প্রকাশিত: ২১/০৫/২০১৭ ৭:৩৮ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৫:৫২ পিএম

এম নুরুল ইসলাম, আনোয়ারা ।।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় এলাকা রায়পুর থেকে ২ লাখ ইয়াবাসহ আবদুর রহিম (৪৩) নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার ভোরে উঠান মাঝিরঘাট থেকে ইয়াবাসহ রহিমকে আটক করা হয়। রহিম সংঘবদ্ধ ইয়াবা পাচার চক্রে ‘মিডলম্যান’ হিসাবে কাজ করত বলে পুলিশকে জানিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত রহিমের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইয়াবা কারবারের নেপথ্যে উঠে এসেছে আনোয়ারার সাবেক বর্তমান কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও রেয়াজুদ্দিন বাজারকেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেটের ৩০ ব্যবসায়ীর নাম। তবে আইনি বাধ্যবাধকতায় পুলিশ এখনই তাদের নাম জনসম্মুখে আনছে না। পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবার বড় বড় চালানগুলোর নেপথ্যে রেয়াজুদ্দিন বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের অর্থলগ্নী রয়েছে। তার চেয়েও ভয়ংকর তথ্য হলো, নিরাপদে এসব ইয়াবা চালান আনতে আনোয়ারার সাবেক ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বাদের শক্তিশালী একটি চক্র জড়িত। আনোয়ারা থেকে গ্রেফতার হওয়া আবদুর রহিমসহ গত ১০ দিনে মাদক বিরোধী অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া ১৩ জনের কাছ থেকে পুলিশ এ ব্যাপারে জানতে পেরেছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন , আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে এখনই জড়িত জনপ্রতিনিধিদের নাম জনসমক্ষে আনছি না। তারা সবাই ইউনিয়ন পর্যায়ের চেয়ারম্যান-মেম্বার। কেউ কেউ বর্তমান, কেউবা সাবেক জনপ্রতিনিধি। আমরা চাইছি গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী থেকে তাদের নাম বেরিয়ে আসুক অথবা হাতেনাতে ইয়াবাসহ তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আনোয়ারা থানা সূত্র জানায়, শনিবার ভোরে মাঝির ঘাট এলাকায় বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশ থেকে আবদুর রহিমকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ২ লাখ ইয়াবা পাওয়া যায়। আটক রহিম স্থানীয় ইসলাম আহমদের ছেলে। রহিমের বড় ভাই সেলিমও একজন শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ বলেন, উদ্ধারকৃত ইয়াবার মূল্য আনুমানিক ছয় কোটি টাকা। এ বিষয়ে থানায় মামলা হবে।

জানা যায়, রহিম স্থানীয় উঠান মাঝির ঘাট এলাকায় বেড়িবাঁধের উপর মুদির দোকান ও ফিশিং ব্যবসার আড়ালে তার ভাই সেলিমের ইয়াবা (মাদক) ব্যবসা পরিচালনা করতেন। আটক রহিমের ভাই সেলিম শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী র‌্যাবের হাতে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া মোজাহের, আইন শৃংখলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা আবুল ফয়েজ, নূর ছৈয়দসহ তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে মিডলম্যান হিসাবে কাজ করত। পুলিশ জানায়, তিনটি ধাপে এসব ইয়াবা চালান খালাস হতো। মাঝিমাল্লারা ফিশিং ট্রলারে করে ইয়াবা চালান এনে পারকি কেন্দ্রিক মিডলম্যানদের হাতে তুলে দিত। আনোয়ারার পারকি, রায়পুর, গহিরাসহ উপকূলীয় এলাকায় রয়েছে এরকম কয়েকটি মিডলম্যান সিন্ডিকেট। উপকূলের কাছাকাছি আনার পর শুরু হয় দরদাম। যারা বেশি দাম দেয় মাঝি-মাল্লারা তাদের কাছে তুলে দেয় ইয়াবা চালান।

এসব মিডলম্যানদের ইয়াবা কেনার টাকা যোগান দেয় রেয়াজুদ্দিন বাজার ও নিউ মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী। শনিবার আটক হওয়া দুই লাখ ইয়াবা চালানের টাকাও রেয়াজুদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দিয়েছে বলে জানায় পুলিশ। তারা হুন্ডির মাধ্যমে মিয়ানমারে এসব টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করে। রেয়াজুদ্দিন বাজার ও নিউ মার্কেটের এরকম ৩০ ব্যবসায়ীর একটি তালিকা পেয়েছে পুলিশ। আনোয়ারা কেন্দ্রিক মিডলম্যানেরা শহরে ইয়াবা চালান নিয়ে আসার পর হুন্ডির মাধ্যমে ইয়াবার টাকা পরিশোধ করা হয়। মিডলম্যান সিন্ডিকেটে রয়েছে কয়েকজন জনপ্রতিনিধিও।

এদিকে গতকাল শনিবার বেলা দেড়টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনার তাঁর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তিনি আটক রহিমকে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে উপস্থিত করেন এবং ঘটনার বর্ণনা দেন।

সূত্রে আরো জানা যায়, আইন-শৃংখলা বাহিনী তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী কিংবা পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করলে এক শ্রেণীর জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার তদবিরে থানা পুলিশ অতিষ্ঠ। তবে ভূমি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির কঠোর অবস্থানে মাদক নির্মূলে বেশ গতি ও সাফল্য আসছে বলে পুলিশ জানায়।

স্থানীয় গহিরা বার-আউলিয়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি মৌলানা জালাল উদ্দিন আনোয়ারী আজাদীকে জানান, ইয়াবা কারবারে জড়িত সিন্ডিকেট ও জনপ্রতিনিধিদের এলাকাবাসী চিনলেও তারা পর্দার আড়ালে রয়ে গেছে। বর্তমানে রায়পুর গহিরায় ইয়াবা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘরে ঘরে এখন ইয়াবার কারবার চলে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ জানায়, আনোয়ারা থানায় যোগদানের পর থেকে গত এক বছরের কম সময়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির দিক নির্দেশনায় ইয়াবা ও মাদক নির্মূলে পুলিশ বেশ সফলতা পেয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশের অভিযানে আনোয়ারার বেশ কয়েকজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। গতকাল পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬ কোটি টাকা মূল্যের ২ লাখ পিচ ইয়াবাসহ ১ ব্যক্তি আটকের ঘটনাও পুলিশের একটি বড় সাফল্য। আটক আবদুর রহিমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী সহায়তা করলে শিগগিরই আরো কিছু ভালো খবর পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা দেশটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের দখল নিয়েছে। মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তা’আং ...

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতির দাবি

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতিসহ বিভিন্ন দাবিতে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমকে স্মারকলিপি দিয়েছেন ...