স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটির উপর নির্যাতনের অভিযোগ
এমপির কাছে হোস্ট কমিউনিটির অভিযোগ, ক্যাম্প ইনচার্জ প্রত্যাহারের দাবি

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং এলাকার স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটির উপর নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ তুলে এক ক্যাম্প ইনচার্জের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন স্থানীয়রা।
রোববার (৫ জুন) কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্যের বরাবর দেওয়া ওই আবেদনে স্থানীয় জনগণের পক্ষে স্বাক্ষর করেন নাজির হোসেন সর্দার।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটি নানা ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যেও স্থানীয় শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা বিভিন্ন এনজিও সংস্থায় চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি ক্যাম্প ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর মো. শরিফুল ইসলাম স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে দাবি করা হয়, চাকরির ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজন স্থানীয় কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয়দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হয়রানিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ, পুলিশি হয়রানি ও মামলা দেওয়ার হুমকির অভিযোগও তোলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, “রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আমরা মানবিক দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু স্থানীয় জনগণের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হোক।”
মুক্তার আহমদ বলেন, “হোস্ট কমিউনিটি ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় জনগণের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকায় বিরাজমান অসন্তোষ দূর হবে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় উত্তেজনা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত অভিযুক্ত ক্যাম্প ইনচার্জকে প্রত্যাহার করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।


পাঠকের মতামত