উখিয়া নিউজ ডটকম
প্রকাশিত: ২৮/০৩/২০২৬ ৯:০৯ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবার আগ্রাসন দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচ্ছিন্ন অভিযানে কিছু চালান আটক হলেও মূল সিন্ডিকেট বহাল তবিয়তে থেকে পুরো ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে, এমন অভিযোগ এখন প্রকাশ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাচারকারীরা এখন পুরোনো রুট এড়িয়ে নতুন কৌশলে ইয়াবা দেশে ঢুকাচ্ছে। উখিয়ার বালুখালী, বাইশফাঁড়ি, রত্নাপালং, হলদিয়াপালং, পাতাবাড়িসহ দুর্গম পাহাড়ি সড়ক এবং টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন, লেদা, রঙ্গিখালী থেকে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু পর্যন্ত বিস্তৃত অন্তত ৩০-৩৫টি পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত ইয়াবা প্রবেশ করছে। স্থলপথের পাশাপাশি সাগরপথেও ট্রলার ও পণ্যবাহী যান ব্যবহার করে চালান আনা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকাগুলোকে ‘সেফ জোন’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে মজুত রেখে সুবিধামতো সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে মাদকের চালান। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি নজরদারিতে রেখে পরিকল্পিতভাবে চালান ছাড়ার তথ্যও মিলেছে। স্থানীয়দের দাবি, বড় ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সিন্ডিকেটগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আড়ালে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছে। গত কয়েক বছরে অস্বাভাবিকভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া কিছু ব্যক্তিকে ঘিরে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জোর দাবি উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মান্নানের একটি ফেসবুক পোস্ট নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সেখানে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, মাফিয়া ডন ও মাদককারবারিরা এখন দলে প্রভাব বিস্তার করছে। ত্যাগী নেতাকর্মীরা উপেক্ষিত হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে মাদক সিন্ডিকেটের প্রভাবেই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় যে শক্তিশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট সক্রিয়, তার পেছনে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে এবার একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দেয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর শাহেদুল ইসলাম রোমান চৌধুরী বলেন, সীমান্তে শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয়দের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলবে। উল্লেখ্য, ঈদের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাদকের বিরুদ্ধে শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন সীমান্ত জুড়ে যখন ইয়াবার আগ্রাসন প্রকাশ্য, তখন কার্যকর অভিযান শুরু হবে কবে। সচেতন মহলের মতে, প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় না আনলে এবং সিন্ডিকেটের মূলহোতাদের ধরতে না পারলে সীমান্তের এই মাদক বাণিজ্য বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব।

পাঠকের মতামত

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...