
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোর দলের ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, এলাকার অধিপত্য নিয়ে সংর্ঘষের মতো নানান অপরাধের খবর সমানে এসেছে। তবে এবার ডাকাত দলে এক কিশোরীর নেতৃত্ব রীতিমতো চমকে দিয়েছে পুলিশ সদস্যদের।
ওই কিশোরীর বয়স ১৫ বছর। তার দলে আরও এক কিশোরীসহ কিশোররাও রয়েছেন।
ঘটনা গত ১৭ জুলাইয়ের। সেদিন রাতে সেন্ট্রাল রোডে মনিরুল হক নামে ওয়াসার এক অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ডাকাতির সময় ওই প্রকৌশলী হজের জন্য সৌদি আরবে ছিলেন। তখন তার বাসায় ফিরোজা বেগম (৬৫) নামের এক গৃহকর্মী এবং গাড়ি চালক ও তত্ত্বাধায়ক মো. রিপন (৪২) ছিলেন।
থানায় দায়ের করা মামলার বিবরণে বলা হয়, রিপনের কাছে ঘরের চাবি দিয়ে গত ২০ জুন প্রকৌশলী মনিরুল হজে যান। রিপন বাসার উত্তর পশ্চিম দিকে গাড়ির গ্যারেজের সঙ্গে লাগোয়া একটি কক্ষে থাকেন। গৃহকর্মী ফিরোজা থাকেন বাসার ভেতরের পৃথক একটি কক্ষে।
১৭ জুলাই রাত পৌনে আটটার দিকে একজন কিশোরীসহ ছয় থেকে সাতজন বাড়ির দেওয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে রিপনের ঘরে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে। এ সময় তার মোবাইল এবং নগদ ১১ হাজার টাকা নিয়ে নেয় ডাকাত দল। রিপনের কাছে থাকা চাবি জোরপূর্বক নিয়ে গেট খুলে ভেতরে ঢুকে অন্যান্য রুমে যায় তারা। এ সময় বাসার ভেতরে থাকা গৃহকর্মীকেও জিম্মি করে তারা। দুইজনকে জিম্মি করে তারা আলমারিসহ অন্যান্য জায়গা থেকে জিনিসপত্র লুট করে।
ডাকাতিকালে নগদ আট লাখ টাকাসহ মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করে দলটি। ডাকাত দলের বেশিরভাগের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছর বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় দায়ের কার মামলায় ডাকাত দলের দুই কিশোরী, দুই কিশোর এবং দলের এক তরুণ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দলনেতাসহ দুই কিশোরীর বয়স ১৫।
নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল গণি সাবু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
তিনি জানান, ডাকাতি শেষে টাকা ও সরঞ্জাম ভাগ বাটোয়ারার পর দলের দুই সদস্যকে নিয়ে কক্সবাজারে আনন্দ ভ্রমণে যান ডাকাত দলের হোতা সেই কিশোরী।
ওসি শফিকুল গণি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা রিপনের সঙ্গে কথা বলে যখন জানতে পারি এই ডাকাতদলে একজন কিশোরী ছিল যে মূলত ডাকাতিকালে নেতৃত্ব দিয়েছে তখনই বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়। যেন চমকে দেওয়ার মত অবস্থা।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলমগীর হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তারা বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার পাশপাশি আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে ১৭ বছর বয়সের এক কিশোর এবং ২৩ বছর বয়সের নাহিদুজ্জামান নাহিদকে শনাক্ত করা হয়। ওই দুজনকে রাজধানীর কলাবাগান- কাঠাঁলবাগান এলাকা থেকে ২১ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়।
নাহিদের কাছে ডাকাতির ভাগের ২৫ হাজার টাকা, কিশোরটির কাছে দুই লাখ টাকা, প্রকৌশলী মনিরুল হকের দুটি এবং তার গাড়িচালক-তত্ত্বাবধায়ক রিপনের একটি মোবাইল সেট পাওযা যায় । সেখান থেকে মাটির ব্যাংক ভেঙে নেওয়া খুচরা ৭৭৮ টাকাও উদ্ধার করা হয়।
এসআই বলেন, “তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দলনেত্রীর তথ্য পাওয়া যায়। পরে বিভিন্ন সোর্সে এবং কৌশলে জানা যায় ডাকাতির পরপরই দুই কিশোরী এবং ২১ বছর বয়সী আরেক সদস্য আফজাল হোসেন কক্সবাজারে অবস্থান করছে।”
গত ২৩ জুলাই কক্সাবাজরে গিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন,“ লুটের টাকা দিয়ে তারা মূলত সেখানে আনন্দ ভ্রমণে গিয়েছিল।”
নিউ মার্কেট থানার ওসি জানান, ডাকাত দলের দুই কিশোরীর বন্ধু আফজালের কাছ থেকে লুট হওয়া ঘড়ি উদ্ধার করা হয়। এ দলের আরও কয়েকজন সদস্য আছে যাদের বয়স ১৬ থেকে ২০ এর মধ্যে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। ডাকাত দলের সদস্যরা “টিকটক ভিডিও” করে বলে জানান ওসি।

পাঠকের মতামত