উখিয়া নিউজ ডটকম
প্রকাশিত: ১২/০৮/২০২৬ ১:১১ এএম

কক্সবাজারের টেকনাফে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) পৃথক অভিযানে গত দুই দিনে ১৪ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে। এ সময় ৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অনলাইন জুয়া, মাদক সেবন, সরকারি আদেশ অমান্য এবং বিভিন্ন মামলার এজাহারনামীয় ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

১০ আগস্ট রাতে ২১ নম্বর চাকমারকুল এপিবিএন ক্যাম্পের এ/১ ব্লকে অভিযান চালিয়ে ৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন—নুর মোহাম্মদ (৩৭), ফয়েজ উল্লাহ (২৭) ও মোহাম্মদ ফায়সেল (২৯)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নুর মোহাম্মদের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ক্যাম্পের জিডিতে বিষয়টি নথিভুক্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের টেকনাফ থানায় পাঠানো হয়েছে।

একই দিন চাকমারকুল ক্যাম্পের বি/৬ ব্লকে একটি দোকানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে মোহাম্মদ হোসেন (৩৮) ও মাহামুদুল হাসান (২৮) নামে দুই রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। পরে তাদের সিআইসি কার্যালয়ে নেওয়া হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রনি আলম নূর জুয়া আইন, ১৮৬৭-এর ৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এদিকে, একই দিন লেদা এপিবিএন ক্যাম্পের অভিযানে অনলাইন জুয়া ও মাদক সেবনের অভিযোগে চার রোহিঙ্গা পুরুষ এবং সরকারি আদেশ অমান্যের অভিযোগে এক রোহিঙ্গা নারীসহ মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মোহাম্মদ আব্বাস (২৫) ও আব্দুল গণি (২৯) অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে যথাক্রমে এক মাস ও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড পান। মাদক সেবনের অভিযোগে আবুল ফয়েজ (২৩) ও মো. ইসমাইল (১৯) তিন মাস করে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। সরকারি আদেশ অমান্যের অভিযোগে পারভীন আক্তারকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

১১ আগস্ট রাতে নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের এইচ-ব্লক সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে হামিদ হোসেন (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এপিবিএন। পুলিশের দাবি, তিনি কথিত ডাকাত সাদ্দাম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। পরে তথ্য যাচাই করে তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

একই দিন সকালে উনচিপ্রাং এপিবিএন ক্যাম্পের বি, সি ও ডি ব্লকে অভিযান চালিয়ে নুর জোহার (৪৭) ও মোহাম্মদ ইউসুফ (২৭) নামে দুই এজাহারনামীয় রোহিঙ্গা আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানার মামলা নং-৪৯, তারিখ ১১ আগস্ট ২০২৬-এ দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা রয়েছে। পরে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এছাড়া ১১ আগস্ট সকালে জাদিমুড়া এপিবিএন ক্যাম্পের আওতাধীন ক্যাম্প-২৭-এর এ/১০ ব্লকে অভিযান চালিয়ে নুর ফাতেমা (২৭) নামে এক রোহিঙ্গা নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানার ৫ আগস্টের একটি মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারায় মামলা রয়েছে। তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এপিবিএনের সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পগুলো জানিয়েছে, আটক ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে ‘ইউবিইএসটি’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশ

ইউনিভার্সিটি অব ব্ল ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি নামে কক্সবাজারে বিশেষায়িত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান জন্য ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুতে ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত আড়াই হাজারের বেশি

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে কমছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্ট পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ...
Single Page Footer