প্রকাশিত: ১১/০৪/২০১৮ ১০:১০ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৪:১৯ এএম
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

উখিয়া নিউজ ডেস্ক : কক্সবাজার থেকে ইয়াবা পাচারের নিরাপদ বাহনে পরিণত হয়েছে লোকাল পরিবহন! আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নজরদারি এড়াতেই বিলাসবহুল ও গেইটলক গাড়িগুলো পরিহার করে এখন ইয়াবা পাচার চক্রের সদস্যরা লোকাল পরিবহনগুলোকে ব্যবহার করছে। লোকাল পরিবহনে ইয়াবা পাচারের সময় কয়েকটি চালান আটক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রো মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক তপন শর্মা।

তিনি ইয়াবা পাচার চক্রের নতুন এ কৌশল সম্পর্কে বলেন, ‘কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে সরাসরি আসা পরিবহনগুলোতে যেভাবে নজরদারি থাকে, ঠিক সেভাবে লোকাল পরিবহনগুলোতে থাকত না। এ সুযোগটা কাজে লাগাতেই মাদক ব্যবসায়ীরা লোকাল পরিবহনগুলোতে ইয়াবা পাচার করছে। বিষয়টি নজরে আসার পর লোকাল পরিবহনগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেক সময় ইয়াবা চালানের সঙ্গে ফলোয়ার সোর্স থাকে। বার বার গাড়ি পরিবর্তনের ফলে ইয়াবা পাচার চক্রের সদস্যকে ঠিকভাবে ফলো করা যায় না। হয় তো এ চিন্তা থেকেই লোকাল পরিবহন করছে পাচারকারীরা।’

কয়েক দিন আগে চট্টগ্রাম মেট্রো মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেফতার হন রেজাউল করিম নামে ইয়াবা পাচার চক্রের এক হোতা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লোকাল পরিবহনে ইয়াবা পাচারের বিষয়ে তিনি দেন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল করিম জানান,  পটিয়া থেকে নগরীর শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত প্রশাসনের কমপক্ষে চারটি চেকপোস্ট রয়েছে। কক্সবাজার থেকে সরাসরি আসা প্রায় সব গাড়িতে তল্লাশি চালায় প্রশাসন। যা অটোরিকশা কিংবা লোকাল বাসের ক্ষেত্রে করে না। তাই প্রশাসনকে ধোঁকা দিতেই নতুন কৌশলে লোকাল পরিবহনে করে ইয়াবা আনা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে সড়ক পথে ইয়াবা পাচারের জন্য বিলাসবহুল কিংবা সরাসরি গাড়িগুলো ব্যবহার করে আসছিল মাদক চক্রের সদস্যরা। পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশিতে পড়তে হয়। তাই নতুন কৌশল হিসেবে এখন লোকাল বাস ও সিএনজি ট্যাক্সিতে করেই ইয়াবা পরিবহন করছে পাচারকারীরা। তবে এখনো ইয়াবা পাচারের ক্ষেত্রে সরাসরি বাসে করে চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকায় যায়।

তবে কিছু কিছু পাচারকারী কক্সবাজার থেকে বাসে উঠলেও পথে চকরিয়া, কেরানীহাট, দোহাজারী, পটিয়া কিংবা চন্দনাইশ এলাকায় নেমে পড়ে। ওই খান থেকে পরে লোকাল বাস কিংবা অটোরিকশায় ইয়াবা নিয়ে নগরীতে প্রবেশ করে।

গত ৩০ মার্চ নগরী থেকে ৯ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয় একই পরিবারের তিন সদস্যকে। গ্রেফতারের পর তারা জানান, কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে একটি বিলাসবহুল গাড়িতে ওঠে। পরে কৌশল হিসেবে তারা দোহাজারী নেমে পড়েন। এরপর তারা লোকল বাসে নগরীতে আসেন। নগরীতে প্রবেশের পরই তাদের গ্রেফতার করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

২৩ মার্চ নগরীর শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে ৪ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা রেজাউল করিম, মো. আরমান ও রফিকুল ইসলামকে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, কক্সবাজারের ৬ নম্বর ফিশারিঘাট থেকে তারা ইয়াবা সংগ্রহের পর বোটে মহেশখালী যায়। সেখান থেকে লোকাল অটোরিকশায় পেকুয়ায় আসে। পেকুয়া থেকে লোকাল সিএনজি অটোরিকশায় নগরীর শাহ আমানত সেতু এলাকায় আসে।

ওখানেই তাদের গ্রেফতার করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। একই পদ্ধতিতে ইয়াবা পাচারের সময় গত ৩১ মার্চ অলঙ্কার মোড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় অরুণ দে এবং মীর আহমেদ নামে দুই ব্যক্তিকে।

পাঠকের মতামত

ইনানীতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

অবশেষে কক্সবাজারে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং অত্যাধুনিক ফায়ার স্টেশন। অর্থনৈতিক এবং ...