ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ০৩/১০/২০২৬ ১০:২৫ এএম

বাজারে এলপিজির কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই। আমদানির পরিমাণও স্বাভাবিক। তা সত্ত্বেও দেশজুড়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বেঁধে দেওয়া ১ হাজার ৫৮৫ টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

বাড়তি মুনাফার লোভে শীর্ষ পাঁচটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কার্গো খালাসে বিলম্ব করে বাজারে এই নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) একটি অংশের অভিযোগ, এলপিজি কার্গো খালাসে ইচ্ছাকৃত বিলম্বের কারণে বাজারে এই সংকট দেখা দিয়েছে।

Google News গুগল নিউজে প্রতিদিনের বাংলাদেশ”র খবর পড়তে ফলো করুন

এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং শীর্ষ আমদানিকারকদের মজুদ পরিস্থিতি ও কার্গো খালাসের তথ্য তদন্ত করতে সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগে একটি লিখিত চিঠি দিয়েছে সংগঠনটির একাংশ।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিইআরসি থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সরবরাহ সংকটের কারণে তা দেড়গুণ দামে কিনতে হচ্ছে গ্রাহককে। সামাজিক মাধ্যমে প্রতিনিয়ত এ বিষয়ে তারা ক্ষোভ ঝাড়ছেন।

এমনকি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ফোন করেও সংকটের কথা জানাচ্ছেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারও নড়েচড়ে বসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠকের পর মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দামে না মিললেই বলছে ‘সিলিন্ডার নেই’

রাজধানীর অধিকাংশ জায়গায় অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। শুধু ১২ কেজি নয়, ২২ কেজির সিলিন্ডারও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। খিলগাঁওয়ের ১১ নম্বর সড়কের নিব্রাস ড্রিম ভবনের কেয়ারটেকার মোস্তফা মিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সব সময় ২২ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার টাকায় নেওয়া হতো। কয়েক দিন ধরে ৩ হাজার ৭০০ টাকা দিয়েও তা পাওয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার একাধিক দোকান ঘুরে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। দামে না মিললেই বিক্রেতারা বলছেন, সিলিন্ডার নেই।’

অভিযোগের তীর পাঁচ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে

কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে দাম বাড়ানোর সুযোগ পেতেই এলপিজি সরবরাহ আটকে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি কোম্পানির বিরুদ্ধে এলপিজি মজুদ করে এ সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারকে সতর্ক করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)।

গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে উঠে আসা প্রতিষ্ঠানগুলো হলোÑ আইগ্যাস, ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, বিএম এনার্জি ও যমুনা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২২ সেপ্টেম্বর বা তার কাছাকাছি সময় থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো এলপিজির সরবরাহ আটকে রেখেছে।

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এনএসআইয়ের প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ কারণে আমদানি, মজুদ ও বাজারে সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের। এ বিষয়ে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘এনবিআরের রিয়েল-টাইম ডেটা অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যা আগস্টের ১ লাখ ৫৭ হাজার টনের প্রায় সমান। ফলে সেপ্টেম্বরে বাজারে কোনো এলপিজি সংকট থাকার কথা নয়।’

তদন্ত চায় ব্যবসায়ীদের একাংশ

কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে এলপিজি ব্যবসায়ীদের সংগঠন লোয়াব। ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, এলপিজি কার্গো খালাসে ইচ্ছাকৃত বিলম্বের কারণেই বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং শীর্ষ আমদানিকারকদের মজুদ পরিস্থিতি তদন্ত করতে সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগে চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি। চিঠিতে তারা উল্লেখ করে, আমদানির তথ্য বিশ্লেষণে বাজারে এমন সংকট থাকার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে চিঠিটি দেওয়া হয়েছে।

অডিটের দাবি লোয়াবের

অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির প্রিমিয়াম টনপ্রতি প্রায় ৬৪ ডলার বেড়েছে। প্রিমিয়াম বাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে পণ্য আটকে রাখার এ ঘটনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, প্রিমিয়াম বাড়ার আগে আমদানি করা কার্গো মজুদ রেখে মূল্য সমন্বয়ের পর বিক্রি করা হলে আমদানিকারকরা বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা পেতে পারেন। এতে মূল বিতরণ শৃঙ্খলে সরবরাহের পরিমাণ কমে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে। পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এলপিজি মজুদের বিষয়ে আমদানিকারকভিত্তিক অডিটের দাবি জানিয়েছেন লোয়াব সদস্যরা। প্রতিটি কার্গো কখন এসেছে, কখন খালাস হয়েছে, কোথায় মজুদ রাখা হয়েছে, কী পরিমাণ পণ্য মজুদ আছে এবং কখন তা বাজারে ছাড়া হয়েছেÑ কর্তৃপক্ষকে সেসব তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

পাঠকের মতামত

জাতিসংঘে আলোচনা নয়, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তার তাগিদ

জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে সমাধান আসবে না, মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূতদের। ...

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে যৌথ বাহিনী নামানো হতে পারে

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনবে বলে প্রত্যাশা বাংলাদেশের। সম্প্রতি বিবিসি ওয়ার্ল্ড ...

গুতেরেসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যুতে জোর

জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ইস্যু, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং বৈশ্বিক শান্তি ও ...

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফারোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সময়োপযোগী প্রস্তাবনা : শাহজাহান চৌধুরী

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিপুল উপস্থিতির কারণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে জনজীবনে নানা ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ...