প্রকাশিত: ১২/১০/২০১৬ ৪:২৭ পিএম

রংপুর প্রতিনিধিঃ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার এক অটোচালককে received_1167560473310678রাতের অন্ধকারে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মুল হোতা সহ ৬ আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পিবিআই রংপুর জেলা। প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িত আসামীদের রংপুর এবং চট্রগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন কাউনিয়া থানাধীন জিল্লুর রহমান এর পুত্র ফারুক (২২), সুরুজ্জামান এর পুত্র মাজেদ (১৯), উমর আলীর পুত্র বাবু (১৯), কাজিমুদ্দিন এর পুত্র আসাদুল (২০), সুরুজ্জামান এর পুত্র মোজাম্মেল (২২), এবং খয়ের উদ্দিন এর পুত্র জাহাঙ্গীর (২৮)।

এছাড়াও গ্রেফতারকৃত আসামী ফারুকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত ধারালো চাকু, নিহত অটোচালকের ব্যবহৃত ছিনতাই করা মোবাইল, আসামীদের ব্যবহৃত মেমোরি কার্ড , মোবাইল ফোন জব্দ পূর্বক উদ্ধার করেছে বলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রংপুর জেলা সুত্রে জানা গেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের মধ্যে বাবু এবং আসাদুল হত্যাকাণ্ডের সহিত নিজেকে জড়িয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে বলে পিবিআই রংপুর সুত্রে জানা গেছে।

এ ব্যপারে নিহতের পিতা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ইতিপুর্বে কাউনিয়া থানায় একই গ্রামের (হলদিবাড়ি) জিল্লুর রহমান এর পুত্র ফারুক হোসেন (২২) এর নাম উল্লেখপুর্বক এবং অজ্ঞাতনামা এক জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং- ২১, তাং- ২৮/০৯/২০১৬, ধারা- ৩০২/৩৪/৩৭৯/৪১১ দঃ বিঃ।

মামলাটি পিবিআই এর শিডিউলভুল একটি চাঞ্চল্যকর মামলা হওয়ায় পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স ঢাকা এর অনুমতিক্রমে গত ০৪/১০/২০১৬ ইং তারিখ থেকে কাউনিয়ার থানা কতৃক হস্তান্তরের মাধ্যমে পিবিআই রংপুর জেলা মামলাটির রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে। এর আগে হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে পিবিআই রংপুর জেলা ঘটনাস্থলের ক্রাইমসিন পরিদর্শন পূর্বক বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে।

মামলার এজাহার এবং ঘটনা সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় রংপুর জেলার কাউনিয়া থানার শহিদুল ইসলামের ছেলে আজিদুল ইসলাম (১৭) গত ২৭/০৯/২০১৬ ইং সন্ধ্যা অনুমান ০৭.০০ টার সময় অটোরিক্সা নিয়ে বাড়ি হইতে বাহির হয়ে যায়। রাত অনুমান ০৯.০০ টার দিকে আজিদুল বাড়িতে না আসায় তাহার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে রিং হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেনি। ছেলেকে খোজাখোজির এক পর্যায়ে নিহত আজিদুল ইসলাম এর পিতা শহিদুল ইসলাম আসামী ফারুককে উক্ত অটোরিক্সা নিয়া আসিতে দেখিলে তার কাছে তার ছেলে আজিজুল সম্পর্কে জানতে চাইলে সে জানায় আজিদুল মীরবাগে আছে। আজিজুল এর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার বিষয়ে নিহতের পিতা তার কাছে জানতে চাইলে সে বলে, আজিদুল তার মোবাইল ফোনটি মীরবাগের একটি দোকানে চার্জ দিয়ে সেখানে অবস্থান করিতেছে। এই কথা বলিয়া সে সু- কৌশলে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে খোজাখোজির এক পর্যায়ে রাত অনুমান ১০.৩০ ঘটিকার সময় কাউনিয়া থানাধীন সাহাবাজ গ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের মিনারের পাশে পরিত্যক্ত পায়ের স্যান্ডেল এবং রক্ত দেখিয়া ঈদগাহ মাঠের পাশে পুকুরে ভিকটিম আজিদুলের গলা কাটা লাশ দেখিয়া এলাকাবসী এবং বাদীর ভাতিজা আশেদুল তাহাকে সনাক্ত করে বাদীকে খবর দেয়।

পিবিআই রংপুর জেলা কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, মামলার দায়িত্বভার পেয়ে ইতোমধ্যে ঘটনার সাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত এজাহার নামীয় আসামী সহ মোট ০৬ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ০৪ জন আসামী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার সহ কিভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সেই বর্ননা দিয়েছে।

তাদের বর্ননা মতে, ঘটনার দিন আসামী ফারুক ভিকটিম আজিদুল কে ফোনে অটো ভাড়া নেওয়ায়র কথা বলে কাউনিয়া থানার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে নিয়ে আসে। সেখানে কোমল পানীয় টাইগারের বোতলে চেতনানাশক জাতীয় ট্যবলেট মিশিয়ে আজিদুলকে খাইয়ে অচেতন করে ফেলে এবং ঈদগাহ মাঠের মিনারের পাশে আসামী বাবু, মাজেদ, আসাদুলদের সহযোগীতায় আসামী ফারুক আজিদুলকে ধারালো ছুড়ি দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার লাশ ঈদগাহ মাঠের পাশে পুকুরে ফেলে দেয় এবং কুচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দেয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক লূৎফর রহমান জানান, ঘটনার পর পর আসামী ফারুক পালিয়ে যায় এবং আত্মগোপন করে চট্রগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানার নাংগলমোড়া এলাকায় অবস্থান করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমি সহ পিবিআই রংপুর জেলার পুলিশ সদস্যরা তাকে সেখান থেকে আটক করি । আটকের সময় তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে হত্যাকাণ্ডের সাথে সে এবং অন্যান্য আসামী বাবু, মাজেদ, আসাদুল জড়িত বলিয়া জানায়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর পিবিআই জেলার অপর একটি টিম রংপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করিয়া কাউনিয়া থানাধীন হলদিবাড়ি গ্রামের সুরুজ্জামানের ছেলে মাজেদ, উমর আলীর ছেলে বাবু, কাজিমুদ্দিনের ছেলে আসাদুলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

পিবিআই রংপুর জেলা কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার আরো জানান, নিহত আজিজুলের মোবাইল সেটটি নিজেদের কাছে রাখার অপরাধে খয়ের উদ্দিনের পুত্র জাহাঙ্গীর এবং সুরুজ্জামানের পুত্র মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার মুল হোতা আসামী ফারুক স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত ছোড়াটি কাউনিয়া রাজারস্থ মেসার্স রেমি ভ্যারাইটিস স্টোর থেকে ক্রয় করে। জিজ্ঞাসাবাদে রেমি ভ্যারাইটিস স্টোর এর মালিক মিজানুর রহমান এর সত্যতা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃত মুল পরিকল্পনাকারী এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত আসামী ফারুককে নিয়ে অভিযান পরিচালনা কালে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ বুধবার সকালে ঘটনাস্থলের পাশের ধান ক্ষেতে স্থানীয় জনগণ তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু উদ্ধার সহ জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী ফারুক সহ অপর আসামী মাজেদকে আজ বুধবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও জানান তিনি। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আরো কারো সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা ব্যাপকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

পাঠকের মতামত

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ভল্ট ঘিরে রেখেছে পুলিশ

রাজধানী‌র ধোলাইখা‌লে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এ‌নে‌ছে ফায়ার সা‌র্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ব্যাংকের ...