈঠক শেষে বলেছেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাজেট কোনো বাধা হবে না; যত প্রয়োজন তত দেওয়া হবে। এটি শুধু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়ন এবং গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি মানবিক উদ্যোগ। অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তার এই বক্তব্যের সঙ্গে ২৪৬ কোটি টাকার কার্ড তৈরির ব্যয়ের বিষয়টি এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

টাকাপের মাধ্যমে টাকা যাবে: ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ বিতরণে টাকাপে ব্যবহারের পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা তৈরি করা। সংশোধিত সভার নোটিশে টাকাপে ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের আন্তঃসংযোগের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় উপকারভোগীর হাতে নগদ টাকা তুলে দেওয়ার পরিবর্তে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব বা ডিজিটাল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হবে।

এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমবে এবং সরকারের অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়বে। আগামী চার বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রতি কার্ডে ৬০০ টাকা ব্যয় হলে ১ কোটি ৬০ লাখ কার্ড তৈরিতেই খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৯৬০ কোটি টাকা।

পাঠকের মতামত

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টারোহিঙ্গাদের প্রতি আরাকান আর্মির মনোভাব মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চেয়েও কঠোর

রোহিঙ্গাদের প্রতি আরাকান আর্মির মনোভাব মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চেয়েও কঠোর প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ...

টেকনাফের কাউন্সিলর একরাম হত্যা: ট্রাইব্যুনালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ-বদি

কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রসফায়ারে একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন ...

অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, আগামী অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার ...

বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে তৃণমূলের স্বাস্থ্য অবকাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ...

ক্যাম্পের শিশুদেরও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় রাখার আহ্বান শামা ওবায়েদের

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ায় ক্যাম্পগুলোতে জন্ম নেওয়া শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান ...

অক্টোবরের মধ্যে চালু হবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: বিমানমন্ত্রী

অক্টোবরে মধ্যে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম ...
Single Page Footer