প্রকাশিত: ২৪/০৫/২০১৭ ৭:৩০ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৫:৪১ পিএম

শফিক আজাদ,উখিয়া নিউজ ডটকম::
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার কক্সবাজারের জনসভায় ইয়াবা ও মাদক কারবারীদের কঠোর হুশিয়ারীর পরও সর্বত্র মরন নেশা ইয়াবার বিস্তার আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ইয়াবা পাচারের মাধ্যমে প্রতিদিন সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে বিভিন্ন সংস্থার প্ররিত তালিকা ও এর কার্যকারিতা নিয়ে সচেতন লোকজন হতাশ হলেও সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আশার আলো দেখছে তারা। যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনার পরের দিন চট্টগ্রাম পুলিশের ডিআইজি টেকনাফ ও উখিয়া ঘুরে গেছেন এরপর আজ বুধবার বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক(আইজিপি) এ.কে.এম শহিদুল হক ১দিনের সফরে টেকনাফ আসছেন। আইজিপি’র আকষ্মিক এই সফরকে ঘিরে শুরু হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে নানান কৌতুহল। অনেকে বলছেন আইজিপির আগমনে ইয়াবা কারবারীদর মাঝে দেখা দিয়েছে এক অজানা আতংক। কারণ তাদের ধারণা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনার পর এবার কোন বার্তা নিয়ে পুলিশের মহাপরিচালক আসছেন। যদিও পুলিশের পক্ষ কোন প্রকার মুখ খুলছেন এখনো। কিন্তু আইজিপি টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

জানা গেছে, ইয়াবা স্বর্গরাজ্য ও পাচারের ঘাট টেকনাফ এবং উখিয়ার চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি ও তাদের সাথে সখ্যতা স্থাপনকারী আইনশৃংখলা বাহিনীর কতিপয় দুর্নীতিবাজ অফিসারগণ চরম আতংকে রয়েছেন। এ মুহুর্তে আইজিপির কাছে সকল গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে করা সর্বশেষ তালিকাভুক্ত ১২২৫ ইয়াবা কারবারিদের ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারীসহ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হাতে রয়েছেন।

সম্প্রতি অনলাইন বিডি মর্নিংয়ে প্রকাশিত রির্পোটে দেখা যায়, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় ২০১২ সালে প্রথম ইয়াবা কারবারির তালিকা প্রনয়ন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। সে তালিকা হালনাগাদ করা হয় ২০১৩ সালে। ২০১২ সালের ৫৫৪জন ইয়াবা কারবারির স্থলে ১ বছরের ব্যবধানে ২০১৩ সালে ইয়াবা কারবারি ২১০জন বেড়ে দাড়ায় ৭৬৪ জনে। সম্প্রতি দেশ জুড়ে ইয়াবা পাচার ও সেবন আশংখ্যাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সংগৃহীত তালিকা সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানা গেছে। হালনাগাদকৃত সমন্বিত এ তালিকা অনুসারে সারা দেশে ইয়াবা পাচারকারীর সংখ্যা ২০১২ সালের ৫৫৪জন থেকে বেড়ে হয়েছে বর্তমানে ১২২৫জন। প্রতিদিন ইয়াবা কারবারির সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি সেবনকারীর সংখ্যাও বাড়ছে আশংখ্যাজনক হারে। প্রণীত ইয়াবা ব্যবসায়ী বা পাচারকারীদের তালিকায় নাম ঠিকানাসহ সব তথ্য ইতিমধ্যে পৌছেছেন আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর হাতে।

টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজারে ইয়াবা কারবারি তালিকার শীর্ষে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার অনেক প্রভাবশালীর নাম থাকায় স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপারটি এক প্রকার এড়িয়ে চলেন। পক্ষান্তরে এক শ্রেনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তারা এসবের পরোক্ত ও প্রত্যক্ষ ফায়দা লুঠছে বলে সচেতন মহলের অভিযোগ। এছাড়া ও সোমবার দৈনিক সমকালের একটি রিপোর্টে দেখা গেছে,উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অন্তত ১৫ পুলিশ সদস্যের নামও রয়েছে। এর মধ্যে এসআই আলমগীর, সরোজ আচার্য, এএসআই আযহার ও আমিরুল রয়েছেন। তারা এরই মধ্যে বদলি হয়ে গেলেও বাকীরা এখনো বহাল রয়েছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন। আইজিপির এই সফরে এই সব পুলিশ অফিসারদের ব্যাপারে থাকতে পারে কঠোর বার্তা, এমনটি মত প্রকাশ করেন আইনশৃংখলা বাহিনীর লোকজন।

রামু,উখিয়া ও টেকনাফ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাই লাই মারমা বলেন, পুলিশ সর্বদা মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের প্রনীত তালিকা তিনি এখনো পাননি তবে এ ব্যাপারে গোয়েন্দারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

(ছবি আছে)

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা দেশটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের দখল নিয়েছে। মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তা’আং ...

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতির দাবি

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতিসহ বিভিন্ন দাবিতে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমকে স্মারকলিপি দিয়েছেন ...