প্রকাশিত: ০২/১০/২০১৬ ৮:০২ এএম
ফাইল ছবি
komir
উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
চামড়ার পর এবার কুমিরের মাংস রফতানি করবে বাংলাদেশ। ময়মনসিংহের ভালুকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কুমিরের চাষ হচ্ছে ১২ বছর ধরে। ইতোমধ্যে উৎপাদিত কুমিরের চামড়া রফতানি হয়েছে বিভিন্ন দেশে। এবার মাংস রফতানির ঘোষণা দিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড’।
ভালুকা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে ভরাডোবা-সাগরদিঘী সড়কের উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের হাতীবেড় গ্রামে ‘রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠানটি কুমির চাষ ও রফতানি করছে।
কুমিরের মাংস রফতানি করবে বাংলাদেশকোম্পানি সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়  ২০০৪ সালের ৫ মে খামারটি প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা সিআইটিইএস এর অনুমোদন নিয়ে ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে মালয়েশিয়ার সারওয়াত থেকে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ টি পুরুষ এবং ৬০ টি মাদী কুমির আমদানি করা হয়। পরে ২২ ডিসেম্বর কুমিরগুলোকে খামারে অবমুক্ত করা হয়। তখন আমদানি করা কুমিরগুলোর বয়স ছিল গড়ে ১০-১৪বছর। আর লম্বায় ৭-১২ফুট। পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে প্রথম দুটি মাদী কুমির ডিম দেয়া শুরু করে। ক্রমান্বয়ে কুমিরের বংশ বিস্তারের মাধ্যমে ওই খামারে প্রায় ৮০০ কুমিরে উন্নীত হয়। সরকারের কাছ থেকে কুমির রফতানির চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে জার্মানের হাইডেল বার্ড ইউনিভার্সিটি কুমিরের শরীরের অংশ বিশেষ থেকে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধক মেডিসিন আবিষ্কারের জন্য ওই ‘রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড’ থেকে কুমির রফতানির চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। ২০১০ সালে ওই খামারের রফতানিযোগ্য ৩০০ কুমিরের মধ্য থেকে ৬৯টি কুমির জার্মানিতে রফতানি করা হয়। বাকি ২৩১ টি কুমির ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানির প্রক্রিয়া চালানো হয়। জার্মানিতে ৭০ লাখ টাকায় ৬৯ টি কুমির বিক্রির মধ্য দিয়ে লাভের মুখ দেখে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে কুমির রফতানির দেশ হিসাবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নাম লিপিবদ্ধ হয়।
কুমিরের মাংস রফতানি করবে বাংলাদেশকুমিরের গড় আয়ু ১০০বছর। আমদানিকৃত কুমিরের মধ্যে বর্তমানে ২৫টি বড় পুরুষ রয়েছে। ডিম দেয়ার মত বড় কুমিরদের প্রতি মাসে এদের ২টন মাংস খাবার হিসেবে দেয়া হয়। বন্য অবস্থায় ১০/১২ বছর বয়সে এবং ফার্মে ৬/৭বছর বয়সের একটি স্ত্রী কুমির বছরে একবার (এপ্রিল-মে ) মাসে ৪০ থেকে ৫০ টি করে ডিম দেয়। ডিম ফুটতে সময় লাগে ৭০ থেকে ৮০ দিন। এখানে কৃত্রিম উপায়ে ডিম ফোটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে খামারে ৪০টি পুকুর ও ১০টি হ্যাচারী রয়েছে। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার সারওয়াত কুমির ফার্ম থেকে দেড় কোটি টাকা দিয়ে আরো ৪০টি ব্রিডার কুমির ক্রয় করে আনা হয়েছে। সবমিলেয়ে বর্তমানে এ খামারে ৬০টি মা কুমির রয়েছে। এছাড়া এ খামারে নিজস্ব উৎপাদিত ছোট বড় মিলে প্রায় ২ হাজার কুমির রয়েছে। যেগুলির দৈর্ঘ্য তিন ফুট থেকে সাড়ে ছয় ফুট পর্যন্ত লম্বা।
কুমিরের মাংস রফতানি করবে বাংলাদেশকুমিরের কোন কিছুই “ফেলনা নয়” বলে চামড়া, মাংস, দাঁত, ও হাড় বিপণন করা যায়। চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউগিনি ও থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যমানের কুমিরের মাংসের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকক, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও চীনসহ অর্ধশত দেশে কুমিরের চাষ হচ্ছে।
রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার ডা. আবু সাইম মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ২০০৪ সালে এটি দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে কুমিরের প্রজনন শুরু করে। ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে তারা কুমিরের চামড়া রফতানি শুরু করে। এখন পর্যন্ত মূলত জাপানে ২০১৪ সালে ৪৩০ ও ২০১৫ সালে ৪০০ পিস চামড়া রফতানি হয়েছে। এর পরিমাণ বাড়িয়ে বছরে দুই হাজার করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাশাপশি খুব শিগগিরই   মাংস রফতানির চিন্তা-ভাবনা চলছে।
তিনি আরো জানান, শুরুতে খামারে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে দেয়া হলেও এখন প্রজনন এর স্বার্থে কোন দর্শনার্থী প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। –

পাঠকের মতামত

‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার রাজি থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়ার কারণ খুঁজতে হবে’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ...