হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া নিউজ ডটকম
প্রকাশিত: ৩০/১১/২০২৫ ৭:৫০ পিএম , আপডেট: ৩০/১১/২০২৫ ৮:০২ পিএম

উখিয়ার পাঁচ ইউনিয়নে এক অদ্ভুত বাস্তবতা দাঁড়িয়ে গেছে—কেউ মামলার ভয়ে পলাতক, কেউ আবার পরিষদে আসেন কি না সেই খবরও ঠিকমতো মেলে না। অথচ একই সময় কিছু সদস্য দিব্যি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ফলে সাধারণ মানুষ বুঝে উঠতে পারছে না, আসলে ইউনিয়নের কাজ থমকে আছে, নাকি চলছে অদৃশ্য কোনো সমীকরণে। মাঠে অভিযোগ আছে, পরিষদের কার্যক্রমে নিয়মিত অনুপস্থিতি এখন নিত্যদিনের চিত্র।

উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়নের ভুক্তভোগী শাহ কামাল ও মোস্তফা বেগম সরাসরি বললেন, মেম্বার নেই—এটাই তাদের দুর্ভোগের মূল। জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে সামাজিক বিরোধ মীমাংসা, সব কাজেই পড়তে হচ্ছে জটিলতায়। তাদের ভাষায়, “আমাদের ওয়ার্ডে তো প্রতিনিধিই নেই। দরকারে গেলে কাউকে পাওয়া যায় না।”
পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী খোলাসা করে জানালেন, তার ইউনিয়নে মোট ১২ জন ইউপি সদস্যের মধ্যে ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফজল কাদের ভুট্টো পলাতক। আরও ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় কেউ কেউ লুকিয়ে চলাফেরা করছেন।  পলাতক থাকলেও পরিষদের দৈনন্দিন কার্যক্রম  চালানো হচ্ছে। তার কথায় পরিষ্কার, অনিশ্চয়তার মধ্যেও ন্যূনতম প্রশাসনিক কাঠামো টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেন মিথুন পুরো ঘটনাকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তার দাবি, রত্না পালং ইউনিয়নের মতো জায়গায় চেয়ারম্যান ও দলীয় দায়িত্বশীলরা মাঠে থাকলে মানুষের কাজ আটকে থাকার কথা নয়। আবার একই সঙ্গে তিনি বলেন, “পলাতকরা আমরা নিরপরাধ—এ কথাটাও মনে রাখা দরকার।” বক্তব্যে ইঙ্গিত আছে, মামলার ঝুঁকি না থাকলে পরিস্থিতি হয়তো অন্যরকম হতো।

সবচেয়ে জটিল অবস্থা দেখা গেছে উখিয়া সদর রাজাপালং ইউনিয়নে। চেয়ারম্যান মীর সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী রোমান জানালেন, বিশাল এই ইউনিয়নে ৪৮ হাজার ভোটার। তার মতে, এত বড় জনসংখ্যাকে সেবা দিতে হলে অন্তত তিনটি ইউনিয়নে ভাগ করা দরকার। তিনি জানান, তার ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সালাহ উদ্দিন পলাতক। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সরওয়ার কামালের উপস্থিতি-অনুপস্থিতি বোঝা দায়। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুর রহিম মাঝেমধ্যে আসেন। নিয়মিত দেখা যায় শুধু সৈয়দ হামজাকে। বাকিরা না থাকায় তাকে নানাভাবে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তবু তিনি বললেন, দেরি হলেও কাজ থেমে নেই। মানুষের জন্য সেবা দিতে দিন-রাতই মাঠে থাকতে হচ্ছে। প্রশাসনিক সংকট, মামলা-আতঙ্ক আর রাজনৈতিক টানাপড়েনে স্থানীয় সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রম যখন ব্যাহত, তখন চেয়ারম্যানদের ওপর চাপটা আরও বেড়ে গেছে।

উখিয়ার মানুষ এখন জানতে চায়—পলাতক সদস্যদের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির নেপথ্যে আসলে কী? রাজনৈতিক চাপ, নাকি মামলার ভয়? নাকি আরও কোনো অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে?

যা-ই হোক, স্থানীয়দের প্রত্যাশা খুব পরিষ্কার—তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ফিরে আসুক দায়িত্বে। ইউনিয়ন পরিষদ হোক স্বাভাবিক, সেবা হোক সহজ, আর অনিশ্চয়তার এই ধোঁয়াশা কাটুক যত দ্রুত সম্ভব।

পাঠকের মতামত

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...