প্রকাশিত: ০৬/০৫/২০১৭ ৭:৪৯ এএম , আপডেট: ০৬/০৫/২০১৭ ৯:০৪ এএম

উখিয়া নিউজ ডটকম ::
কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের অভিজ্ঞ সাবেক পাল্লামেন্টারিয়ান শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। গনমানুষের ১৯ দফা মৌলিক অধিকার নিয়ে শহীদ জিয়ার হাতে গড়া বিএনপি হচ্ছে গণতন্ত্র মূখী রাজনৈতিক দল। গণতন্ত্র ও ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি বিশ্বাসী। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরে রেখেছে। দলীয় সরকারের অধিনে অবাধ, নিরপক্ষ, সুষ্ট নির্বাচন কখনো সম্ভব না। তার প্রমাণ আওয়ামীলীগ আমলে যত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল, প্রকাশ্য ব্যালেট পেপারে সিল, ফলাফল পাল্টানোসহ নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যমে ছবি সহ সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এর পরও বিএনপি নির্বাচন মূখী দল হিসাবে একটি সহায়ক সরকারের অধিনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দলের চেয়ার পার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের কাছে দাবী দিয়েছেন।

গতকাল বুধবার দুপুরে উখিয়া বিএনপি অফিস কার্যালয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল উখিয়া নিউজ ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী দেশের চলমান রাজনৈতিক, সময় সাময়িক সংকট উত্তরন ও বিভিন্ন উন্নয়নের নামে লুটপাটের কথা তুলে ধরেন।

১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় শাহজাহান চৌধুরী ২৮ বছর বয়সে রামু-উখিয়া-টেকনাফ নির্বাচনীয় এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময়ে তিনি ছিলেন, সর্বকনিষ্ট সংসদ সদস্য। তৎ সময়ের রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান শাহজাহান চৌধুরীকে হুইপ মনোনীত করেন। এছাড়াও ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত জাতীয় সংসদ সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসাবে শাহজাহান চৌধুরীর অমায়িক ব্যবহার, শান্তশিষ্ট, ন্যায় পরায়ন ও দেশ প্রেমিক হিসাবে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা এখনো অটুট রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে উখিয়া ডিগ্রী কলেজ ও ১৯৯৪ সালে টেকনাফ ডিগ্রী কলেজ সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিনি প্রতিষ্ঠিতা করেছেন। বাঁশের খুঁটি দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন, টেলিফোন সংযোগ আমার আমলেই হয়েছে।

আজকের স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ এ মহা পরিকল্পনা বিএনপির আমলেই নেওয়া হয়েছিল। শাহজাহান চৌধুরী প্রসঙ্গক্রমে বলেন, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী কর্নেল (অব) অলি আহমদ ১৯৯১ সালে রেজুল ব্রীজ উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে এ সড়কের যাত্রা শুরু করে। মেরিন ড্রাইভ সড়কের গুরুত্ব তুলে ধরে আমি জাতীয় সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রেখে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। পরবর্তীতে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী পুনরায় স্বস্ত্রীক সফরে এসে পরিদর্শন করে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন।

২০০১ সালে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসলে আমি টেকনাফ স্থলবন্দর স্থাপন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করি। তখন চোরা চালানের স্বর্গরাজ্য ছিল। চোরা চালানকে নিরুসাহিত ও বৈধ ব্যবসার মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়াতে ২০০৩ সালে টেকনাফ স্থলবন্দর চালু করা হয়। বর্তমানে এর সুফল রাষ্ট্র ভোগ করছে। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক ২০০৫ সালে ঘুমধুম সীমান্ত পয়েন্টে দু’দেশের যোগাযোগ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে ভিত্তিপ্রস্থর উদ্বোধন সহ কাজ শুরু করা হয়।

জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষমতায় থেকে যে উন্নয়নের কথা বলছে তার চেয়ে বেশী উন্নয়ন হয়েছে আওয়ামীলীগের মন্ত্রী, সাংসদ ও নেতাকর্মীদের। শীর্ষ একটি জাতীয় দৈনিকের উদৃতি দিয়ে তিনি বলেন, দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিরোধী মতের নেতাকর্মীদেরকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গুম অথবা হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দিচ্ছে। ইয়াবা নামক মরন নেশা এখন রন্দ্রে রন্দ্রে। নিরহ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার কোন গ্যারান্টি নেই।

সরকারের অন্যায়, অত্যাচার, গুম, খুন, লুটপাট ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোথাও সভা সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। মত প্রকাশের কোন সুযোগ নেই। মনে হয় দেশ যেন এক নায়কতন্ত্র শাসন চলছে। যা বাঁকশালকেও হার মানিয়েছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে চাই বিএনপি। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার দলীয় নির্বাচনের নামে গণতন্ত্রকে খাঁচায় বন্দি করে রেখেছে। তিনি বলেন, কক্সবাজার ৪টি সংসদীয় আসন বিএনপির জন্য খুবই ভাল। আমরাও কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে চকরিয়া-পেকুয়া আসন থেকে সাবেক সাংসদ হাছিনা আহমদ, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসন থেকে সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ নির্বাচন করার সম্ভবনা রয়েছে। এছাড়াও এ আসন থেকে এটিএম নুুরুল বশর চৌধুরী, আবু বক্কর ও এডভোকেট নুরুল আলমকেও সম্ভাব্য তালিকায় রাখা হয়েছে। কক্সবাজার সদর আসনে লুৎফুর রহমান কাজল এবং উখিয়া-টেকনাফ আসনে শাহজাহান চৌধুরী (আমি) নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। তবে সব আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীতার উপর বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন চুড়ান্ত করবে কেন্দ্রীয় কমিটি।

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা দেশটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের দখল নিয়েছে। মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তা’আং ...

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতির দাবি

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতিসহ বিভিন্ন দাবিতে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমকে স্মারকলিপি দিয়েছেন ...