প্রকাশিত: ২৬/০৪/২০১৭ ৮:২৩ এএম

খালেদ হোসেন টাপু,রামু:
গোলাগুলিতে নিহত অভিযুক্ত চোর ফরহাদের হামলায় নিহত কক্সবাজারের রামুর বায়তুল আমিনের নামাজের জানাযা সম্পন্ন হয়েছে। গত সোমবার ভোররাতে জোয়ারিয়ানালা নতুন মুরা পাড়ার মৃত ছালেহ আহমের ছেলে মোঃ ইউনুচের বাড়ি থেকে ডাকাত সর্দার ফরহাদের নেতৃত্বে একদল চোর সিন্ডিকেট ১টি গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় গরুর মালিকের চিৎকারে প্রতিবেশী লোকজনের সাথে বায়তুল আমিনও চোরদের ব্যারিকেড দিতে এগিয়ে আসে। এসময় ডাকাত সর্দার ফরহাদের গাড়ির ধাক্কায় গরুর মালিক ইউনুচ ও বায়তুল দুইজনই গুরুতর আহত হয়। সোমবার বিকেল ৪ টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বায়তুল আমিন (৪০) মারা যায়। মঙ্গলবার বিকালে নিহত বায়তুলের লাশ ময়নাতদন্তের পর চট্টগ্রাম থেকে এম্বুলেন্স যোগে জোয়ারিয়ানালায় পৌঁছলে শোকের মাতম দেখা যায়।

মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধায় জোয়ারিয়ানালা মাদ্রাসার মাঠে ২ সন্তানের জনক বায়তুল আমিনের নামাজের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাযার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম, জোয়ারিয়ানালা চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন প্রিন্স, জসিমুল ইসলাম মেম্বার ও রুবেল মেম্বার প্রমুখ। জানাযায় ইমামতি করেন মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক।

জোয়ারিয়ানালা নতুন মুরা পাড়ার গরুর মালিক মোঃ ইউনুচ জানান, সোমবার ভোররাতে বাড়ি থেকে তার একটি গরু চুরি করে গাড়িতে তুলে নেয় ডাকাত সর্দার ফরহাদের নেতৃত্বে চোর সিন্ডিকেট। ডাকাতের পিছু নিয়ে তার সু-চিৎকারে এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে ডাকাত সর্দার ফরহাদ ও তার সহযোগীদের ব্যরিকেড দেয় এবং তাদের ব্যরিকেড ভেঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে এবং দিনমুজুর বায়তুল আমিনকে চোরাই গরু বোঝাই গাড়ির ধাক্কা দিলে তারা গুরুতর আহত হন।

রামু থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, হামলায় নিহত ও গরু চুরির ঘটনায় পৃথক দুই মামলা দায়ের হয়েছে। একটি মামলার বাদি নিহত বায়তুল আমিনের স্ত্রী খুরশিদা বেগম এবং আরেকটির বাদী গরুর মালিক মোঃ ইউনুচ। তিনি রামুতে গরুর চোর গ্রেফতারে সকলের সহযোগীতা চেয়ে বলেন, গোলাগুলিতে নিহত ডাকাত সর্দার ফরহাদের সহযোগী ও অন্যান্য চোর-ডাকাতদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে।

রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম বলেন, বায়তুল আমিনের আতœার মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহ যেন বায়তুল আমিনকে জান্নাতবাসি করেন। তিনি আরও বলেন, রামুতে ডাকাতি, চুরি বন্ধে প্রত্যেক এলাকায় পাহারা বসানোর জন্য জনসাধারনের প্রতি অনুরোধ করেন। যাতে কোনভাবে আর যেন গরু চুরি না হয়। যারা এলাকার মানুষের ঘুম হারাম করছে, যারা মানুষের জীবন নিয়ে চিনিমিনি খেলছে, যারা অর্থ ও মালামাল লুট করছে, এবার তাদের আর রক্ষা নাই, তাদের ধরিয়ে দিন। জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, অপরাধী গ্রেফতারে আমাদেরকে সহযোগীতা করতে হবে। অপরাধী যে হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে সহযোগীতা করুন।

উল্লেখ্য যে, সোমবার ভোরে ফরহাদের নেতৃত্বে একদল গরু চোর রামু ও ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭টি গরু চুরি করে। পরে পুলিশ ও সংঘবদ্ধ চোরদলের সঙ্গে গোলাগুলিতে অভিযুক্ত চোর ফরহাদ নিহত হন।

পাঠকের মতামত

পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের দাম বাড়ল, বাড়েনি সরবরাহ

পর্যটনের স্বর্গ হিসেবে পরিচিত প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের সংকট দীর্ঘদিনের। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ...

টেকনাফে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মনখালী ও শামলাপুর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে পূর্ববিরোধ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে ...

সেন্টমার্টিন ভ্রমণ: পর্যটক পরিবহনের অনুমতি পায়নি কোনো জাহাজ

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটক পরিবহনের জন্য রুট পারমিট চেয়ে আবেদন করেছে সাতটি জাহাজ। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ...