প্রকাশিত: ২৬/০৭/২০২২ ৮:৫৯ এএম


মাছ ধরায় দীর্ঘ ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞার সুফল মিলতে শুরু করেছে। ট্রলারভর্তি ইলিশ নিয়ে উপকূলে ফিরতে শুরু করেছেন জেলেরা। গত দুই দিনে কক্সবাজার উপকূলে ফেরা কোনো মৎস্যজীবীকে হতাশ হতে হয়নি। ইলিশের পাশাপাশি ধরা পড়ছে সুরমা, লাল পোয়া, রূপচাঁদাসহ নানা প্রজাতির মাছ।

সোমবার (২৫ জুলাই) কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ম্যানেজার আহসানুল হক বলেন, “নিষেধাজ্ঞার পর কক্সবাজারের জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গেছেন। মাছ ধরা শেষে সবাই ফিরে এলে মোট পরিমাণ বোঝা যাবে। তবে প্রথম দিনে ১৬ মেট্রিক টন মাছ কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে বিক্রি হয়েছে। এ বছর ৯ হাজার মেট্রিক টন মাছ শিকারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।”

এদিন কক্সবাজার মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সাগরে মাছ ধরে কিছু কিছু জেলে উপকূলে ফিরেছেন। প্রতিটি ট্রলারে ইলিশসহ নানা প্রজাতির মাছের স্তুপ। যারা সপ্তাহ বা ১০ দিনেরও বেশি সময়ের জন্য সাগরে নেমেছেন তারা বেশি মাছ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলে সামশুল আলম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “দুই মাস পর শনিবার রাত ১২টা থেকে সাগরে মাছ ধরতে শুরু করি। অনেক মাছ পেয়েছি। খুশি লাগছে।”

ফিশিং ট্রলারের মাঝি হুমায়ূন কাদের বলেন, “সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় আশা করেছিলাম বেশি মাছ পাব। তাই-ই হয়েছে। গত রাতে সাগরে গেলাম। জাল তুলে দেখি ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারবো তাই আরও বেশি খুশি লাগছে।”

ফিশারি ঘাটের ব্যবসায়ী সৈয়দ হোসাইন বলেন, “সাইজ অনুযায়ী দামে আমরা মাছ কিনছি। তবে ছোট আকৃতির মাছ নেই। সব বড়। এগুলো কেজিতে ১১০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত কিনছি। মণ হিসেবে ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার। আর গণনা করে নিলে ১০০ ইলিশের দাম ১৬ হাজার থেকে ১৭ হাজার টাকায় ক্রয় করছি আমরা। বেশি মাছ পাওয়া গেলে দাম একটু কমবে।”

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “নিষেধাজ্ঞার পরে জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অনেক ট্রলার সাগরে মাছ ধরতে গেছে। তারা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছও পেয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর সাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকে। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে সাগরে মাছের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে অনেকদিন পর সাগরে জাল ফেলে বেশি মাছ পাওয়া যায়। আশা রাখি সামনের দিনগুলোতে বেশি পরিমাণে মাছ পাবেন জেলেরা।”

দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় কক্সবাজারের জেলে পল্লীগুলো এখন সরগরম। বিশেষ করে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে পরিবারগুলোতে এখন খুশির ঝিলিক।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছে চিকিৎসক-নার্স

কক্সবাজারের কক্স ন্যাশনাল হসপিটালে প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ...

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে ১৫ হাজার সাবান

কক্সবাজারের উখিয়ার থাইংখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-২০) একটি কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার সাবান উৎপাদিত হচ্ছে। ...

ইনানীতে অগ্নিকান্ড : ১০ মরদেহ শনাক্ত হলেও এখনো নিখোঁজ শিক্ষিকা

অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর স্বজনদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী রিসোর্টে অবস্থানকারী পর্যটকদের মধ্যে নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন মোট ...

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই হিমছড়িতে ইকো রিসোর্টের নামে হোটেল নির্মাণ

পর্যটকের ঢল আছে, কিন্তু নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেই– দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের চিত্র অনেকটা ...

ইনানীতে বাৎসরিক এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

কক্সবাজারের ইনানীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত বাৎসরিক এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ...