প্রকাশিত: ১৬/০৭/২০১৯ ৯:৪১ এএম

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও চলতি একাদশ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা মরহুম এইচ এম এরশাদের মরদেহ আজ মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকালে হেলিকপ্টার যোগে নিজ এলাকা রংপুরে নেওয়া হবে। বাদ জোহর রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে তাঁর চতুর্থ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ঢাকায় এনে বিকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে। তবে জানাজা শেষে রংপুরেই তাঁকে দাফনের দাবি জানিয়েছেন জাপার স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

গত রবিবার সকালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এরশাদ মৃত্যুবরণ করার পর তাঁর স্ত্রী ও সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ সাংবাদিকদের জানান, মৃত্যুর আগে বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফনের জন্য বলে গেছেন এরশাদ। সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে রবিবার এরশাদের প্রেস উইং থেকেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়। রবিবার ঢাকা সেনানিবাসে সেনা কেন্দ্রীয় মসজিদে এরশাদের প্রথম জানাজা শেষে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)- এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে’।

এদিকে, রংপুরে এরশাদকে দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল দুপুরে রংপুর সেন্ট্রাল রোডে দলের স্থানীয় কার্যালয়ে জাপার রংপুর ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিটি যৌথসভা করে। সভা শেষে জাপা নেতা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বলেছেন, রংপুর থেকে এরশাদের মরদেহ ঢাকায় নিতে দেওয়া হবে না। জানা গেছে, স্থানীয় নেতা-কর্মীরা এরশাদকে দাফনের জন্য কবরের জায়গা নির্দিষ্ট করে কবরও খুঁড়ে ফেলেছেন।

এদিকে, গতকাল ঢাকায় সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার টানেলে এরশাদের দ্বিতীয় ও বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের দক্ষিণ পাশে তৃতীয় জানাজা হয়েছে। জানাজা শেষে এরশাদের মরদেহ আবারো সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হয়।

বায়তুল মোকাররমে জানাজা

গতকাল বাদ আসর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মরহুম এরশাদের তৃতীয় জানাজা হয়। এতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদের খতিব। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এখানে জানাজার আগে দেওয়া বক্তব্যে জিএম কাদের বলেন, ‘আমার ভাই দেশ, জাতি, ইসলাম ধর্ম ও মানুষের জন্য অবদান রেখে গেছেন। মানুষের ভুলত্রুটি থাকে, ওনারও ভুলত্রুটি ছিল, আপানারা সেগুলো মাফ করে দেবেন।’

শেষবারের মত দলীয় কার্যালয়ে

সংসদ ভবনে জানাজা শেষে এরশাদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর কাকরাইলে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। বায়তুল মোকাররমে জানাজার আগ পর্যন্ত সেখানে নির্মিত প্যান্ডেলের নিচে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ছিল এরশাদের মরদেহ। সেখানে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। দলের বাইরেও গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাপার সভাপতি ও ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে দলীয় কার্যালয়ের এই আনুষ্ঠানিকতা দিনভর তদারকি করেন জাপার যুগ্ম-মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। পরে দলীয় কার্যালয় থেকে চিরবিদায় নেন জাপার প্রতিষ্ঠাতা এরশাদ।

পাঠকের মতামত

গুতেরেসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যুতে জোর

জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ইস্যু, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং বৈশ্বিক শান্তি ও ...

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফারোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সময়োপযোগী প্রস্তাবনা : শাহজাহান চৌধুরী

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিপুল উপস্থিতির কারণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে জনজীবনে নানা ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ...

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে তারেক রহমানের ৫ প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ...

নবম পে স্কেলের বাইরে যারা

সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কয়েক শ্রেণির কর্মচারী ও শ্রমিক নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আসছেন না। ...