প্রকাশিত: ০৮/০৮/২০২১ ১১:১৭ এএম

করোনার টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করে এসএমএস বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নিবন্ধন করার এক মাস পার হয়ে গেলেও মেসেজ পাচ্ছেন না অনেকেই। এদিকে নিজেদের সুবিধামতো কেন্দ্র নির্বাচন করে নিবন্ধন করলেও ফিরতি এসএমএস পাচ্ছেন দূরের কোনো কেন্দ্রের। এ ছাড়া নির্ধারিত কেন্দ্রের এসএমএস পেলেও তাকে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে অন্য কোনো কেন্দ্রে। টিকার এসএমএস সমস্যার বিষয়ে তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে (আইসিটি) অবহিত করা হয়েছে। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত বছরের জুনে করোনা আক্রান্ত হন ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান। পরে সুস্থ হন।

করোনা টিকা নিয়ে প্রথম দিকে তার কোনো আগ্রহ ছিল না। তবে মহামারি করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় তিনি টিকা নেয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেন। নিবন্ধনের এক মাস পরেও কোনো এসএমএস না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন এ ব্যবসায়ী। তিনি মানবজমিনকে বলেন, টিকার জন্য নিবন্ধন করলাম এক মাস পার হয়ে গেল কিন্তু কোনো এসএমএস পেলাম না। বিষয়টি খুবই হতাশার।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব আনোয়ার হোসেন। তিনি টিকা নিতে নিবন্ধন করেন গত ১০ই জুলাই। যাতায়াতের সুবিধার জন্য তিনি কেন্দ্র নির্বাচন করেন মহাখালীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটে। নিবন্ধনের তিন সপ্তাহ পার হলেও টিকার তারিখ জানিয়ে তার কাছে কোনো এসএমএস আসেনি। এতদিনেও টিকা না নিতে পেরে হতাশ তিনি। এর মধ্যে করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আনোয়ার হোসেন বলেন, টিকা পেতে ১০ই জুলাই রেজিস্ট্রেশন করেছি। কিন্তু এখনো মেসেজ পাইনি। টিকার সরবরাহই যদি নিশ্চিত না হয়, তাহলে শুধু মানুষকে কষ্ট দেয়ার কোনো মানে নেই।
কল্যাণপুরের বাসিন্দা মিজানুর রহামান। তিনিও এক মাস আগে টিকার জন্য নিবন্ধন করলেও কোনো এসএমএস পাননি। তিনি বলেন, আমাদের পাঁচ সদস্যের পরিবারের সবাই টিকার জন্য নিবন্ধন করেছি। টিকাকেন্দ্র মিরপুর-১৪ এর ডেন্টাল কলেজ। নিবন্ধন করা হয় ৬ই জুলাই। এখনো এসএমএস আসেনি। কেন্দ্রে যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।

এদিকে করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করতে গিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ করেছেন প্রবাসী কর্মীরা। নিবন্ধনের চার-পাঁচ দিন পরও এসএমএস পাচ্ছেন না অনেকেই।

যে কারণে নিবন্ধনের পরও মিলছে না এসএমএস: গত ৭ই ফেব্রুয়ারি দেশে গণটিকাদান শুরু হয়। টিকা সংকটের কারণে কিছুদিন টিকাদানে ধীরগতি থাকলেও গত ৩০শে জুন নিবন্ধন কার্যক্রম দ্বিতীয় দফায় উন্মুক্ত করে সরকার। একই সঙ্গে টিকা নিবন্ধনের বয়সসীমা কমানো হয়। নিবন্ধনকৃত কেন্দ্র পর্যায়ক্রমে নাগরিকদের মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠায়। এর মধ্যে কোনো কেন্দ্রে বেশি নিবন্ধন হলে তাতে টিকা নেয়ার জন্য এসএমএস আসতে দেরি হয়। আর যে কেন্দ্রে নিবন্ধন কম, তাতে কম সময় লাগে।

নিবন্ধনের পর তারিখ পেতে দেরি হওয়ার মূল কারণ জানতে চাইলে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের টিকাকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মোহাম্মদ শিহাবউদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, আমাদের হাসপাতালে বর্তমানে ৩৫ হাজার নিবন্ধন রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিনই নতুন করে নিবন্ধন হচ্ছে। আমরা প্রতিদিন টিকা দিচ্ছি ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে। এ কারণে টিকা দেয়ার তারিখ জানিয়ে এসএমএস ছাড়তে দেরি হচ্ছে। আমরা যে হারে টিকা দিচ্ছি, তার চেয়ে অনেক বেশি গতিতে নিবন্ধন হচ্ছে। ফলে টিকাপ্রত্যাশীদের সারি দীর্ঘ হচ্ছে।

এসএমএস আসে এক কেন্দ্রে, টিকা দিতে হয় অন্য কেন্দ্রে: এদিকে নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকাদানের এসএমএস পেলেও তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় অন্য কোনো কেন্দ্রে। অন্য কেন্দ্রে গিয়ে অনেকেই টিকা পাননি। তবে কেউ কেউ টিকা পেলেও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন অনেক।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আবুল কালাম। তিনি টিকার নিবন্ধনের সময় কেন্দ্র নির্বাচন করেছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। নির্ধারিত কেন্দ্রের নামেই তার এসএমএস এলেও সেখানে টিকা দিতে পারেননি। তিনি টিকা দিয়েছেন অন্য একটি হাসপাতালে। জানতে চাইলে আবুল কালাম মানবজমিনকে বলেন, টিকার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রে গেলে আমাকে বলা হয় অন্য একটি হাসপাতালে যেতে। ওই হাসপাতালেও একই কথা বলা হয়। পরে আমাকে মাতৃসদন হাসপাতালে যেতে বলা হয়। সেখানে গেলে তারা আমাকে জানায়, আমার নামে কোনো এসএমএস পাননি তারা। তাই আমি এখনো টিকা দিতে পারিনি।

বেসরকারি চাকরিজীবী আল আমিন হোসেন। তার নিবন্ধনে টিকা কেন্দ্র দেয়া ছিল রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল। এসএমএসও আসে ওই কেন্দ্রের নামে। কিন্তু তাকে টিকা দিতে হয়েছে অন্য হাসপাতালে। এর জন্য অনেক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে জানান তিনি।

যা বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর: টিকার নিবন্ধনের এসএমএস ইস্যুতে তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। সম্প্রতি তিনি সাংবাদিকদের বলেন, টিকা নিবন্ধনের পর এসএমএস আসা নিয়ে কিছুটা দেরি হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা আইসিটি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। আসা করছি খুব শিগগিরই এর সমাধান হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক মানবজমিনকে বলেন, নিবন্ধনের এসএমএস আসার বিষয়টি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের। আর একসঙ্গে অনেকেই টিকার জন্য নিবন্ধন করছেন। তাই কিছুটা সমস্যা হতে পারে। আশা করছি, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।

পাঠকের মতামত

‘বিএনপির অতীতের সাফল্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন উদ্যোগের অনুপ্রেরণা’

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে অতীতে ...

অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কানাডার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ‘অবশ্যই সম্ভব’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ‘অবশ্যই সম্ভব’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ...

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ...