প্রকাশিত: ১৬/০৫/২০১৭ ৮:৫০ এএম , আপডেট: ১৬/০৫/২০১৭ ৯:৩৩ এএম
ইয়াবা ব্যাবসায়ী জিয়াবুল

উখিয়া নিউজ ডটকম::
বেশভূষায় সাহেব,চলনেবলনে আভিজাত্যের ছোয়া,দেখলে মনে হবে কোন অফিসার। অথচ সে মিয়ানমার থেকে অনুপ্রশের করে আসা রোহিঙ্গা। এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন ইয়াবা গড়ফাদার হিসেবে। উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত কুতুপালং এলাকাসহ আশেপাশের এলাকায় দাপিয়ে বেড়ানো এ ইয়াবা গডফাদারের নাম জিয়াবুল হক। তার বিরুদ্ধে ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়িতে মামলা হয়েছে। কিন্ত পুলিশি গ্রেফতার এড়িয়েই সে করে যাচ্ছে ইয়াবা বানিজ্য।
ঘুমধুম ফাঁড়ি সুত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মিয়ানমারের তুমব্রু এলাকার নাগরিক নুরুল ইসলামের দেহ তল্লাশি করে ইয়াবা উদ্ধার করে। এ সময় আটক মিয়ানমার নাগরিক নুরুল ইসলামের কাছ থেকে জানা যায়,উদ্ধারকৃত ইয়াবা গুলো উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে অবস্থানকারী জিয়াবুল হকের। সে কুতুপালং বাজারে দ্ধিতল একটি বিল্ডিংয়ের উপর তলায় ভাড়া নিয়ে এ কর্মকান্ড করে যাচ্ছে। তার স্ত্রী হালিমা রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের রোহিঙ্গা হলেও থাকেন ভাড়া বাসায়। যার এমআরসি নং- ২০৩৫২, ব্লক- ডি, শেড নং- ১৯, রুম নং- ৪/৫। জিয়াবুলের প্রকৃত পিতার নাম শামশুল আলম। অথচ এখানেও সে প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছে। পিতার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে আসছে ভিন্ন ভিন্ন একাধিক নাম যার মধ্যে মোঃ হাকিম,আবদুল হাকিম, বলাইয়া, বলা সহ একাধিক ছন্দ নাম। রেজিষ্ট্রার্ড রোহিঙ্গা শিবিরে রেশন বোর্ডে পিতার নাম লিপিবদ্ধ করেছে দিল মোহাম্মদ, মাতার নাম নুর আয়েশা। আশ্বর্য জনক হলেও সত্য কখনো চেহেরায় দাড়ি,কখনো দাড়ি ছাড়া। চলেন প্রাইভেট গাড়ীতে। ম্যানেজ করে রেখেছেন সরকারদলীয় কতিপয় নেতাসহ এলাকার সন্ত্রাসীদের। স্থানীয় দু,একজন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথেও তার দহরম মহরম সম্পর্ক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডু থানার ঢেকিবনিয়া ইউনিয়নের তুমব্রু রাইম্যাখালী খালকাটা প্রজেক্ট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা জিয়াবুল হক। তার বাবা মোঃ হাকিম ওরফে শামসুল আলম প্রকাশ বলা। জিয়াবুল কিশোর বয়সে পাড়ি জমায় বাংলাদেশে। উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের লেদা -মুুছনী রোহিঙ্গা শিবিরে রয়েছে জিয়াবুলের একাধিক আত্মীয়-স্বজন। এদেশে বসবাস করা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে না ফেরার পক্ষে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী তৎপরতার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে জিয়াবুলের বিরুদ্ধে। বহির্বিশ্বে বসবাস করা রোহিঙ্গা ও সাবেক আরএসওর সমর্থিত এনজিওদের নিকট থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে মাঝ পথে মালয়েশিয়া সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমায় জিযাবুল। বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ পাড়ি দেওয়া জিয়াবুল এক সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে বাংলাদেশে পাঠাতো জিয়াবুল। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে সে দেশে চলে আসে। রোহিঙ্গাদের নামে সঙগ্রহ করা বিপুল পরিমান অর্থ দিয়েই সে শুরু করে ইয়াবা বানিজ্য। মিয়ানমারের নাগরিক হওয়ার মিয়ানমার থেকে ইয়াবার জোগান পেতে তার তেমন সমস্যা হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যে হয়ে উঠে কুতুপালং এলাকার ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রন। এ জন্য সে এলকার প্রভাবশালী লোকজনের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে। ইয়াবা বানিজ্য চালিয় যেতে ব্যবহার করছে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের। ইতিপূর্বে জিয়াবুল মোটা দাগের ইয়াবার চালান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও প্রভাবশালী চক্রের তদবিরে মোটা টাকার বিনিময়ে নোহাসহ ছাড়া পায় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সম্প্রতি ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে জিয়াবুল সিন্ডিকেটের সদস্য নুরুল ইসলাম কে আটক করে। এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলা নং -০৫ /১৭ ,তারিখ -২৫ /০৪ /২০১৭ ইংরেজী। ধারা ১৯৯০ইং সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ (১)এর ৯ (খ) তৎসহ বৈদেশিক নাগরিক আইনের ১৪ ধারা। এতে আসামী করা হয় জিয়াবুল হক কে। ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ এরশাদ উল্লাহ জানান,জিয়াবুল দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোঁখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবা পাচারে জড়িয়ে ছিল। তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

৩ পর্বের  ধারাবাহিক রিপোর্টে আজ পড়ুন প্রথম পর্ব

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা দেশটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের দখল নিয়েছে। মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তা’আং ...

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতির দাবি

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতিসহ বিভিন্ন দাবিতে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমকে স্মারকলিপি দিয়েছেন ...