ফাইনাল পরীক্ষার মাঝেই ড্রাইভারের দায়িত্ব পালনের চাপ
চট্টগ্রামে গাড়ি রিকুইজিশনের নামে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ

চট্টগ্রামে ব্যক্তিগত গাড়ি রিকুইজিশনের নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে প্রশাসনিক হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ফয়সাল চৌধুরী কায়েস, তিনি Southern University Bangladesh-এর আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং উখিয়ার রত্নাপালং এলাকার বাসিন্দা মোক্তার চৌধুরীর ছেলে।
ফয়সাল চৌধুরীর ভাষ্যমতে গত ১২ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের সিমেন্ট ক্রসিং পুলিশ বক্স এলাকায় দায়িত্বরত সার্জেন্ট আরিফ, ফয়সাল চৌধুরী কায়েসের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়ি (চট্টগ্রাম মেট্রো-চ ১১-৫৭৯৩) আটক করেন। গাড়ির সকল বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শনের পরও ‘গাড়ি সংকট’-এর কথা বলে গাড়িটি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রিকুইজিশনের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, সার্কিট হাউজে নেওয়ার পর সেখানে দায়িত্বরত স্টাফরা তার সঙ্গে অপেশাদার ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন। তিনি নিজেকে নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি জানান, গাড়িটি চালানোর জন্য তার কোনো ব্যক্তিগত ড্রাইভার নেই। তবে এসব বিষয় আমলে না নিয়ে তাকে ১৩ মে ম্যাজিস্ট্রেট এজহারুল আহমেদ শিহাবের ডিউটিতে গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বর্তমানে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল পরীক্ষা চলমান থাকায় এবং কোনো পেশাদার ড্রাইভার না থাকায় তিনি উক্ত ডিউটিতে উপস্থিত হতে পারেননি। এরপর থেকেই সার্কিট হাউজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের অভিযোগ, একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ড্রাইভারের দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার চেষ্টা, তার শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষায় বিঘ্ন সৃষ্টি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সার্জেন্ট আরিফ হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


পাঠকের মতামত